তালাকনামা না দেখেই প্রবাসীর স্ত্রীর দ্বিতীয় বিয়ে পড়ালেন কাজী। Magura news

মহসিন মোল্যা, বিশেষ প্রতিবেদক-

শ্রীপুরে আব্দুর রউফ নামে এক কাজী স্বামী বর্তমান থাকার পরেও পড়ালেন প্রবাসীর স্ত্রীর দ্বিতীয় বিয়ে। তিনি নোহাটা দাখিল মাদ্রাসার সুপার ও নাকোল ইউনিয়নের কাজী। তাঁর বিরুদ্ধে প্রবাসী তুহিন শেখের স্ত্রীকে ভাগিয়ে সেনাবাহিনীতে চাকরি করা প্রেমিক মোস্তাকিমের সাথে বিয়ের প্রলোভনের অভিযোগ করেছে ওই প্রবাসীর পরিবার। সম্প্রতি প্রবাসীর স্ত্রী লাপাত্তার সংবাদটি বিভিন্ন পত্রিকায় ব্যাপক প্রকাশিত ও ভাইরাল হয়। এ ঘটনায় স্ত্রী সুমি ও তার পরিবারের ৫ জনের নামে দায়ের করা মামলা দায়ের করে প্রবাসী তুহিনের পরিবার। বর্তমানে মামলাটি ডিবি পুলিশের তদন্তে রয়েছে। এত কিছুর পরেও ঘটনার মূল হোতা ওই কাজী রয়ে যায় ছোঁয়ার বাইরে। সেদিন তালাক নামা না দেখেই একই সাথে কাজী ও মৌলভীর দায়িত্ব পালন করেন তিনি। যা রীতিমতো আইন বহির্ভূত। তারই যোগসাজশে সাজানো হয় বিয়ের নাটক। ব্লাক মেইলের উদ্দেশ্যে ফাঁকা কাবিননামায় স্বাক্ষর নেওয়া হয় ওই প্রেমিক যুগলের। এখনো দেওয়া হয়নি সেই বিয়ের কাবিননামা। যথেষ্ট তথ্য-প্রমান থাকার পরেও কাজী বারবারই তাদের বিয়ের বিষয়টি অস্বীকার করছেন। বিয়ে নিয়ে মেয়েটি এখন সংশয়ে রয়েছে। কাবিননামা ও বিয়ের দাবি আদায়ে বিভিন্ন জায়গা ধরনা দিচ্ছেন। বাধ্য হয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাছে কাবিননামা পাওয়ার জন্য কাজীর বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ করেছে। অভিযোগটি শ্রীপুর থানা পুলিশ তদন্ত করছেন।

প্রবাসী ওই স্বামী তুহিনের পরিবারের লোকজন অভিযোগ করে বলেন, কাজী আব্দুর রউফ আমাদের বাড়ির পাশের মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করেন। প্রায়ই দেখতাম হুজুরের সাথে তুহিনের বউ সুমি কথা বলতো৷ আমরা বউকে জিজ্ঞেস করলে বলতো মেয়েকে মাদ্রাসায় ভর্তির জন্য হুজুরের সাথে কথা বলি। আমরা আর কিছু ৃমনে করিনি। পরে বুঝলাম হুজুরই সবকিছু করেছে। তিনি আমাদের এখানকার মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করেন। তিনি আমাদের সবাইকেই চিনেন। সে কি করে, সব জানার পরেও এ বিয়ে পড়ালেন? সে বিয়ে পড়ানোর আগে একটিবারের জন্য হলেও তো আমাদের জানাতে পারতো!

এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এর আগেও টাকার বিনিময়ে এমন অহরহ কাজের অভিযোগ রয়েছে ওই কাজীর বিরুদ্ধে। ক্ষমতার দাপটে তিনি এমন কাজ করে থাকেন। তার বিরুদ্ধে অভিযোগের শেষ নেই। মাদ্রাসা চলাকালীন সময় কয়েকদিন প্রতিষ্ঠানে গিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি। তবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, তিনি প্রায়ই প্রতিষ্ঠানে উপস্থিত থাকেন। পরীক্ষার্থীদের ফরম পূরণে বেশি টাকা নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে ওই সুপারের বিরুদ্ধে। প্রতিষ্ঠানের একাধিক শিক্ষক, কর্মচারী ও শিক্ষার্থী ওই সুপারের কার্যকলাপে অসন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এবিএম নকিবুল ইসলাম বলেন, তাঁর কোন বিষয়ে কেউ আমাকে অবগত করেনি। বিষয়টি এমন হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

নোহাটা দাখিল মাদ্রাসার সভাপতি সাহেব আলী বলেন, আমি অনেক বিষয়ে সুপারকে সমাধান হতে বলেছি। সে আমাকে না বলেও অনেক সময় ছুটি কাটিয়েছেন। এমন একটি বিয়ের বিষয়ে শুনেছি, অনেকগুলো পত্রিকার সংবাদ দেখেছি। ছেলে পক্ষ থেকে কোন অভিযোগ করেনি। অভিযোগ করলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত নোহাটা দাখিল মাদ্রাসার সুপার আব্দুর রউফ বলেন, আমার বিরুদ্ধে করা সকল অভিযোগ মিথ্যা। আমি ওই বউকে চিনি না। আমার সাথে তার কোন কথা হত না। কাবিননামা আমার কাছে নাই কোথা থেকে দিবো? আমি সেদিন ওখানে গিয়েছিলাম। বিয়ে না পড়িয়েই চলে এসেছিলাম।

April ২০২৬
Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
« Mar    
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০  

ফেসবুকে আমরা

বিভাগ

দিনপঞ্জিকা

April ২০২৬
Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
« Mar    
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০  
%d bloggers like this: