মাগুরানিউজ.কমঃ 

download (3)
বার কার্তিক পুজোয় মেতেছে মাগুরা। মাগুরার মিষ্টির দোকানগুলোতে দিনব্যাপী বিভিন্ন আকৃতির শিঙে বিক্রি হয়। মোচাকৃতির ছোটবড়ো ও বিশাল আকৃতির শিঙে কার্ত্তিক পূজা উপলক্ষেই তৈরি ও বিক্রি হয়। মাগুরা নতুন বাজারে এদিন সকাল থেকে পসরা বিছিয়ে শিঙে বিক্রি করেন স্থানীয় মিষ্টি বিক্রেতা সাধন কুমার অধিকারী। তিনি ২২০ গ্রাম থেকে সাড়ে ৫ কেজি ওজনের শিঙে বানিয়েছেন এবং তা ১০০ টাকা কেজি দরে শিঙে বিক্রি করছেন।

উপজেলার সদরের আর এস কে এইচ ইনস্টিটিউশনের সহকারি প্রধান শিক্ষক স্বপন চক্রবর্তী জানান, প্রায় ৫ হাজার বছর পূর্বে শ্রী কৃষ্ণের পিতা বসুদেব আড়ম্বরপূর্ণতায় কার্ত্তিক পূজা অর্চণা শুরু করেন বলে জানাযায়। মূলত: পুত্র সন্তান কামণা ও পুত্রের মঙ্গলার্থে এ পূজার আয়োজন করা হয়। চিনিদ্বারা তৈরি মোচাকৃতির বিশাল বিশাল সিঙে (মিষ্টিদ্রব্য) কার্ত্তিকের উদ্দেশ্যে নিবেদন করা হয়। শুধু হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের লোকজনই নন-অন্যান্য ধর্মের ব্যক্তিরাও শখের বশে শিঙে ক্রয় করে থাকেন।

বহু বছর আগে এলাকায় প্রায় চারশোর বেশি বাড়িতে ছোট ছোট মানসিকের কার্তিক পুজো হত। নিয়ম অনুযায়ী পুজো শুরু হত কার্তিক মাসের সংক্রান্তির দিন। পরের দিন অর্থাৎ ১ অগ্রহায়ণ হত ঘট বিসর্জন। তাকে বলা হয় কার্তিক লড়াই। বিসর্জনের দিন প্রত্যেক প্রতিমার সঙ্গে দু’তিন জন লাঠিয়াল নিয়ে বাজারের রাস্তায়। সেই শোভাযাত্রা ছিল মানুষের অন্যতম আকর্ষণ। পরবর্তী কালে সেই পুজোয় এসেছে আধুনিকতার ছোঁওয়া।

শ্রীপুরের অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক ৯৫ বছরের কালীপদ আচার্য বলেন, “পুজোর সঠিক বয়স কত বা ক’শো বছরের প্রাচীন, তা সঠিক করে বলতে পারব না। কবেকার পুজো এ নিয়ে ছোটবেলা থেকে আমাদের কৌতূহলের শেষ ছিল না। আমরা বড়দের কাছে জানতে চাইতাম, এ নিয়ে। কিন্তু তাঁদের কাছেও উত্তর অজানা ছিল।” কালীপদবাবুর বাবা ছেলেকে বলচেন, “আমাদের বাপ-ঠাকুর্দারাও পুজোর ইতিহাস নিয়ে কিছু জানতেন না!” তবে, কালীপদবাবুর অনুমান, আনুমানিক ৪০০ বছর বা তার কিছু বেশি প্রাচীন এই পুজো। তাঁর বড় ছেলে অজয়বাবু বলেন, “পুজো যত দিনের হোক না কেন,পূর্ব পুরুষের প্রতিষ্ঠিত এই কার্তিক পুজো বর্তমানে গ্রাম্য দেবতার মর্যাদা পেয়েছে।”

নানা সম্প্রদায়ের বসবাস এই গ্রামে। সে দিক থেকে গ্রামের এই পুজোকে গ্রামের পূর্বপাড়ার প্রবীণ বাসিন্দা জগন্নাথ পাল, নিতাই পাল, বাগদি পাড়ার মাধব বাগদি, কার্তিক বাগদিরা ‘সম্প্রীতির উত্‌সব’ বলেই মনে করেন। পাশের গ্রাম লাঘোষার শেখ খালেক আবার বলছেন, “আমরা সবাই কার্তিক পুজো দেখতে যাই। পুজো শেষে প্রসাদ ও পাত পেড়ে খিচুড়ির ভোগ খাওয়ানো হয়। জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে সকলেই ওই ভোগ খান।