মাগুরানিউজ.কমঃ
সংসারে অভাব ঘোচাতে দুই বছর আগে গৃহকর্মীর চাকরি নিয়ে সুদূর জর্দানে পাড়ি জমান মাগুরা সদর উপজেলার কাঞ্চনপুর গ্রামের গৃহবধূ শিরিনা। প্রবাসে বাড়ি বাড়ি গৃহকর্মীর কাজ করে কষ্টার্জিত সব অর্থই পাঠিয়েছিলেন স্বামী ইব্রাহিমের কাছে। তাঁর স্বপ্ন ছিল দূর হবে অভাব, বাড়ি ফিরে সংসারে সুখের দেখা পাবেন তিনি। কিন্তু যেই কষ্ট সেই থাকে- সঙ্গে যুক্ত হয় স্বামীর প্রতারণা।
স্বামী ইব্রাহিম শিরিনার পাঠানো টাকায় দ্বিতীয় বিয়ে করে। শিরিনা জর্দান থেকে দেশের বাড়ি ফেরেন ঠিকই; কিন্তু মুখোমুখি হন নতুন আরো অমানবিক কষ্টের। তবুও তিন কন্যাসন্তানের কথা ভেবে স্বামী-সতিনকে মেনে নেন তিনি। বিদেশ থেকে আনা শেষ সম্বল তিন লাখ টাকা শেষ পর্যন্ত তুলে দেন স্বামীকে। কিন্তু স্বামী-সতিনের নানা ধরনের নির্যাতন যেন শেষ হয় না। তিন মাস ধরে নিজেকে খাপ খাওয়াতে চেষ্টা করেন শিরিনা। পরে সন্তানদের ভবিষ্যৎ চিন্তা করে সিদ্ধান্ত নেন আবারও প্রবাসে পাড়ি জমাবেন। এই নিয়ে স্বামীর কাছে ৫০ হাজার টাকা চান।
আর এটাই তাঁর জন্য কাল হয়ে যায়। শুরু হয় নির্যাতনের আরেক ভয়াবহ রূপ স্বামী ইব্রাহিম তাঁকে শিকল দিয়ে বেঁধে ঘরে আটকে রাখে তিন দিন। শরীরে ব্লেড দিয়ে চালায় অমানবিক নির্যাতন। পরে গতকাল মঙ্গলবার পুলিশের সহায়তায় শিরিনাকে উদ্ধার করে তাঁর বাবার বাড়ির লোকজন। এরপর মাগুরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। হাসপাতালে শারীরিক-মানসিক যন্ত্রণায় এখন কাতরাচ্ছেন শিরিনা।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শিরিনা বেগম বলেন, ‘সব কিছু জেনে সন্তানদের ভবিষ্যতের চিন্তায় বাড়িতে ফিরে সতিনের সে ঘরেই উঠেছিলাম আমি। কিন্তু স্বামীর কাছ থেকে আগের মতো ব্যবহার পাইনি।’ শিরিনার বাবা মাগুরার শ্রীপুরের খামারপাড়ার পান্নু বিশ্বাস বলেন, ‘আমরা এই নির্যাতনের কঠোর শাস্তি চাই।’ শিরিনার নিকটাত্মীয় আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘ইব্রাহিম তার হাতে-পায়ে ও শরীরের বিভিন্ন অংশে ব্লেড দিয়ে ক্ষত সৃষ্টি করেছে। এ ছাড়া বিভিন্ন অংশে পিটিয়ে জখম করেছে। তাকে তারা উদ্ধারের সময় শিকল বাধা অবস্থায় পেয়েছেন। পুলিশের টের পেয়ে ইব্রাহিম পালিয়ে গেছে।’


