মাগুরানিউজ.কমঃ
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ কামারুজ্জামানের বিরুদ্ধে ফাঁসির আদেশ বহাল রেখেছেন আপিল বিভাগ।
সোমবার সকাল ৯ টা ৮ মিনিটে আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের বেঞ্চ সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে এ রায় ঘোষণা করেন। এই বেঞ্চের অপর তিন বিচারপতি হলেন বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহহাব মিঞা, বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী ও বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী।
কামারুজ্জামানের বিরুদ্ধে আনীত ৩ নম্বর অভিযোগ সোহাগপুরে গণহত্যার দায়ে সংখ্যাগরিষ্ঠ বিচারপতির মতামতের ভিত্তিতে তার মৃত্যদণ্ড বহাল রাখা হয়।
গোলাম মোস্তাফাকে হত্যার ৪ নম্বর অভিযোগে ট্রাইব্যুনালের দেওয়া মৃত্যুদণ্ড কমিয়ে কামারুজ্জামানকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ২ ও ৭ নম্বর অভিযোগেও ট্রাইব্যুনালের রায় বহাল রেখেছেন আপিল বিভাগ।
১ নম্বর অভিযোগ থেকে কামারুজ্জামানকে খালাস দেওয়া হয়েছে।
রায় ঘোষণার সময় আদালতে কামারুজ্জামানের পক্ষে অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলাম, অ্যাডভোকেট এস এম শাহজাহান, অ্যাডভোকেট সাইফুর রহমান, ব্যারিস্টার ইমরান সিদ্দিকী, এহসান সিদ্দিকী, অ্যাডভোকেট আসাদ উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন।
রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম, অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মুরাদ রেজা, ট্রাইব্যুনালের রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান আইনজীবী অ্যাডভোকেট গোলাম আরিফ টিপু, জেয়াদ আল মালুম, তুরিন আফরোজসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
এটি মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার আপিলের তৃতীয় চূড়ান্ত রায়।
এর আগে গত ১৭ সেপ্টেম্বর জামায়াতের নায়েবে আমির মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীকে আমৃত্যু কারাদণ্ডাদেশ দেন আপিল বিভাগ।
গত বছরের ১২ ডিসেম্বর রাতে আপিলের রায়ে জামায়াতের আরেক সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল কাদের মোল্লার ফাঁসি কার্যকর করা হয়।
এর আগে গতকাল রোববার বিকেলে সুপ্রিম কোর্টের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার এস এম কুদ্দুস জামান গণমাধ্যমকে কামারুজ্জানের মামলার আজকে রায় দেওয়ার বিষয়টি জানান।
গত ১৭ সেপ্টেম্বর উভয়পক্ষের যুক্তি উপস্থাপন শেষে কামারুজ্জামানের মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখা হয়।
আপিল শুনানিতে যুক্তি উপস্থাপন শেষে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম দাবি করেন, ট্রাইব্যুনালে যে পাঁচটি অভিযোগে কামারুজ্জামান দোষী সাব্যস্ত হয়েছিলেন, এর প্রতিটি অভিযোগ রাষ্ট্রপক্ষ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে পেরেছে। এ জন্য আসামি সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্য।
কামারুজ্জামানের আইনজীবী এস এম শাহজাহান দাবি করেন, নিজেদের আনা অভিযোগ রাষ্ট্রপক্ষ প্রমাণ করতে ব্যর্থ হয়েছে, তাই আসামির খালাসের আরজি জানানো হচ্ছে।
গত ১৮ মে থেকে কামরুজ্জামানের মামলার আপিল শুনানি শুরু হয়। মানবতাবিরোধী অপরাধে আপিল বিভাগে কামরুজ্জামানের মামলার শুনানির জন্য একটি বিশেষ বেঞ্চ গঠন করা হয়। এর আগে কাদের মোল্লা ও মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মামলায় প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন পাঁচ সদস্যের বেঞ্চ শুনানি গ্রহণ করতেন।
গত বছরের ৬ জুন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর দেওয়া ফাঁসির আদেশ থেকে খালাস চেয়ে আপিল করেন কামারুজ্জামান।
আপিলে ২৫৬৪টি মূল ডকুমেন্ট, ১২৪টি গ্রাউন্ডসহ সর্বমোট ১০৫ পৃষ্ঠার ডকুমেন্ট জমা দেওয়া হয়েছে।
গত ৯ মে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মোহাম্মদ কামারুজ্জামানকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। তার বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের আনা ৭টি অভিযোগের মধ্যে ৫টিই সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় এ রায় ঘোষণা করেন ট্রাইব্যুনাল।


