মাগুরানিউজ.কমঃ
নিজেদের ওয়ানডে ইতিহাসে আগে কখনোই এক ইনিংসে দুই ব্যাটসম্যানের সেঞ্চুরি দেখেনি বাংলাদেশ। আজ মিরপুরে প্রথমবারের মতো এমন কীর্তির সাক্ষী হল বাংলাদেশের ক্রিকেটপ্রেমীরা। তামিম ইকবাল তাঁর নিন্দুকদের মুখ বন্ধ করে খেললেন ১৩২ রানের দুর্দান্ত এক ইনিংস। নিজেকে ধারাবাহিকতার প্রতীক প্রমাণ করতে মুশফিকুর রহিমও স্কোরবোর্ডে তুললেন ১০৬ রান। দুজনের ১৭৮ রানের যুগলবন্দী ঠাঁই করে নিল ইতিহাসে। সব কীর্তিগাথার মিলিত যোগফলে বাংলাদেশও সংগ্রহটাকে নিয়ে গেল নিজেদের ওয়ানডে ইতিহাসের সর্বোচ্চ-৩২৯ রানে।
টসে জিতে ব্যাট করতে নামা বাংলাদেশের ব্যাটিং শুরু থেকেই দেখাচ্ছিল অনেক বেশি আত্মপ্রত্যয়ী। তামিম ইকবাল আর সৌম্য সরকারের উদ্বোধনী জুটিই শুরুটা করে দিয়েছিলেন। সেই ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়েই মিরপুরে পাকিস্তানি বোলারদের সাধারণের কাতারে নামিয়ে নিয়ে এসে বাংলাদেশ নিজেদের নিয়ে গেল অন্য এক উচ্চতায়।
তামিমের ১৩২ রানের ইনিংসটি আসে ১৩৫ বলে। ১৫ চার ও ৩ ছয়ের এই ইনিংসটি তামিমের জীবনের সেরা ইনিংস কিনা, সে আলোচনা কিন্তু আসতেই পারে। তবে তামিমের এই ইনিংসটি যে ক্রিকেটপ্রেমীরা অনেক দিন মনে রাখবেন, সেটা কিন্তু বলে দেওয়া যায় কোনো বিতর্ক কিংবা আলোচনা ছাড়াই।
মুশফিকের ইনিংসটিও কিন্তু এক কথায় অনবদ্য। কোন ফাঁক দিয়ে তিনি তিন অঙ্কে পৌঁছে গেলেন, সেটা তিনি আজ টেরই পেতে দেননি। মাত্র ৭৭ বলে ১৩ চার ও ২ ছয়ে সাজানো তাঁর সেঞ্চুরিটিই আত্মবিশ্বাসের একেবারে তলানিতে ঠেলে দেয় পাকিস্তানি বোলারদের।
সাঈদ আজমলকে নিয়ে অনেক কথা হয়েছিল। বোলিং অ্যাকশনের নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে মাঠে ফিরে আজ আজমল তেমন কিছুই করতে পারেননি। ১০ ওভারে দিয়েছেন ৭৪ রান।
বাংলাদেশের ইনিংসে তামিম, মুশফিকের দুটি সেঞ্চুরির পাশাপাশি তৃতীয় সর্বোচ্চ ৩১ রান এসেছে সাকিবের ব্যাট থেকে। তাঁর ২৭ বলের ক্যামিওটিই বাংলাদেশের সংগ্রহকে তিনশর কোটা পার করিয়ে দেয়।
পাকিস্তানের সেরা বোলার ছিলেন ওয়াহাব রিয়াজই। ৪ উইকেট নিলেও খরচ করেছেন ৫৯ রান। অপর উইকেটটি রাহাত আলীর।
বাংলাদেশের ইনিংসের সেরা দিক ছিল শেষ দশ ওভার। এই ৬০টি বলে বাংলাদেশের সংগ্রহ ছিল ৯৩ রান। ব্যাটিং পাওয়ার প্লেতে বিনা উইকেটে ৫৫ রান তুলে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা আজ নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন দুর্দান্তভাবেই।


