মাগুরানিউজ.কমঃ
মেডিক্যাল ও ডেন্টাল কলেজের ভর্তি পরীক্ষায় পাস করেছেন মাত্র ৩৪ ভাগ শিক্ষার্থী। ফেল বেশি করায় লাভ হলো প্রাইভেট মেডিক্যাল কলেজগুলোর। প্রায় ১৯ হাজার শিক্ষার্থী ভর্তির সুযোগ পাচ্ছেন তারা। মেডিক্যালে পড়তে ইচ্ছুক ছাত্রছাত্রীদের কাছ থেকে উচ্চ হারে টাকা নিতে পারবে ওই সব প্রাইভেট মেডিক্যাল কলেজ।
সরকার একাধিকবার চেষ্টা করেও প্রাইভেট বা বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজের জন্য সর্বোচ্চ ভর্তি ফি নির্ধারণ করতে পারেনি। এবারও ভর্তির জন্য কোনো নির্দেশনা নেই সরকারের। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে এ সংক্রান্ত যে কমিটি রয়েছে তা এখনো প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে সর্বোচ্চ ভর্তি ফি নির্ধারণ করেনি।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক প্রফেসর মোহাম্মদ নূরুল হক জানিয়েছেন, ‘সরকার সর্বোচ্চ একটা ভর্তি ফি নির্ধারণ করবে। যদিও এখনো কমিটি সেই ফির পরিমাণ নির্ধারণ করেনি। বেসরকারি মেডিক্যালগুলো যাতে দেদারসে শিক্ষাবাণিজ্য করতে না পারে সেজন্য মনিটরিংয়ের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।’
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সরকার বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজে ভর্তির জন্য ১৩ লাখ ৮০ হাজার টাকা নির্ধারণ করতে পারে। এর সঙ্গে আরো ১০ হাজার টাকা মাসিক বেতন নেবে মেডিক্যাল কলেজগুলো। এ ছাড়া অন্যান্য ফি তো আছেই। সব মিলিয়ে ২০ থেকে ২৫ লাখ টাকা এক সেশনে লাগবে মেডিক্যাল শিক্ষার্থীদের।
এই বিপুল অঙ্কের অর্থবাণিজ্য রোধে স্বাস্থ্য দফতরের তেমন কিছু করণীয় নেই বলেই ইঙ্গিত দিয়েছেন মহাপরিচালক। সামরিক মেডিক্যাল কলেজগুলোতেও দফতরের নজরদারির কোনো সুযোগ নেই বলে জানান তিনি।
দুপুরে ফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য দফতর থেকে যে তথ্য সরবরাহ করা হয়েছে তাতে দেখা গেছে, এবার এমবিবিএস এবং ডেন্টালে মোট পরিক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ৬৪ হাজার ৯৬৬ জন। এর মধ্যে পাশ করেছে ২২ হাজার ৭৫৯ জন। মোট ফেল করেছে ৪২ হাজার ২০৭ জন। পাশের হার ৩৪ শতাংশ। অর্থাৎ প্রতি একশ জনে পাশ করেছে ৩৪ জন।
ডেন্টাল এবং সরকারি বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজে মোট আসন সংখ্যা ১০ হাজার ২৯৯ টি। এর বিপরীতে পাশ করেছেন ২২ হাজার ৭৫৯ জন। আসনের বিপরীতে কীভাবে দ্বিগুণ ছাত্র ভর্তি করবে মেডিক্যাল কলেজগুলো সে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে।
একদিকে দ্বিগুণ ছাত্র ফেল অন্যদিকে আসনের দ্বিগুণ ছাত্র পাস, এই লেজেগোবরে অবস্থায় মাঝখানে ভর্তি বাণিজ্যে মেতে ওঠার সুযোগ পাচ্ছে বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজগুলো। আসন সীমিত এই অজুহাতে গোপন চুক্তিতে ভর্তিবাণিজ্য করবে তারা।
এদিকে বড় ঝামেলায় পড়তে যাচ্ছেন পাবর্ত্য অঞ্চলের শিক্ষার্থীরা। কোটায় ভর্তির সুবিধা থেকে বঞ্চিত হতে পারেন বহু ছাত্রছাত্রী, এমন ইঙ্গিত মিলেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের ভাষ্যে। তিনি বলেছেন, ‘পাহাড়ি ছাত্রছাত্রীরা কোটার স্থানে উপজাতি লিখেছেন। তবে তারা কোনো গোত্র অর্থাৎ মারমা, খাসিয়া না ত্রিপুরা তা উল্লেখ করেননি। ওই বিষয়টি এখন খতিয়ে দেখা হবে, তারপরই সিদ্ধান্ত জানাবে দফতর। তবে তাদের জন্য রাঙামাটি মেডিক্যাল কলেছে ১০টি আসন বেশি রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। তারপরও অনেক শিক্ষার্থী ভর্তির সুবিধা থেকে বঞ্চিত হতে পারেন এমন আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে।

