মহসিন মোল্যা, বিশেষ প্রতিবেদক-
শ্রীপুরে দ্বারিয়াপুর পীর সাহেবের মসজিদ সংলগ্ন প্রতিবেশীদের বসতবাড়িতে যাতায়াতের রাস্তা নিয়ে বিরোধের জেরে সংঘর্ষের ঘটনায় ৩ জনক গ্রেফতার করেছে শ্রীপুর থানা পুলিশ। এর আগে (১৯ ফেব্রুয়ারি) সংঘর্ষের দিনে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে একজনকে আটক করেছিলো পুলিশ। ওইদিন বিকেলে উপজেলার দ্বারিয়াপুর ইউনিয়নের দ্বারিয়াপুর পীর সাহেব দরবার মসজিদের অজুখানা, টয়লেট ও প্রস্রাবখানা নির্মাণ কাজ শুরু করলে স্থানীয় প্রতিবেশীদের সাথে মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক নওয়াবুল ইসলামের সাথে বিরোধ হয়। এ সময় মাজার ও মসজিদের পূর্ব পাশের বাড়ির মালিকরা তাদের চলাচলের রাস্তা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে বলে বাঁধা দেয়। এ বাঁধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে নওয়াবুল ইসলামের নেতৃত্বে ৩০ থেকে ৪০ জন মসজিদের পাশের বেশ কয়েকটি অসহায় পরিবারের উপর অতর্কিত হামলা চালায়। এ ঘটনায় একই গ্রামের আলম মোল্যার ছেলে সজল মোল্যা (৩৫) ও উজ্জল মোল্যা (৩২), আলাউদ্দিন মোল্যার দুই ছেলে শামীম মোল্যা (৪৫) ও টিটো মোল্যা (৪০), রিপনের স্ত্রী হাসিনা বেগম (৩৮), লিটনের ছেলে লিমন মোল্যা (২৮) আহত হয়ে মাগুরা ২৫০ শয্যা সদর হাসপাতাল ও স্থানীয় দ্বারিয়াপুর হাসপাতালে চিকিৎসা নেয়। ওইদিন লিটন মোল্যা থানা থেকে বাড়ি ফেরার পথে তার উপর অতর্কিত হামলা চালিয়ে তাকে মারাত্মক আহত করে।
এ ঘটনায় লিটন মোল্যা বাদী হয়ে মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক নওয়াবুল ইসলামকে প্রধান আসামি করে শ্রীপুর থানায় ১১ জনসহ ৩০ থেকে ৩৫ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে একটি মামলা দায়ের করে। এর পরদিন (২৪ ফেব্রুয়ারি) সুজন শেখ, সোহেল শেখ, সুমন শেখকে আটক করে শ্রীপুর থানা পুলিশ। এ ঘটনাকে ভিন্ন খাতে নিতে মামলার প্রধান আসামি নওয়াবুল ইসলাম (২৩ ফেব্রুয়ারি) শুক্রবার কতিপয় কিছু সাংবাদিক দিয়ে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ জানিয়েছেন। যা সচেতন মহলে ব্যাপক সমালোচিত হয়েছে।
মামলার প্রধান আসামি মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক নওয়াবুল ইসলাম মুঠোফোনে জানান, ঘটনাটি মীমাংসার জন্য দু’পক্ষই গ্রামে বসার কথা ছিলো৷ এঘটনায় কোন মামলা দু-পক্ষই করবেনা বলে আমি জানি। তবে আজ সকালে হঠাৎ করে আমার সমর্থকদের ৩ জনকে পুলিশ ধরে নিয়ে যায়। মামলার বিষয়ে আমি কিছু জানিনা।
এ বিষয়ে শ্রীপুর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ তাসমীম আলম জানান, এ ঘটনায় শ্রীপুর থানায় একটি মামলার পরিপেক্ষিতে ৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

