আপন আলোয় উজ্বল মাগুরার ইয়াং স্টার একাডেমী

মাগুরানিউজ.কমঃ 

sdaef

ফুটবলার তৈরিতে অনন্য ভূমিকা রাখছে মাগুরার ইয়াং স্টার একাডেমী। তবে প্রয়োজনীয় পৃষ্টপোষকতা পেলে আরো ভালো মানের ফুটবলার তৈরিতে ভূমিকা রাখতে পারে ক্রীড়া প্রশিক্ষণ কেন্দ্রটি। বিকেএসপির সাবেক খেলোয়াড় সৈয়দ বারিক আমজাম বারকির একক উদ্যোগে গড়ে ওঠা এ প্রতিষ্ঠানের পথচলা ও সাফল্য এখন এ ধরনেরই ইঙ্গিত দিচ্ছে।

২০০৮ এর জানুয়ারীতে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা করে ইয়াং স্টার। শুরু থেকেই ৬০-৭০ জন নানা বয়সী ক্ষুদে খেলোয়াড় নিয়মিতভাবে প্রশিক্ষণ নিচ্ছে এখানে। অদম্য ইচ্ছাশক্তি দিয়ে যাদেরকে সম্পন্ন খেলোয়াড় হিসেবে দাঁড় করানোর প্রানন্ত চেষ্টা চালাচ্ছেন এই প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার ও একমাত্র প্রশিক্ষক সৈয়দ বারিক আনজাম বারকি।

dsf

এরই মধ্যে এ ক্লাব থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে শহরের পারলা এলাকার মেহেদী হাসান বাপ্পী আন্ডার থারটিনের জাতীয় দলে সুযোগ করে নিয়েছে। ঘুরে এসেছে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ ইরান।অপেক্ষায় আছে দেশের হয়ে ভারতে খলতে যাবার।

বারকি জানান, বাপ্পীর মত তার একাডেমীতে এখন আরো অন্তত ডজন খানেক প্রশিক্ষনার্থী রয়েছে যারা আরো ভালো করবে। এই সব সম্ভাবনাময় ক্ষুদে খেলোয়াড়দের মধ্যে সোহাগ, আলী নূর, জয়, তনু, মুন্না, সানি,  ইব্রাহীম উল্লেখযোগ্য।

প্রতিদিন বিকাল ৩টা বাজলেই বারকির ক্ষুদে প্রশিক্ষনার্থীরা এসে হাজির হয় মাগুরা শহরের নোমানী ময়দান নামেরএ মাঠটিতে। কমপক্ষে ৩ ঘন্টা ধরে প্রশিক্ষন নেয় ফুটবলের নানা বিষয়ে। কখনো দুদলে ভাগ হয়ে কখনো বৃত্তাকারে দাঁড়িয়ে নানা ভঙ্গিতে চলে তাদের প্রশিক্ষণ গ্রহন-প্রশিক্ষক বারিক আনজাম বারকির কাছে।

শুধু প্রশিক্ষন নেয়াই নয়। এখান থেকে কে কতটা শিখল। কতটা দক্ষ হলো তার প্রমানও দিতে হয় মাঝে মধ্যে। সেজন্যে একাডেমীর পক্ষ থেকেই আয়োজন করা হয় বিভিন্ন নামের ফুটবল টুর্ণামেন্টের।

একাডেমীতে প্রশিক্ষণরত মুন্না, জয়, তনু সহ আরো অনেকে জানায়, তাদের প্রত্যেকেরই ইচ্ছা লেখাপড়ার পাশাপাশি ফুটবল কেরিয়ার গড়া। একারনেই তারা একাডেমীতে ভর্তি হয়েছে। তারা জানায়, তাদের প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব কোন ঘর নেই। একারনে অনেকটা ভাসমান অবস্থাতেই চালাতে হয় তাদের কার্যক্রম।

এ প্রসঙ্গে বারকি জানান, তারা যে মাঠটিতে এখন প্রশিক্ষণ চালাচ্ছে সেটি শহরের মূল কেন্দ্রে হওয়ায় প্রায়ই নানা অনুষ্ঠান চলে। যে কারনে প্রায়ই ডেকোরেশনের বাঁশ খুঁটি পুঁতে মাটি খোড়া হয়। ফলে এ সময় তাদের প্রশিক্ষণ চালানো বেশ দূরহ হয়ে পড়ে। এ ধরনের অনুষ্ঠান চলাকালে তাদেরকে প্রায়ই আশ্রয় নিতে হয় অন্য মাঠে। এ ক্ষেত্রে তাদের নিজস্ব একটা মাঠ থাকলে ভালো হতো।

প্রসঙ্গত বারকিসহ ক্লাবের অন্যরা জানায়, মাগুরা স্টেডিয়াম এ ধরনের প্রশিক্ষণের স্থান হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে। কিন্তু শহর থেকে তা অনেকখানি দুরত্বে হওয়ায় সেখানে যাতায়াত বেশ জটিল।

বারকির দাবী, জেলা শহরের কিছু কিছু মাঠকে ক্রীড়া চর্চার জন্য সংরক্ষিত হিসেবে চিহ্নিত করে দেয়া উচিত। তাহলে আরো অনেকে এ ব্যাপারে উদ্বুদ্ধ হবে। এ ছাড়া এ ক্ষেত্রে আর্থিক পৃষ্ঠপোষকতা আরো অনেক বেশি প্রয়োজনীয়। কেননা সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত প্রচেষ্টায় ইয়াং স্টার একাডেমীকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া তার জন্য এখন অনেকটাই কঠিন হয়ে পড়েছে। যেহেতু কোন সরকারি কিম্বা বেসরকারি সহযোগিতা তারা এখনো পায়নি। এ ছাড়া এখানকার প্রশিক্ষনার্থীদের কাছ থেকে কোন রকম ফিস তিনি নেন না।

ইয়াং স্টারের সম্ভবনা বিষয়ে মাগুরা জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব মকবুল হোসেন জানান,  মাগুরা ক্রীড়ার জন্যে জাতীয়ভাবে এখন ঊর্বর জেলা হিসেবে চিহ্নিত। কেননা সাকিব আল হাসানের মত বিশ্বখ্যাত ক্রিকেটারের জন্ম এই জেলা থেকেই হয়েছে। এ ছাড়া অরুপ, উজ্জল, মিন্টু, লাজুক, আরিফসহ আরো অনেকে আবহানী, মোহামেডানসহ একাধিক জাতীয় ফুটবল দলে খেলছে। এ ধরনের একাডেমীর অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে আরো ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব তৈরি হয়ে জাতীয় পর্যায়ে জেলার মান রাখবে। তবে এ ধরনের প্রশিক্ষণের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে হলে ব্যক্তি উদ্যোগের পাশাপাশি সম্মিলিত পৃষ্ঠপোষকতা সমানভাবে জরুরী বলে তিনি মনে করেন।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

April ২০২৬
Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
« Mar    
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০  

ফেসবুকে আমরা

বিভাগ

দিনপঞ্জিকা

April ২০২৬
Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
« Mar    
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০  
%d bloggers like this: