সরজমিনে মাগুরার মালিকগ্রাম: পেট্রোলবোমায় দগ্ধ হতাহত দিনমজুর পরিবারে কান্নার রোল

মাগুরানিউজ.কমঃ

11034211_16192003416452ui45468_4267031593851699161_n

যাদের কাজ না করলে পেটে ভাত জোটে না, তাঁদের তো কাজ করতেই হবে আর তাই নিত্যদিনের মতো শনিবারও কাজে গিয়েছিলেন মাগুরার মালিকগ্রামের আট বালুশ্রমিক। ট্রাক থেকে বালু নামিয়ে ফিরছিলেন। সারা দিন হাড়ভাঙা পরিশ্রমের পরে তাই ট্রাকে ক্লান্তিতে গা এলিয়ে দিয়েছিলেন তাঁরা। অনেকেরই হয়তো ঘুমে চোখ কিছুটা জড়িয়ে এসেছিলো। এ সময়েই ট্রাকে ছোড়া হয় পেট্রোলবোমা। এতে ট্রাকের চালকসহ ৯ জন দগ্ধ হন।

দগ্ধ শ্রমিকদের সবার বাড়ি সদর উপজেলার মালিক গ্রামে। তাঁরা সবাই দিনমজুর। কাজ না করলে পেটে ভাত জোটে না। দিন শেষে যা আনেন তাই দিয়ে পেট ভরে সবার। গতকালও কাজে গিয়েছিলেন। পরিবারের সদস্যরা অপেক্ষায় ছিলেন। চাল, ডাল যা আনবেন তা দিয়েই হবে রান্না। কিন্তু শ্রমিকেরা বাড়ি ফেরেননি। তাঁরা এখন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এর মধ্যেই ৩জন মারা গেছেন। বাকিদের অবস্থাও আশঙ্কাজনক।

11034211_16192003416452ui678548_4267031593851699161_n

আজ দুপুরে মালিকগ্রামে যেতেই শোনা যায় কান্না। শ্রমিকদের আটটি বাড়ি পাশাপাশি। বাড়ি না বলে কুড়েঘরই বলা চলে। সংসারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিটি এখন হাসপাতালে। তাই এই পরিবারগুলোর অবস্থা এখন টালমাটাল। কান্নায় ভেঙে পড়েছেন তাঁরা। বিলাপ করছেন।

কান্নার মাঝেই চিৎকার করে বলতে থাকেন, তাঁরা হতদরিদ্র, দিনমজুর। রাজনীতি বোঝেন না। কাজ না করলে পেটে ভাত জোটে না। তাঁরা কেনো হামলার শিকার হলেন? তাঁদের কী অপরাধ?

11034211_16192003416452ui4try8_4267031593851699161_n

রওশন আলীর মৃত্যুতে দিশেহারা-হতভম্ব স্ত্রী শুকুরন্নেছা। তিন শিশুকে জড়িয়ে তাকিয়ে আছেন নীরবে। একসময় ডুকরে কেঁদে বললেন, ‘আমি তিন নাবালককে কীভাবে বাঁচাব? ওরা কেনো আমাগের সর্বনাশ করল? আমরা ওগের কি ক্ষতি করিছি।

মৃত রওশনের ভাই ও ভাতিজাও দগ্ধ হয়েছেন পেট্রোলবোমার আগুনে। রওশনের দুই বোন বুক চাপড়ে কাঁদছিলেন।

কথা বলতে গিয়ে দগ্ধ ইয়াদুলের চাচা তরিকুল ইসলাম কান্নায় ভেঙে পড়েন। তিনি বলেন, ‘ইয়াদুল বংশের প্রদীপ ছিল। বাপ মারা গেছে ২০ বছর আগে। আর কোনো ভাই নেই। ছয় বোন। কাজ শেষে চাল-ডাল কিনে বাড়ি ফেরে। তারপর খাওয়া।’

কাঁদতে কাঁদতে পেট্রোলবোমায় দগ্ধ মো. মতিনের স্ত্রী জাহিদা খাতুন বলেন, খুব সকালে বার হয়। বালির কাজ করে দিনে ৩০০ টাকা পায়। তাই দিয়েই কষ্টে সংসার চালাই। এখন আমার সব শেষ। কীভাবে আমরা বাঁচপো?

গুরুতর দগ্ধ বাকীদের পরিবারের প্রশ্ন একটাই এখন কিভাবে হবে চিকিৎসা? পুরোপুরি সুস্থ কি হতে পারবে?

রওশন বিশ্বাসের বোন আলেয়া বেগম কে বলেন, মাত্র পাঁচ মাসের শিশুসহ তিন সন্তান ও স্ত্রীর ভরণপোষণের জন্য বালু শ্রমিকের কাজ করতেন রওশন। শনিবার রাতে তার মর্মান্তিক মৃত্যুতে পরিবারটি এখন অকুল পাথারে পড়েছে। পরিবারের দেখাশোনা করার মত এখন আর কেউই রইল না। তিনি এ পরিবারটির ভরণপোষণ ও ক্ষতিপূরণের জন্য সরকারের কাছে আবেদন জানান।

এ পর্যন্ত সরকারি সহায়তা হিসেবে জেলা প্রশাসন থেকে ১০ হাজার টাকা আর আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে পরিবার প্রতি এক বস্তা করে চাল দেওয়া হয়েছে।

চিকিৎসার প্রথম ধাক্কাতেই বেশিরভাগ টাকা খরচ হয়ে গেছে। প্রতিদিন চিকিৎসা ও আনুসঙ্গিক খরচ যোগাতে দিনমজুর পরিবারগুলি মানবেতর জীবনযাপন করছে।

মাগুরাবাসী আমরা কি ওদের পাশে দাড়াতে পারিনা? মাগুরার প্রতিটি মানুষের কাছে অসহায় ঐ পরিবারগুলোর পাশে দাড়ানোর আহবান রইল।

শেয়ার করুন আমাদের এই আবেদন। ছড়িয়ে দিন প্রতিটি মাগুরাবাসীর কাছে, এখন তাদের প্রয়োজন। মাগুরার পাশে দাড়ান। বাড়িয়ে দিন আপনার সহযোগিতার হাত। 

এ বিষয়ে মাগুরার জেলা প্রশাসক মুহ. মাহবুবর রহমান অসহায় পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করে প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদের পাশে দাঁড়ানোর কথা জানিয়েছেন। আহবান জানিয়েছেন সংকটময় এই সময়ে মাগুরার কৃতি সন্তানদের এগিয়ে এসে অগ্নিদগ্ধ ঐ পরিবার গুলোর পাশে দাড়াবার জন্য।

মাগুরাবাসী আসুন আমরা আমাদের সুযোগ অনুযায়ী অগ্নিদগ্ধ ঐ পরিবার গুলোর পাশে দাড়াই। আপনাদের সহযোগিতা ওদেরকে এই দুঃসময় কে কাটিয়ে আবারো চলতে সহযোগীতা করবে।

এ বিষয়ে জানতে ও জানাতে ফোন করতে পারেন ০১৮৫৫৪৮৫৫৩৮ নাম্বারে। 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

June ২০২৬
Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
« May    
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০  

ফেসবুকে আমরা

বিভাগ

দিনপঞ্জিকা

June ২০২৬
Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
« May    
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০  
%d bloggers like this: