মাগুরানিউজ.কমঃ
মাগুরার নিভৃত গ্রাম নহাটার হরিয়াখালী গ্রাম আনন্দজোয়ারে ভাসল গ্রামীণ খেলাধুলায়। বৃহস্পতিবার দিনভর উৎসবমুখর পরিবেশে মেতে ওঠে হরিয়াখালীসহ আশপাশের গ্রামের হাজার হাজার মানুষ।
হরিয়াখালী গ্রামের স্থানীয় ‘আঁধারের জোনাকী সমবায় ক্লাব’ আয়োজন করে এই উৎসবের। আকর্ষণীয় নানা গ্রামীণ খেলার প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে সাজানো হয় উৎসবসূচি। এর মধ্যে চাড়ি (মাটির তৈরি বড় গামলা) বাইচ, ডোঙ্গা বাইচ ও হাঁস ধরা প্রতিযোগিতা অন্যতম।
অপ্রচলিত অথচ আনন্দদায়ক এসব প্রতিযোগিতা উপভোগ করেন হাজার হাজার নারী, শিশু, পুরুষ ও বৃদ্ধ দর্শক। তাদের হাততালি, উল্লাস আর হর্ষধ্বনিতে মুখরিত হয় শান্ত সুনিবিড় গ্রাম হরিয়াখালী।
হরিয়াখালী খালের স্বচ্ছ শান্ত জলে প্রথমে শুরু হয় ডোঙ্গা বাইচ। তালগাছ দিয়ে তৈরি এই বিশেষ নৌকায় দুজন মাত্র মাঝি। ভারসাম্য হারালেই পানির নিচে। অশীতিপর এক বৃদ্ধের গলায় লাল ফিতেয় ঝুলছে বাঁশি। ফুঁ দিতেই ৩০-৪০ জনের বাইচ শুরু। বেশিরভাগই বৈঠার বদলে হাত চালাচ্ছেন। চারপাশে ব্রিজের ওপর কয়েক হাজার দর্শকের হাততালি। কয়েকটি ডোঙ্গা নিমেষেই হারিয়ে গলে পানির নিচে। ভয় নেই এখানে সবাই সাঁতার জানেন। রহীম মাঝির ডোঙ্গা সবার আগে এল। সঙ্গে সঙ্গে অ্যালুমিনিয়ামের কলস উপহার। কালো সুঠাম দেহে সাদা দাঁতের হাসি ছড়িয়ে গেল জয়ের আনন্দে।
এরপর শুরু হয় চাড়ি বাইচ। মাটি দিয়ে তৈরি এই পাত্র পানিতে ভাসিয়ে তার মধ্যে একজন বসে হাত দিয়ে বাইতে হয়। গোল এই পাত্রে বসে ভারসাম্য রেখে সামনে এগিয়ে যাওয়াই বড় প্রতিযোগিতা। ১৫ জনের মধ্যে ডুবতে ডুবতে রইল বাকি তিন। তাদের মধ্যে নয়ন নামের এক কিশোর জিতে নিল পুরস্কার।
এরপর অপেক্ষা করছে বড় আকর্ষণ। হাঁস ধরা খেলা। পানির মধ্যে হাঁস ধরা যে কত কঠিন, এই প্রতিযোগিতা দেখলেই তা অনুমান সম্ভব। এক ঘণ্টা হাঁস-ধরা প্রতিযোগীদের ডুবসাঁতারের পর অবশেষে আলাউদ্দিন নামের এক প্রতিযোগীর কাছে পরাস্ত হলো হাঁস। তার মুখেও জয়ের অমলিন হাসি।
হরিয়াখালী গ্রামের বৃদ্ধ হাসমত আলী (৭২)। তিনি স্মৃতি হাতড়ে বলেন, ‘আগের সময় গ্রামে গ্রামে লাঠিখেলা, ঘোড়দৌড়-ষাঁড়দৌড়, বাইচ, সাঁতার, ডোঙ্গা বাইচ এবং মাটির চাড়ি বাইচ ইত্যাদি প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হতো। এখন আর এসব চোখে পড়ে না। এখন সবাই হানাহানি, শত্রুতা, রাজনীতি আর টাকার পেছনে দৌড়াচ্ছে।’
মাগুরা মহম্মদপুর উপজেলার নহাটা ইউপির ঐতিহ্যবাহী হরিয়াখালী সেতু-সংলগ্ন খালে ঈদ-পরবর্তী আনন্দমেলা অনুষ্ঠানের আয়োজক ছিল স্থানীয় আঁধারের জোনাকী সমবায় ক্লাব। অনুষ্ঠানের প্রধান পৃষ্ঠপোষক ছিলেন সময় টেলিভিশনের নাট্য প্রযোজক মো. জাহিদ। অনুষ্ঠানের প্রধান সদস্যসচিব ইমরান আহমেদ ও উপদেষ্টা শ্যামসুন্দর বিশ্বাস।
আয়োজকরা জানান, এলাকাবাসীর সহযোগিতা পেলে ভবিষ্যতে আরো বড় পরিসরে এ ধরনের অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে।




