মাগুরানিউজ.কমঃ
বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলীয় জেলা, বাগেরহাটের মোল্লাহাটে একটি সার্কাসের হাতি শিকল ছিঁড়ে বেরিয়ে গিয়ে আশপাশের গ্রামগুলোর লোকজনের ওপর আক্রমণ চালালে তিনজন নিহত হয়েছেন।
স্থানীয়রা জানান, শনিবার ভোরে হাতিটি গোপালগঞ্জের গুনাপাড়া থেকে মোল্লাহাট উপজেলায় ঢুকে তিনটি গ্রামের ছয়টি বসতঘর গুঁড়িয়ে দেয়, এবং তিনজনকে হত্যা করে।
প্রায় আড়াই ঘন্টা চেষ্টার পর মাহুত ও গ্রামবাসীর সহযোগিতায় হাতিটিকে শান্ত করা হয়।
মোল্লারহাট থেকে স্থানীয় সাংবাদিক মফিজুর রহমান বিবিসি বাংলাকে জানিয়েছেন ফকিরহাটে একটা সার্কাস শেষ হওয়ার পর হাতিটিকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল গোপালগঞ্জের এক মেলায়।
যাবার পথে গুনাপাড়ায় হাতি সহ দলটি রাত্রিযাপন করে।
ভোররাতের দিকে হাতিটি হঠাৎ ওখান থেকে শিকল ভেঙে ছুটে যায় এবং স্থানীয় মধুমতী নদীর কাছে একটি এলাকায় ছয়টি বাড়ি ভাংচুর করে। সেখানেই এক মহিলাকে শুঁড় দিয়ে পেঁচিয়ে আছাড় মেরে হাতিটি তাকে জখম করে ।
সেখানে থেকে হাতি চার কিলোমিটার দূরত্বে ছুটে গিয়ে আরেকজন মহিলাকে শুঁড় দিয়ে পেঁচিয়ে মাটিতে ফেলে পদপিষ্ট করে।
নিকটবর্তী আরও একটি গ্রামে হাতিটির একইধরনের আক্রমণে মারা যান একজন যুবক।
পৌনে একঘন্টা ধরে হাতিটি আট কিলোমিটার এলাকায় তিনটি গ্রাম দাপিয়ে বেড়ানোর পর তাকে আবার শিকল পরিয়ে নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।
হাতিটি কী কারণে হঠাৎ ক্ষেপে উঠেছিল তা বুঝতে পারেন নি হাতিটির মাহুত ফারুক।
ফারুক স্থানীয় ওই সাংবাদিককে জানান হাতিটির পায়ে শিকল বাঁধা ছিল, কিন্তু কীভাবে শিকল ছিঁড়ে হাতিটি পালিয়ে গেল তা তারা বুঝতে পারেন নি।
স্থানীয় পুলিশও হাতির এই অকস্মাৎ ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠার ব্যাপারে বিস্তারিত কিছু জানাতে পারে নি।


