মাগুরানিউজ.কমঃ
‘জীর্ণ পুরাতন যাক ভেসে যাক, মুছে যাক গ্লানি…’ বিদায়ী সূর্যের সাথে এ প্রার্থনা জানাবে আজ বাঙালি। রাত পোহালেই নতুন দিন। পূর্বদিগন্ত উদ্ভাসিত করে ভোরের নরম আলো রাঙিয়ে দেবে চরাচর, স্বপ্ন, প্রত্যাশা। নব সম্ভাবনায় সূচিত হবে নববর্ষ।
বাংলা সনের সমাপনী মাস চৈত্রের এ শেষ দিনটি বাঙালির লৌকিক আচারের ‘চৈত্র সংক্রান্তি’। আজ ৩০ চৈত্র ১৪২১। বাংলা সনে বছরের শেষদিন। প্রকৃতির আকুল করা ফাগুন, চৈতালী হাওয়ায় উতল-উদাস করা যে বসন্ত তারও বিদায় আজ। বসন্ত মুখর হয়ে উঠেছিল তরুলতা, বিটপী আর বনস্পতিতে। এবারে ঋতুরাজ বসন্তের বড়ভাগ জুড়েই ছিল খরতাপ। তপ্ত দিনলিপিতে এবার বৃষ্টির শান্ত-শীতল পরশও জুটেছিল জনজীবনে। ঝড়-ঝঞ্ঝাও বাদ যায়নি।
সনাতনধর্মীদের কাছে চৈত্র সংক্রান্তি বিশেষ লোক উৎসব। নানা আচার-অনুষ্ঠান আর হালখাতার প্রস্তুতি নিতে এদিনকে বেছে নিয়েছেন তারা। চৈত্র সংক্রান্তি বাংলার লোক সংস্কৃতির এমন এক অনুষঙ্গ যা সর্বজনীন উৎসবের আমেজে বর্ণিল। দেশজুড়ে চলছে মেলা, উতৎসব। হালখাতার জন্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সাজানো, লাঠিখেলা, গান, আবৃত্তি, শোভাযাত্রাসহ নানা অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে উদ্যাপিত হয় সংক্রান্তি। এ দিনে বিদায় উৎসব পালন করে ব্যবসায়ী সম্প্রদায়। দোকানপাট ধুয়ে-মুছে বিগত বছরের যত সব জঞ্জাল বিদূরিত করা হয়। পরদিনই খোলা হবে ব্যবসায়িক হিসাব-নিকাশের নতুন খাতা। উৎসবের লোকায়ত নাম ‘হালখাতা’। সারা বছরের খরিদ্দারদের কাছে বকেয়া টাকা তুলতে বছরের এই দিনটিকে অন্তর্ভুক্ত করে নেয়ার রেওয়াজ বহু পুরনো।
সনাতন হিন্দু ধর্মীয় মতে, বাংলা মাসের শেষ দিনে শাস্ত্র ও লোকাচার অনুসারে স্নান, দান, ব্রত, উপবাস ক্রিয়াকর্মকে পুণ্যের কাজ বলে মনে করা হয়।
চৈত্র সংক্রান্তির উৎসবের ভিতর নতুন বছর ১৪২২-কে স্বাগত জানাতে এখন উন্মুখ বাঙালি। বৈশাখকে বরণ করার জন্য চলছে সাজগোজ আর ধোয়ামোছা। লাল মলাটের হালখাতা নিয়ে নতুন বছরের অপেক্ষায় ব্যবসায়ীরা। বাংলা নববর্ষকে বরণের জন্য রাজধানী ঢাকার অন্যতম প্রধান আয়োজন ছায়ানটের প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন। রমনা বটমূলে রোববার শেষ হয়েছে মঞ্চ নির্মাণ। শুরু হয়েছে মঞ্চ সাজানো। পহেলা বৈশাখের অন্যতম বড় আকর্ষণ হচ্ছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা শিক্ষার্থীদের আয়োজনে মঙ্গল শোভাযাত্রা।


