অবৈধ আমাদানি ও খাদ্যপণ্যে ফরমালিন মেশালে সর্বোচ্চ শাস্তি যাবজ্জীবন রেখে জাতীয় সংসদের চলতি অধিবেশনেই ফরমালিন আইন অনুমোদন পাচ্ছে। বুধবার এ আইনের খসড়ায় চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।
ফরমালিনের অপব্যবহারে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড ও পাঁচ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রেখে গত বছরের ৪ নভেম্বর ‘ফরমালিন ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৩’ এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন দিয়েছিলো মন্ত্রিসভা।
বুধবার এই আইনে সই করেছেন জানিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেন, ফরমালিন ব্যবহার করে যারা খাদ্যে ভেজাল যুক্ত করবে তাদের বিরুদ্ধে কী কী পদক্ষেপ নেওয়া যায়, তা এ আইনে উল্লেখ আছে।
অবৈধভাবে ফরমালিন এনে খাদ্যপণ্যে যুক্ত করলে সর্বোচ্চ সাজা যাবজ্জীবন, বলেন বাণিজ্যমন্ত্রী।
খাদ্যপণ্য ফরমালিনমুক্ত রাখার জন্য এ আইন করা হয়েছে জানিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, আইন মন্ত্রণালয় থেকে ভেটিং নিয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠানো হবে। মন্ত্রিসভার পরবর্তী সভায় তা উঠবে। চেষ্টা করবো সংসদের এ অধিবেশনে অনুমোদন নেওয়ার। রাসায়নিক দ্রব্য ‘ফরমালিন’ সাধারণত গবেষণাগার, হাসপাতাল, চামড়া শিল্প, টেক্সটাইল, হ্যাচারি, বোর্ড শিল্প ইত্যাদিতে ব্যবহার হয়ে থাকে।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী খাদ্য সামগ্রী, বিশেষ করে ফলমূল, শাকসব্জি, মাছ-মাংস পচনরোধে ফরমালিনের অপব্যবহার করছে।
ফরমালিন মিশ্রিত খাবার গ্রহণ করে মানুষ ক্যান্সারসহ বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। গত কয়েকদিন ধরে আম, লিচুসহ বিভিন্ন ফল ও খাদ্যদ্রব্যে ফরমালিন মেশানোর বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করেছে প্রশাসন। এরই মধ্যে আইনে শাস্তির মেয়াদ বাড়ানো হলো।
ফরমালিন আইন নীতিগত অনুমোদনের সময় মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ মোশাররাফ হোসাইন ভূইঞা জানিয়েছিলেন, নতুন এ আইনের মাধ্যমে ফরমালিন উৎপাদন, আমদানি, পরিবহন, মজুদ, বিক্রয় ও ব্যবহার পর্যায়ে নিয়ন্ত্রণ করা হবে।
ওই সময় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ জানিয়েছিল, অতি প্রয়োজনীয় ক্যামিকেল ফরমালিনের অপব্যবহার এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে এজন্য একটি আলাদা আইন প্রণয়ন করা জরুরি হয়ে পড়েছে।
ফরমালিন আইনের অধীনে সংঘটিত অপরাধ আমলযোগ্য, অ-আপোসযোগ্য ও অজামিনযোগ্য করা হয়েছে।
আইনে ফরমালিনের লাইসেন্স শর্ত ভঙ্গ করলে তিন বছর থেকে ১০ বছর কারাদণ্ড এবং পাঁচ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছিল।
ফরমালিনের অবৈধ ব্যবহার তথা যদি কেউ বাসা-বাড়িতে অবৈধভাবে ফরমালিন রাখার অনুমতি দেয় তাহলে দুই থেকে সাত বছর কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়।
ফরমালিনের খসড়া আইনটি আরো পর্যালোচনা করে এবং এটি নিরাপদ খাদ্য আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কি না- তা খতিয়ে দেখতে বলে মন্ত্রিসভা।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানায়, আইনে ৬টি অধ্যায়, ৪৪টি ধারা আছে। ফরমালিনের সংজ্ঞার মধ্যে প্যারা ফরমাল ডিহাইডকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
আইনে ফরমালিনের ব্যবহার বিষয়ে হিসাব সংরক্ষণ, ফরমালিন নিয়ন্ত্রণের জন্য জেলা ও উপজেলা কমিটি গঠন করার বিধান করা হয়।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানায়, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক এবং সায়েন্স ল্যাবরেটরির গবেষকদের সঙ্গে কথা বলে নতুন আইনে বিস্তারিতভাবে ফরমালিন সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। এছাড়া ফরমালিনের উৎসসহ বিভিন্ন বিষয়ও সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, প্রয়োজন সাপেক্ষে কলকারখানা ও মৃতদেহ সংরক্ষণসহ কিছু কারণে ফরমালিন প্রয়োজন আছে, তবে এজন্য আমদানির অনুমতি নিতে হবে।
আইনটি পাস হলে ফরমালিনের অপব্যবহার রোধ করা সম্ভব হবে বলে জানান বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ।

