মাগুরানিউজ.কমঃ
দেইখ্যা লন, বাইছ্যা লন, ‘একদাম এক রেট’, ‘পঞ্চাশ টাকা-পঞ্চাশ টাকা’। একশ, দেড়শ টাকা। এভাবেই নারী, পুরুষ, শিশু, তরুণ-তরুণীদের শীতের পোশাক বিক্রি হচ্ছে মাগুরা শহরের ফুটপাতের মার্কেটগুলোতে। শহরের বিভিন্ন স্থানের ফুটপাতগুলো এখন গরম পোশাকে সয়লাব। বিক্রয়কর্মীদের হাঁকডাক, হইচই ও ক্রেতাদের ভিড়ে জমে উঠেছে এসব দোকান।
বিলাসবহুল মার্কেট থেকে শুরু করে ফুটপাতের দোকানগুলোতে এখন শীতবস্ত্রের আধিক্য। এ মৌসুমকে ঘিরে চাহিদানুযায়ী সরবরাহে কয়েক মাস আগে থেকেই ব্যবসায়ীরা পোশাক মজুদ করেছেন। শহরের পোশাক-পরিচ্ছদ ও গরম পোশাকের জন্য মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্তদের ভরসা মাগুরার পোষ্টঅফিস এলাকার পুরাতন কাপড়ের মার্কেট। বিশেষ করে ফুটপাতে বিক্রেতার হাঁকডাক আর ক্রেতাদের ভিড়ে জম্পেশ পরিবেশ তৈরি হয় এখানে।
বাজার ঘুরে দেখা গেছে, কানটুপি, মাফলার, হাত-পায়ের মোজা, গায়ের সোয়েটার, জ্যাকেট ইত্যাদি পোশাকে সয়লাব হয়েগেছে দোকানগুলো। সেগুলোর বাহারি রং আর ডিজাইনে ক্রেতাদের চোখ আটকে যাচ্ছে। এ ছাড়া ব্লেজার, কোট তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন বিপণী বিতানের সেলাইকর্মীরাও।শীতের পুরনো কাপড়ের পাশাপাশি প্রতিবছর নতুন কাপড়ের চাহিদা থাকে।
ফুটপাতের দোকানগুলোতে শীতবস্ত্রের পাশাপাশি কম্বলও বিক্রি হচ্ছে। অনেক দোকানে পোশাক সরিয়ে শুধু কম্বল সাজানো হয়েছে। সস্তায় শীতের পোশাক কিনতে ফুটপাতের দোকানে নিম্ন থেকে মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষের ভিড় বেশি। এমনকি অনেক ধনী ব্যক্তিরাও এখান থেকে পোশাক কিনছেন। খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, শীত আসার আগে মোটামুটি কম দামে ভালো পণ্য কেনার আশায় নিম্নবিত্ত এবং মধ্যবিত্ত শ্রেণির লোকজন এসব দোকানে আসছেন।
ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ৮০ টাকা থেকে শুরু করে ৫০০ টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে সোয়েটার, জ্যাকেট, চাদর, কানটুপি, হাত মোজা ও পা মোজাসহ নানা ধরনের শীতের পোশাক। অনেকে আবার জিনিস হিসেবে একদাম ৫০, একশ’ বা দুইশ’ টাকায় শীতের পোশাক বিক্রি করছেন। এ ছাড়া ১৫০০ থেকে পাঁচ হাজার টাকায় দেশি-বিদেশি কম্বল এবং দেড়শ’ থেকে দুই হাজার টাকায় নতুন-পুরনো কেডস ও জুতা বিক্রি হচ্ছে।
ব্যবসায়ীরা জানান, প্রতিবারের মতো এ বছরও শীতকালীন পোশাকের ব্যবসা জমে উঠেছে। গত কয়েকদিন ধরে শীত অপরিবর্তিত থাকায় শীতবস্ত্রের চাহিদা অনেক বেড়ে গেছে। বিক্রেতা জামাল বলেন, এবার শীতের শুরু থেকেই শীতবস্ত্রের চাহিদা বেশ ভালো। একজন ক্রেতা বারবার আসছেন। তবে দাম একটু বেড়েছে। চাহিদার কারণেই এবার শীতবস্ত্রের দাম গতবারের তুলনায় বেড়েছে বলে জানান তিনি। এর মধ্যে শিশুদের কাপড়ের দাম বেড়েছে কয়েকগুণ। সুপার মার্কেটে শীতের পোশাক কিনতে আসা শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘শীতের শুরুতেই বাচ্চাদের জন্য পোশাক কিনছি। এখন একটু শীত পড়ছে। এ ছাড়া পরিবারের সদস্যদের জন্যও শীতের পোশাক কিনতে হবে। এজন্য বাজার ঘুরে দেখতে এসেছি। মনের মতো পেলে কিনে নিয়ে যাব।’



