মাগুরানিউজ.কমঃ
মাগুরা শহরের কাউন্সিলপাড়া এলাকায় জাহান প্রাইভেট হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়গনস্টিক সেন্টার নামে একটি প্রতিষ্ঠানে ভুল চিকিৎসায় হামিদা বেগম (৭১) নামে এক রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ পাওয়া গেছে। পুলিশ এ ঘটনায় মিতু বিশ্বাস নামে ওই ক্লিনিকের এক নার্সকে সোমবার রাতে আটক করেছে।
নিহত হামিদা বেগমের বাড়ি সদরের ছোনপুর গ্রামে।
হামিদা বেগমের ছেলে কহিনুর বিশ্বাস বলেন, ‘ডায়াবেটিক এ আক্রান্ত মা হামিদা বেগম হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে সোমবার দুপুরে মাগুরা ডায়াবেটিক হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। এ সময় সেখানে কর্তব্যরত ডাক্তার মাসুদুর রহমান তার ডায়াবেটিক পরীক্ষা করেন। ডাক্তার জানান যে অতিরিক্ত মাত্রায় ডায়াবেটিক বেড়ে যাওয়ায় তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। এ সময় তিনি হামিদা বেগমকে হাসপাতাল কিংবা চিকিৎসক মাসুদুর রহমানের ব্যক্তিগত মালিকানাধীন জাহান ক্লিনিকে ভর্তি করতে বলেন।
পরে তাকে জাহান ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। সেখানে ভর্তির পর বিকালে ক্লিনিকের নার্স মিতু বিশ্বাস তার শরীরে একটি ইনজেকশন পুশ করলে সন্ধ্যায় তিনি মারা যান। বিষয়টি আমাদের বুঝতে না দিয়ে মৃত অবস্থায় তাকে স্যালাইন দিয়ে বেডে রেখে দেয়া হয়। পাশাপাশি জানানো হয় রোগী ঘুমাচ্ছেন। কিন্ত রাত পর্যন্ত তিনি একই অবস্থায় থাকায় সন্দেহ হলে মা হামিদা বেগমের কাছে গিয়ে দেখা যায় তিনি মারা গেছেন। এ সময় মাসুদুর রহমানকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি জানান যে, ডায়াবেটিকের মাত্রা বেড়ে যাওয়ায় তিনি স্ট্রোক করেছেন। পরে পুলিশে খবর দেওয়া হয় বলেও জানান কহিনুর বিশ্বাস।
এ ব্যাপারে ক্লিনিক মালিক মাসুদুর রহমান মোবাইলে জানান, ‘দুপুরে ডায়াবেটিক হাসপাতালে এলে রোগীর অবস্থা আশংকাজনক বলে তাকে জানানো হয়েছিল। তারা নিজের ইচ্ছাতেই আমার ক্লিনিকে তাকে ভর্তি করে। সেখানে অবস্থার অবণতি হলে তাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার জন্য পরিবারের সদস্যদের বলা হয়েছিল। কিন্তু তারা এ বিষয়ে বিলম্ব করায় এ ঘটনা ঘটেছে’।
তবে ঘটনার পর থেকে মাসুদুর রহমান গা ঢাকা দিয়েছেন বলে জানা গেছে।
ক্লিনিকের নার্স মিতু বিশ্বাস বলেন, ‘আমি তার শরীরে কোন ইনজেকশন পুশ করিনি। ওই রোগী ভর্তি হওয়ার পর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত আমি অপারেশন থিয়েটারে ছিলাম। এ বিষয়ে আর কিছু জানি না’।
এ বিষয়ে ঘটনাস্থলে আসা সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মানিক বলেন, ‘জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ক্লিনিকের নার্স মিতু বিশ্বাসকে আটক করা হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে’।


