মাগুরানিউজ.কমঃ
সম্পর্কে তিনি কিশোরীর ফুফা (ফুফুর স্বামী)। নাম তার আলমগীর হোসেন। বাড়ি মাগুরা জেলার পাল্লা গ্রামে। ফুফুর সঙ্গে এক সময় ছিল প্রেমের সম্পর্ক। ফুফুর পরিবার তাকে মেনে নিচ্ছিলেন না। কিছুদিন আগে ফুফুকে বিয়ে করেন। পরে নড়াইল শহরের সিটি কলেজের পেছনে ভাড়া বাসায় ওঠেন।
গত ১০ মে ফুফুকে দেখতে নানীকে সঙ্গে নিয়ে নড়াইলের ওই বাসায় যায় বার বছরের ওই কিশোরী। পরদিন ১১ মে সন্ধ্যায় মোটরসাইকেলে করে কিশোরীকে নিয়ে তার ফুফা আলমগীর হোসেন ঘুরতে বের হন। ঘুরতে ঘুরতে রাত ১০টা বেজে যায়।
এক পর্যায়ে রাত সাড়ে ১০টার দিকে কিশোরীকে নিয়ে নড়াইলের সীমান্তবর্তী উপজেলা যশোরের বাঘারপাড়ার বাউলিয়া গ্রামের মাঠের মধ্যে উপস্থিত হন ফুফা। সেখানে তাকে ধর্ষণ করে। একাধিকাবার ধর্ষণ করায় এক পর্যায়ে অজ্ঞান হয়ে পড়ে কিশোরীটি।
ফুফা আলমগীর জ্ঞান হারিয়ে ফেলা কিশোরীকে মাঠের মধ্যে রেখে পালিয়ে আসেন। মধ্যরাতে কিশোরীর জ্ঞান ফেরে। অসুস্থ হয়ে পড়া কিশোরী গভীর রাতে নিকটস্থ একটি বাড়িতে গিয়ে আশ্রয় নেয়। পরে বাড়ির লোকজন মোবাইল ফোনে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানকে বিষয়টি জানায়।
পরদিন ১২ মে সকালে বাঘারপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) ফোনে বিষয়টি জানান ওই চেয়ারম্যান। এরপর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পুরো ঘটনা জেনে মেয়েটির বাবাকে খবর দেয়।
ধর্ষিত’ ওই কিশোরীর বাড়ি মাগুরা জেলার শালিখা উপজেলার উজিরাবাদ গ্রামে।
বাঘারপাড়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মিজানুর রহমান চৌধুরী জানান, ১২ মে বিকেলে মেয়েটির বাবা বাদী হয়ে মাগুরার পাল্লা গ্রামের আবদুল গফুর শেখের ছেলে আলমগীর হোসেনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন।
পরে বাগারপাড়া উপজেলা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ২২ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে ১২ বছরের ওই কিশোরী। জবানবন্দিতে ফুফার যৌন লালসার শিকার হওয়ার কথা স্বীকার করেছে। ঘটনার পর থেকেই পলাতক রয়েছেন ফুফা আলমগীর হোসেন।
এদিকে, ধর্ষণের শিকার কিশোরীর ডাক্তারি পরীক্ষার কোনো প্রতিবেদন রোববার পর্যন্ত দেয়া হয়নি।


