মাগুরানিউজ.কমঃ
সমুদ্রপথে অবৈধভাবে মালয়েশিয়াগামী মাগুরা সদরের তিন যুবক প্রায় এক মাস ধরে নিখোঁজ রয়েছেন। এরা হলেন ডেফুলিয়া গ্রামের সৌদি আরব প্রবাসী মফিজার শেখের ছেলে ইমরান শেখ (২৩), নূর ইসলামের ছেলে শাহিন বিশ্বাস (২২) ও দুলাল মোল্লার ছেলে ইমরান মোল্লা (৩০)।
সম্প্রতি থাইল্যান্ডে গণকবরে বাংলাদেশি থাকতে পারে বলে আশংকা দেখা দেওয়ার পর এ তিন যুবকের পরিবারের সদস্যরা এখন চরম উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছেন।
বৃস্পতিবার দুপুরে ডেফুলিয়া গ্রামে ইমরানের বাড়ি গিয়ে দেখা যায়, তার মা হাসিনা বেগম বুক চাপড়ে মাতম করছেন। ২৫-২৬ দিন ধরে ইমরানের আর খোঁজ নেই বলে জানান তিনি।
শুধু ইমরানের মা নন ভাই-বোন, দাদি, নানিসহ তাদের বাড়ি আসা আত্মীয়-স্বজন সবাই কান্নায় ভেঙে পড়েন।
ইমরানের ছোট ভাই রাজু শেখ জানান, ইমরান পেশায় ইলেকট্রিক মিস্ত্রি। ২৬ দিন আগে পার্শ্ববর্তী জেলা নড়াইলে কাজে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হন।
এরপর ওইদিনই ঝিনাইদহের হাটগোপালপুরের বাসিন্দা রাজ্জাক পরিচয়দানকারী এক দালালের মাধ্যমে গোপনে তার ভাই ইমরান, মামাত ভাই শাহিন ও প্রতিবেশী ইমরান চিটাগাং যান।
রাজু আরও জানান, পরদিন ইমরান মোবাইলে জানান- তারা তিন জন সমুদ্রপথে মালয়েশিয়া যাচ্ছেন। এ কথা বলার পর দালারা তাদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনগুলো নিয়ে নেয়। এরপর থেকে তাদের আর খোঁজ নেই।
গত কদিন ধরে মোবাইলে যোগাযোগ করে তাদের খোঁজ নেওয়ার চেষ্টা করা হলে রাজ্জাক পরিচয়দানকারী দালাল প্রথমে জানায়, তাদের চিটাগাংয়ের দালালের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। যে কারণে তারা কোথায় আছে সে খবর তিনি জানেন না।
পরে বিভিন্ন সময় ফোনে তার সঙ্গে আরও কয়েকবার যোগাযোগ করা হলে সে কখনও জানায় তারা সমুদ্রে আছে, আবার কখনও বলে তাদের মালয়েশিয়া পাঠানোর জন্য থাইল্যান্ডে গোপন গুহায় রাখা হয়েছে।
সর্বশেষ সে বলেছে, তারা না খেয়ে আছে তাদের খাওয়ানোর জন্য টাকা লাগবে। জনপ্রতি পাঁচ হাজার টাকা করে পাঠান।
এরপর থেকে ওই মোবাইল নম্বরও বন্ধ করে রেখেছে বলে জানান রাজু।
শাহিন ও অপর যুবক ইমরানের বাড়িতে গিয়েও দেখা গেছে একই অবস্থা। তাদের বাড়িতেও চলছে কান্নাকাটি।
এলাকার বৃদ্ধ দলিল উদ্দিন বলেন, দালালের মাধ্যমে বিদেশ গিয়ে তিন যুবকই ভুল করেছে।
এ ব্যাপারে মাগুরা জেলা প্রশাসকের কার্যলয়ের প্রবাসী কল্যাণ শাখার দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী কমিশনার মো. নাকিব হাসান তরফদার জানান, ডেফুলিয়া গ্রামের নিখোঁজ তিন যুবকের ব্যাপারে তাদের কেউ অবহিত করেনি। তবে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিবার তিনটিকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।


