মাগুরানিউজ.কমঃ
এককভাবে পারিবারিক সম্পত্তি ভোগের লোভেই মাদকাসক্ত বড় ভাই ৩ বন্ধুকে সাথে নিয়ে আপন ছোট ভাইকে জবাই করে হত্যা করেছেন বলে আদালতে স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
শ্রীপুর থানার পরিদর্শক তদন্ত মামুন হোসেন বিশ্বাস জানান, সোমবার বিকেলে মাগুরার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ফিরোজ মামুনের আদালতে ছোট ভাই সাধন বিশ্বাসকে হত্যার দায় স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন বড় ভাই গোপাল বিশ্বাস।
এর আগে শ্রীপুর থানা পুলিশের কাছে গোপাল বিশ্বাস (২৫) তার বন্ধু সজিব বিশ্বাসসহ তিন বন্ধুকে নিয়ে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা স্বীকার করেন।
শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রেজাউল ইসলাম জানান, আদালতে ১৬৪ ধারায় ও এর আগে পুলিশের কাছে দেওয়া স্বীকারোক্তিতে নিহত সাধনের বড় ভাই গোপাল বিশ্বাস জানিয়েছেন, মাস দুয়েক আগে তার বাবা দশরথ বিশ্বাস তাকে পারিবারিকভাবে পৃথক করে দেন। এ সময় থেকেই ছোট ভাই সাধন, বাবা দশরথ বিশ্বাস ও মা সুচিত্রা বিশ্বাসের সঙ্গে তার দ্বন্দ্ব শুরু হয়। এতদিন ছোট ভাই সাধন মাগুরা সদর উপজেলার গাংনালিয়ায় মামার বাড়িতে অবস্থান করায় এই দ্বন্দ্ব অনেকটা চাপা পড়ে।
সপ্তাহ খানেক আগে ছোট ভাই সাধন মামা বাড়ি ছেড়ে মধুপুরে নিজ বাড়িতে স্থায়ীভাবে বসবাস করতে থাকে। এমনকি মামা বাড়ি এলাকার অটো গ্যারেজের শ্রমিকের কাজ পর্যন্ত ছেড়ে দেয়। এ সময় থেকেই গোপালের মাথায় ছোট ভাই সাধনকে হত্যার পরিকল্পনা আসে। সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী একই এলাকার সজিবসহ অপর ৩বন্ধুর সহযোগিতায় গত ১০ জুন শনিবার মধ্যরাতে সাধনকে বাড়ির বারান্দা থেকে মুখ বেধে ঘুমন্ত অবস্থায় তুলে নেয় তারা। পরে বাড়ির পাশের একটি পাট ক্ষেতে তাকে জবাই করে হত্যা করা হয়।
শ্রীপুর থানার ভারপাপ্ত কর্মকর্তা আরো জানান, ঘটনার পরপরই পুলিশ সন্দেহজনকভাবে গোপাল বিশ্বাসকে আটক করে। পরে তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী আটক করা হয় গোপালের বন্ধু সাজিব বিশ্বাসকে। এ ঘটনায় জড়িত আরো দুই জনের নাম বলেছে তারা। যাদের গ্রেফতারের চেষ্টা করছে পুলিশ। যদিও সাধনের বাবা দশরথ বিশ্বাসের দায়ের করা এজাহারে কারো নাম ছিল না।


