মাগুরানিউজ.কম:
মাগুরার ঘোড়ামারা গ্রামের প্রান্তিক কৃষক আমজাদ হোসেন এ বছর অন্যরকম এক ঈদ পালন করলেন। অন্যরকম বলছি এ কারণে যে, খ্যাতির কারণে দেশ-বিদেশ থেকে প্রতিনিয়ত মানুষ আসছে তার বাড়িতে। নিজের জমি বিক্রি করে তৈরি তার সাড়ে তিন কিলোমিটার লম্বা পতাকাটি এক নজর দেখতে। প্রতি নিয়ত ফোন আসছে বিভিন্ন এলাকা থেকে তার শুভাকাঙ্কী, ভক্ত ও আগ্রহীদের কাছ থেকে।
খ্যাতির বিড়ম্বনায় কৌতুহলী দর্শকদের দিনভর আপ্যায়নে ব্যস্ত সময় পার করেছেন ঈদের দিনটিতে। এক মিনিট দম ফেলানোর সময় নেই তার। নিজ বাড়ির একটি ঘর বরাদ্দ দিয়েছেন সাড়ে তিন কিলোমিটার লম্বা পতাকাটি রাখতে। ঈদের সারাদিক ব্যস্ত সময় গেছে দর্শকদের পতাকা দেখাতে। দিনের শেষে স্থানীয় খৈতলা বাজারে গেলে এলাকার শুভাকাঙ্কীরা তাকে ঘিরে ধরেন কৌতুহলে। কত টাকা পেলেন আমজাদ? কবে যাবেন জার্মান? এর পর কোন টিভিতে যাচ্ছেন তিনি? সাংবাদিকরা কেন বারবার তার বাড়িতে আসেন? কি কি পেলেন আমজাদ? এমনি নানা প্রশ্নে জর্জরিত হতে হচ্ছে প্রতি নিয়ত। তবু হাসি মুখে স্বভাব সুলভ উচ্ছল ভঙ্গিতে সবার প্রশ্নের উত্তর দিয়ে যাচ্ছেন ৬৫ বছর বয়সের এই জার্মান ফুটবল ভক্ত। অনেক সময় তার মুখের চটুল শব্দচয়ন সবাইকে দিচ্ছে বাড়তি আনন্দ।
মাগুরা সদর উপজেলার ঘোড়ামারা গ্রামের মৃত নেহাল উদ্দিন শেখ ও আবিরন নেছার ছেলে আমজাদ এখন এলাকার হিরো। তাকে ঘিরেই এখন গ্রামের মানুষের সব গল্প কথা। তাকে উদ্দেশ্য করে এলাকার মানুষের চাহিদাও তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় বাজারের ব্যবসায়ীরা জানান, কৃষক আমজাদ তার সরলতার জন্য সুপরিচিত। তিনি যা বলেন তা করেন। তাতে কারো কথা তিনি পরোয়া করেন না। অত্যন্ত স্পষ্টবাদী আমজাদ সব সময় অন্যের উপকারে এগিয়ে আসেন। এলাকায় খেলাধুলা, ঘোড়দৌড়, বিচার গান ইত্যাদি আসর বসানোর জন্য আমজাদের জুড়ি নেই।এলাকাবাসীর আক্ষেপ যে ফুটবলের জন্য ঘোড়ামারা গ্রামের এত সুনাম। সেই গ্রামে কোন ফুটবল মাঠ নেই। এ গ্রামে একটি ফুটবল মাঠের ব্যবস্থা করতে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন এলাকাবাসী।
আমজাদের কারণে ওই এলাকায় ফুটবলের প্রসার বেড়েছে। আমজাদের এই ভালবাসার পাগলামিতে উদ্বুদ্ধ হয়ে এদেশের ফুটবল আবার মাথা তুলে দাঁড়াবে এমনটিই আশা এলাকার মানুষের।


