ভিক্ষাবৃত্তি নিতান্তই ঘৃণিত কাজ। শরীরে সামর্থ্য থাকলে পারত পক্ষে কেউ এ কাজে আগ্রহী নয়। তবুও রাস্তার মোড়ে মোড়ে ভিক্ষুকদের উপস্থিতি নিতান্তই কম নয়। সাধারণ পথচারীরাও তাদের শূন্য হাত পূর্ণ করতে দু’ দশ টাকা দান করতে মোটেও কসুর করেন না। এটি মানবিকতার উদাহরণ বটে। কিন্তু যদি জানতে পারেন- ’ভিক্ষুক কোটিপতি!’ তবে নিশ্চয়ই চোখ উঠবে চড়ক গাছে।
চলুন গালফ নিউজ সূত্রে শুনে আসি কোটিপতি এক ভিক্ষুকের গল্প।
ঘটনাস্থল ভারতের বিহার রাজ্যে পাটনা রেলওয়ে জংশন। এখানেই সাত বছর ভিক্ষাবৃত্তি করে আসছে পাপ্পু কুমার। দীর্ঘ সাতটি বছর এখানেই তার স্থায়ী ঠিকানা। সম্প্রতি পাটনা পুলিশ পরিচ্ছন্নতা অভিযানে নামলে ঘটনার গোমর ফাঁস হয়। অন্যান্য ভিক্ষুককে সরাতে পারলেও পাপ্পুকে সরাতে পারে না পুলিশ। কিছুতেই স্টেশন ছেড়ে যেতে রাজি হয় না সে । ঘটনাটি রহস্যময় মনে হয় পুলিশের। পাকড়াও করা হয় পাপ্পুকে। এ সময় তার দেহ তল্লাশি চালিয়ে চারটি ব্যাংকের এটিএম কার্ড খুঁজে পায় পুলিশ। পরে দেখা যায় তার সম্পত্তির পরিমাণ এক কোটি ২০ লাখ রুপি। এছাড়াও দেশের চারটি ব্যাংকে পাপ্পুর আরো পাঁচ লাখ রুপি জমা রয়েছে। তৎক্ষণাৎ ব্যাপক অনুসন্ধানে নামে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, পাপ্পুর সম্ভাবনাময় অতীত অধ্যায়। ভিক্ষুক পাপ্পুর শৈশবে ইচ্ছে ছিল ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে সে এখন ভিক্ষুক। ৩১ বছর বয়স্ক পাপ্পু জানায়, ৫৭ শতাংশ নম্বর পেয়ে সে ইন্টারমিডিয়েট পাস করে। গণিতে পায় ৭২ নম্বর। ফলে সহজেই ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ভর্তি হতে পারতো পাপ্পু। কিন্তু একটি দুর্ঘটনা কেড়ে নেয় তার স্বপ্ন ।
দুর্ঘটনায় প্যারালাইজড হয়ে যায় সে। শুধু তাই নয়, পরিবারও তাকে ত্যাগ করে। তখন ভিক্ষাবৃত্তিই হয়ে যায় তার জীবিকা নির্বাহের একমাত্র অবলম্বন। পাপ্পু জানায়, বাবার মৃত্যুর পর পৈতৃক সম্পত্তি হিসেবে প্রায় ৩৬০ বর্গফুট জমি পায় সে। সেটা বিক্রি করে রিয়াল এস্টেট ব্যবসায় বিনিয়োগ করে পাপ্পু। সময়ের পরিক্রমায় সে এখন কোটিপতি! তার বর্তমান সম্পদের পরিমাণ এক কোটি ২০ লাখ রুপি।
পুলিশ তাকে পরামর্শ দেয়, ভিক্ষাবৃত্তি ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে। কিন্তু তাতে আগ্রহ দেখা যায়নি পাপ্পুর। সে মনে করে, স্বাভাবিক জীবনে ফিরে এলে তাকে আর ভিক্ষা দেবে কে?

