মাগুরানিউজ.কমঃ
নিউজিল্যান্ড ১৮৩ রানের অলআউট হয়ে যাওয়ার পরই চাইলে একাদশ বিশ্বকাপ ফাইনালের রিপোর্ট লেখে ফেলা যেতো। কিন্তু ক্রিকেটের অনিশ্চয়তার প্রতি ভরসা করে সেটা হয়তো কেউ করেনি। সাহস করে রিপোর্টটা লেখে ফেললেও কোনো সমস্যা হতো না। ১৮৪ রানের সহজ লক্ষ্য আরো সহজে পার করে পঞ্চমবারের মতো বিশ্বকাপা জিতে গেছে অস্ট্রেলিয়া। ক্যারিয়ারের শেষ ওয়ানডেটি বিশ্বকাপ জিতে শেষ করলেন মাইকেল ক্লার্ক। এর চেয়ে ভালো শেষ কি তিনি কল্পনাও করতে পেরেছিলেন?
শেষ ম্যাচে কেবল জয় নয়, ব্যাট হাতে রানও পেয়েছেন ক্লার্ক। জয় থেকে মাত্র ৯ রান দূরে থাকতে ম্যাট হেনরির বলে বোল্ড হওয়ার আগে ৭৪ রান করেছেন তিনি। ফাইনালে এটাই অস্ট্রেলিয়ার হয়ে সর্বোচ্চ রান।
প্রথম ইনিংস শেষ হওয়ার পরই প্রশ্ন উঠেছিলো বিশ্বকাপের ফাইনালটা কি তবে একপেশে হতে যাচ্ছে?
শেষ পর্যন্ত হলো তাা-ই। আগে ব্যাটিং করে মাত্র ১৮৩ রানে গুটিয়ে যায় কিউইরা। এই রান তাড়া করে পঞ্চমবারের মতো বিশ্বকাপ জেতা খুব একটা কঠিন হওয়ার কথা ছিলো না অজিদের। হয়ওনি। সাত উইকেট হাতে রেখে জিতে গেছে তারা।
অথচ মনে করা হচ্ছিলো, বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম আকর্ষণীয় ফাইনাল হবে এটি। কিন্তু বাস্তবে তার কিছুই হওয়ার সম্ভাবনা আর নেই। যদিও কিউইদের বোলিং লাইন দুর্ধর্ষ। কিন্তু ১৮৩ রানের পুঁজিতে নিয়ে বোলাররা আর কী-ই বা করবেন!
টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে প্রথম ওভারেই শুরু হয় কিউইদের পতন। শূন্যতেই ফিরে যান ব্রেন্ডন ম্যাককালাম। অধিনায়কের ব্যর্থতার পথ ধরে হাঁটতে থাকেন অন্যেরাও। স্রোতের বিপরীতে দাঁড়িয়ে ৮৩ রান করেন গ্রান্ট ইলিয়ট। অন্যদের মধ্যে সর্বোচ্চ ৪০ করেন রস টেইলর। বাকিদের মধ্যে সর্বোচ্চ রান ১৫!
অজি পেসারদের সামনে মেলবোর্নের মতো বড় মাঠে কিছুই করতে পারেননি বিশ্বকাপজুড়ে দুর্দান্ত ব্যাটিং করা ম্যাককালামরা। তাদের ওপেনিং জুটি ভেঙে যায় মাত্র এক রানে। দ্বিতীয় উইকেটে ৩২ রান করে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন গাপটিল ও উইলিয়ামসন। কিন্তু ১৫ ও ১২-এর বেশি করতে পারেননি তারা।
অজিদের হয়ে তিনটি করে উইকেট নেন জনসন ও ফাকনার। তাদের কাছেই মূলত ভেঙে পড়ে কিউই ব্যাটিং লাইন। দুটি উইকেট নেন মিচেল স্টার্ক।
মেলবোর্নে নিজেদের সর্বশেষ ম্যাচে অজিদের হারিয়েছিলো নিউজিল্যান্ড। ফাইনালে ওই স্মৃতি ফিরিয়ে আনার ঘোষণা ছিলো কিউইদের পক্ষ থেকে। কিন্তু তা সেই ঘোষণাতেই শেষ হয়ে গেছে। মাইকেল ক্লার্কের বিদায়ী ম্যাচটি তাই জয় দিয়েই উদযাপন করলো অজিরা। জয় মানে একেবারে বিশ্বকাপ জয়!


