মহসিন মোল্যা, বিশেষ প্রতিবেদক-
শ্রীপুর উপজেলার নাকোল ইউনিয়নের মাঝাইল পুরানো ফেরী ঘাট অবস্থিত। ঘাট থেকে বালু বহনের জন্য এ রাস্তায় ছোট বড় অন্তত ১০ থেকে ১৫ টি ড্রাম ট্রাক চলে। দিন-রাত গ্রামের ছোট রাস্তা হলেও ড্রাম ট্রাকগুলো চলে বেপরোয়া গতিতে। বিশ্ব রোড হতে মাঝাইল পুরানো ফেরী ঘাটের এ রাস্তায় গত ১ বছরে অনেকগুলো মারাত্বক দুর্ঘটনা ঘটেছে। বিভিন্ন সময়ে মারাত্বক দূর্ঘটনায় অন্তত ৩ টি তাজা প্রান ঝরেছে এ রাস্তায়। টাকার বিনিময়ে সব ঠিক হয়ে গেছে। প্রায় সবগুলো দূর্ঘটনার জন্য ড্রাম ট্রাকের মালিক কালাম মোল্লাকে দায়ী করেছে এলাকাবাসী। এলাকার প্রভাবশালী ব্যক্তি হওয়ায় ভয়ে কেউ মুখ খোলে না তার বিরুদ্ধে। সর্বশেষ ১৭ ফেব্রুয়ার বৃহস্পতিবার দুপুরে ড্রাম ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে মারা যায় ৩ বছরের শিশু সাইমা। এ ঘটনাও টাকার বিনিময়ে মিমাংসা হয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে অনেকেই বলেন, গত ১ বছরে এ রাস্তায় কালাম মোল্লার ড্রাম ট্রাক ৩ টি তাজা প্রান কেড়ে নিয়েছে। এখানে টাকার বিনিময়ে বিক্রি হয় প্রান। যেখানে টাকায় বিক্রি হয় প্রান, সেখানে ভয়ের কি আছে? এ কারণে এ সকল দূর্ঘটনাকে আমলেই নেন না ড্রাম ট্রাকের মালিক কালাম মোল্লা। এই রাস্তায় যারা গাড়ি চালাই কারো কোন বৈধ লাইসেন্স নেই। অনেক সময় হেলাপার দিয়ে চালানো হয় ড্রাম ট্রাকগুলো।

এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সর্বশেষ গত ১৭ ফেব্রুয়ারী বৃহস্পতিবার দুপুরে ওই রাস্তায় বালু বােঝাই ড্রাম ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে সাইমা (৩) নামে এক শিশুর করুণ মৃত্যু হয়। শেষ পর্যন্ত শিশু সাইমার লাশ ও বিক্রি হয়েছে টাকার বিনিময়ে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকাবাসী রাস্তায় আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষাভ করে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ড্রাম ট্রাকসহ হাবিব নামের ট্রাকের হেলপারকে আটক করে। ওইদিন হাবিব হেলপার হয়ে ও গাড়ি চালাচ্ছিল। ড্রাম ট্রাকগুলো যারা চালাই তাদের কারো কোন বৈধ লাইসেন্স নেই। হেলপার দিয়েই চালানো হয় গাড়িগুলো। সেদিন সাইমার মৃত্যুর ঘটনায় এলাকাবাসী ড্রাম ট্রাকটি আটকে রেখে রামনগর হাইওয়ে পুলিশ ও নাকোল পুলিশ ফাঁড়িতে খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ট্রাকসহ চালক হাবিবকে আটক করে। ড্রাম চালক কালাম মোল্লার জামাই বলে জানা যায়। ওই দিন এলাকাবাসী ওই রাস্তায় ড্রাম ট্রাক বন্ধের দাবিত রাস্তায় আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করে। কিছুদিন যেতে না যেতেই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। এখন আবারো আগের নিয়মেই চলছে বেপরোয়া ড্রাম ট্রাক। এখনো প্রতিটি মুহূর্ত আমাদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।
ড্রাম ট্রাকের মালিক কালাম মোল্লা বলেন, রাস্তায় গাড়ি চলবে দূর্ঘটনা ঘটবে এটাই স্বাভাবিক। আগের কোন দূর্ঘটনা আমার গাড়িতে ঘটেনি। সব ড্রাইভারের লাইসেন্স আছে। তবে শিশু সাইমা আমার গাড়ির নিচে পড়ে মারা গেছে। নিহতের পরিবার কোন মামলা করেনি। টাকার বিনিময়ে কোন সমঝোতা করিনি।
মাগুরা হাইওয়ে পুলিশের অফিসার ইনচার্জ লিয়াকত আলী বলেন, ওই দিনের ঘটনায় ট্রাকসহ চালককে আটক করা হয়। পরে নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে কোন মামলা হয়নি। তারা নিজেদের মধ্যে সমঝোতা করে নিয়েছে।

