মহসিন মোল্যা, বিশেষ প্রতিবেদক-
শ্রীপুরে পকুর সংক্রান্ত পারিবারিক কলহের ঘটনা শেষ পর্যন্ত গড়ালেন মিথ্যা চাঁদাবাজি মামলায়। উপজেলার নাকোল ইউনিয়নের বরালিদাহ গ্রামে এমন একটি ঘটনা ঘটেছে। মাগুরা বিজ্ঞ আদালতে আবু বাছিত মিয়া বাদী হয়ে চাচাতো ভাই, ভাতিজা ও গ্রামের নিরিহ কয়েক জন ব্যক্তিসহ ১১ জনের নামে মামলা করে।
বাছিত মিয়া লিখিত অভিযোগে জানান, আসামীরা আমার বাড়ির উঠানে দাড়িয়ে আমার কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। আমাকে ধারলো অস্ত্রের মুখে হুমকি ধামকি দেয়। পরে আমার কাছ থেকে জোরপূর্বক ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা নিয়ে যায়।
এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা যায়, আবু বাছিত মিয়া, ইমদাদুল কবির জুয়েল ও টিটো মিয়ার পৈত্রিক পুকুরে মাছের ঘের রয়েছে। যেখানে তারা দীর্ঘদিন যাবত মাছ চাষ করে আসছে। ওইদিন অস্ত্রের মুখে হুমকি এমনকি চাঁদাবাজির কোন ঘটনা ঘটেনি। সেখানে মিথ্যা অভিযোগে সবাইকে ফাঁসানোর চেষ্টা চলছে।
প্রতিবেশি হাবিবুর রহমান (সাবুল মিয়া), আব্দুল মালেক, কাজী ইদুল বলেন, বাছিত মিয়া ও টিটো মিয়া সম্পর্কে চাচা-ভাতিজা। আমরা প্রতিবেশী এমন কোন ঘটনা হলে আমরা জানতাম। কিন্তু এমন কোন কথা শুনিনি কখনো। পরে জানলাম এ বিষয়ে একটি মামলা হয়েছে। মামলাটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।
অপর প্রতিবেশী সাবেক ইউপি সদস্য মাজেদ মিয়া বলেন, এরা চাঁদাবাজি করেনি বা করেও না। এটা তাদের চাচা-ভাতিজার ব্যাপার। পারিবারিক সমস্যা থাকতে পারে। এ জন্য মিথ্যা মামলা দিয়েছে।
মামলার সাক্ষী বীর মুক্তিযোদ্ধা দেলবর মোল্যা বলেন, আমরা দুই ভাই শুক্রবারের দিন মাঠে কাজ করছিলাম। পরে দেখি বাছিত মিয়ার পুকুরে কিছু অচেনা যুবক মাছ ধরছে। আমাদের এলাকার কেউ না। আমি তাদের জিজ্ঞেস করলে তারা বলে বাছিত মিয়ার মাছ তারা ধরছে। এর বাইরে আমি কিছু জানিনা। আমাকে সাক্ষী করা হয়েছে তাও আমি জানি না।মামলার অপর সাক্ষী মফিজ শেখ বলেন, আমি এ সময় এলাকায় ছিলাম না। আমি কিছু জানিনা। আমাকে যে সাক্ষী করা হয়েছে তাও আমি জানিনা।
আসামী শরাফত হোসেন মিয়া, টিটো মিয়া, এমদাদুল কবির জুয়েল ও প্রণব বিশ্বাস বলেন, আমরা কখনো চাঁদাবাজি করি নাই। এর আগে আমাদের বিরুদ্ধে এমন কোন অভিযোগ নাই। আমরা চাই সঠিক তদন্ত। তদন্তে আমরা যদি অপরাধী হয় আমাদের যে শাস্তি দেওয়া হবে আমরা মাথা পেতে নেব।
অপর আসামী শায়েস্তা খা বলেন, আমি শ্রীপুর উপজেলা যুবলীগের রাজনীতি করি। শুনেছি আবু বাছিত মিয়া আমার নামে মামলা করেছে। তার পুকুর কোথায়, টাকা নেওয়ার বিষয় আমি কোন কিছুই জানিনা। এ মামলায় তার ভাতিজা ও চাচতো ভাই আছে। আমার তার ভাতিজার সাথে সুসম্পর্ক থাকায় হয় তো আমার নামে মিথ্যা মামলা করেছে। তাছাড়া আমি শ্রীপুর উপজেলা যুবলীগের রাজনীতি করি। সে বিএনপি করে এজন্য ও সে আমার বিরুদ্ধে রাজনৈতিকভাবে মিথ্যা মামলা দিতে পারে। আমি সঠিক তদন্ত সাপেক্ষে এর বিচার চাই।
এ বিষয়ে মামলার বাদী আবু বাছিত মিয়া বলেন, মামলার বিষয়ে আমি কোন কথা বলতে চাচ্ছি না।
এ বিষয়ে শ্রীপুর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাব্বারুল ইসলাম বলেন, এ পর্যন্ত মামলার কপি হাতে পায়নি। মামলাটি হাতে পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

