মাগুরানিউজ.কমঃ
‘আমরা তো ভাই রাজনীতি করি নে। তাইলে আমাগের ক্যান পুড়ে মরতি হবি? যারা রাজনীতি করে তাগের সাথে দ্বন্দ্ব না করে আমাগের মতো গরিবগেরে ক্যান পুড়ায়ে মারতিছে? আল্লা তাগের ওপর এহনো গজব দেয় না ক্যান।’- আজ দুপুরে মালিকগ্রামে যেতেই কাঁদতে কাঁদতে কথাগুলো বলছিলেন পেট্রলবোমায় নিহত রওশন আলী বিশ্বাসের বড় ভাই মাগুরা সদরের মালিক গ্রামের রকিব বিশ্বাস। শুধু রকিব বিশ্বাসই নন, পেট্রলবোমায় নিহত মতিন বিশ্বাস ও শাকিল আহমেদের পরিবারসহ এখানকার প্রতিটি মানুষের কণ্ঠেই ঝরছে একই ধরনের বেদনামিশ্রিত ক্ষোভ। শোকে যেন স্তব্ধ গোটা গ্রাম। এই গ্রামের মানুষ এর আগে এ রকম বীভৎসতা ও অমানবিক নির্মমতা কখনো দেখেনি।
গত শনিবার মাগুরা সদর উপজেলার মঘির ঢাল এলাকায় ট্রাকে অবরোধকারীদের ছোড়া পেট্রলবোমায় ৯ শ্রমিক দগ্ধ হন; এর মধ্যে আটজনেরই বাড়ি সদর উপজেলার মালিক গ্রামে। রাতেই তাঁদের ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে নেওয়া হয়। দগ্ধদের মধ্যে রওশন আলী বিশ্বাস ওই রাতেই মারা যান। আর গতকাল দুপুরে শাকিল আহমেদ ও বিকেলে মতিন বিশ্বাসের মৃত্যু হয়। রওশন ছাড়াও এ ঘটনায় তাঁর পরিবারের আরো তিনজন দগ্ধ হয়েছেন। দগ্ধদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা বেশি সংকটাপন্ন বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন। একদিকে হাসপাতালে দগ্ধরা মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন, অন্যদিকে তাঁদের পরিবারের দিন কাটছে অসহনীয় যন্ত্রণা ও অজানা আতঙ্কে।
রওশনের বড় ভাই রকিব বিশ্বাস জানান, রওশন ছাড়াও তাঁদের পরিবারের আরো তিনজন গুরুতর দগ্ধ হন। এর মধ্যে তাঁর নিজের ছেলে আরব আলী (২১), ছোট ভাই ইলিয়াস (৩২) ও আরেক ভাইয়ের ছেলে মতিন ঢাকা মেডিক্যালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন।
প্রতিবেশী নাজমা বেগম বলেন, ‘মালিক গ্রামে এত সংঘর্ষ হয়েছে, কোনো দিন কোনো পক্ষ নেয়নি রওশন। সেই মানুষটিকে যারা এভাবে পুড়িয়ে মেরেছে, তারা কি মানুষের জন্ম?’
মালিক গ্রামের ষাটোর্ধ্ব কৃষক আজগর আলী বলেন, ‘এই গ্রামে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সংঘর্ষ হয়েছে। একাধিক খুনের ঘটনাও ঘটেছে। কিন্তু এ রকম বীভৎসতা কেউ কখনো দেখেনি। মানুষ মানুষকে এভাবে পুড়িয়ে মারতে পারে, এত দিন কেবল পত্রিকা ও টিভিতে দেখেছি। নিজ গ্রামের এতগুলো মানুষের এই পুড়ে যাওয়া আমরা কিছুতেই সহ্য করতে পারছি না।’


