মাগুরানিউজ.কমঃ
বতর শেষ হতে চললো, কিন্তু বাড়িতে ধান মাড়াইয়ে দম নেওয়ার সময় নেই কৃষাণিদের। কাক ডাকা ভোরে শুরু হয় আর চলে গভীর রাত পর্যন্ত।
সরেজমিন দেখা গেছে, মাগুরা সদর ও মহম্মদপুর,শালিখা ও শ্রীপুর উপজেলার গ্রামে গ্রামে এখন চলছে ধান মাড়াইয়ের উৎসব। ক্ষেতের প্রায় ৫০ভাগ ধান চলে এসেছে কৃষকের উঠানে। জেলার সামাজিক রীতি অনুযায়ি মাঠের সব কাজ করেন পুরুষ কৃষক আর বাড়ির কাজ করেন নারীরা।
বিশেষ করে ধান মাড়াই, বাতাসে উড়ানো, কুলা দিয়ে ঝাড়া, শুকানো ও ওজন দিয়ে সংরক্ষণ করা, শুকানো, আবার কখনো ঢেঁকিতে চাল ছাঁটাই করা। ধান বিক্রি, বীজ ও খাবারের ধান পৃথক করে সংরক্ষণ করতে হয়। এর মধ্যে বৈরি আবহাওয়া হলে ঝক্কি আরও বেড়ে যায়।
শ্রীপুরের মাজআইল গ্রামের কৃষাণি সালেহা বেগম (৩৫)। তার স্বামী আজিজার রহমান মোটামুটি অবস্থা সম্পন্ন কৃষক। তিনি আমন মৌসুমে প্রায় একশ’ মণ ধান পাবেন বলে আশা করেন।
সালেহা জানান, পুরো ধান মাড়াই ও সংরক্ষণের কাজ তার নেতৃত্বে হয়ে থাকে। দুইজন নারী তাকে সহযোগিতা করলেও সার্বক্ষণিক তাকে শ্রম দিতে হয়।
মহম্মদপুর সদরের গৃহবধু মনোয়ারা বেগম জানান, স্বামী সংসার ও সন্তানদের উন্নতির জন্য নারীরা কাজ করেন। এজন্য, আলাদা পারিশ্রমিকের বিষয়টি তাদের কাছে গৌণ। তারপরও নারীর অর্থনৈতিক নিরাপত্তার প্রয়োজন আছে বলে তিনি মনে করেন।
জেলা কৃষি বিভাগের উপরিচালক মোখলেছুর রহমান বলেন, চলতি মৌসুমে চার উপজেলায় ৫৬ হাজার ২৭৫ হেক্টর জমিতে আমনের আবাদ হয়েছে। চাষকৃত জমি থেকে ১ লাখ ৪২ হাজার ৬৬৮ মেট্রিক টন চাল উৎপাদনের আশা করছে কৃষি বিভাগ। বিপুল পরিমাণ খাদ্য উৎপাদনে জেলায় নারীদের অবদান অপরিসীম।


