মহসিন মোল্যা, বিশেষ প্রতিবেদক-
অযত্ন-অবহেলায় প্রায় সারা বছরই অরক্ষিত থাকে মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার শ্রীকোল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শহীদ মিনার। স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছর পেরিয়ে গেলেও এ শহীদ মিনারটি পায়নি তার পূর্নতা। তাছাড়া এ শহীদ মিনারটি ঠিকমতো রক্ষণাবেক্ষণ না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষ। পাশাপাশি শহীদ মিনারের যথাযথ মর্যাদা, পবিত্রতা ও ভাবগাম্ভীর্য রক্ষা হচ্ছেনা বলেও অভিযোগ তাঁদের। দলীয়। তবে সারা বছর এ শহীদ মিনার বেহাল থাকলেও ২১ ফেব্রুয়ারিতে ভাষা শহীদদের স্মরণে ফুল দেয়ার উদ্দেশ্যে কিছুটা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হয়। তবে কিছুদিন পর থেকেই আবার বেহাল হয়ে পড়ে এ শহীদ মিনার। তবে এবারের ভাষা শহীদদের স্বরণে ২১ ফেব্রুয়ারি পালনের ছিটে ফোটাও চোঁখে পড়েনি।
এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট ও সচেতন মহলের একটিই দাবি, শহীদ মিনারের মর্যাদা ও পবিত্রতা রক্ষায় জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি। ইতিপূর্বে শহীদ মিনারের মর্যাদা রক্ষায় কোনো ব্যবস্থাই নেয়নি কর্তৃপক্ষ।

জানা যায়, শহীদ মিনারের মূল বেদির আশাপাশে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকে নোংরা ময়লা-আবর্জনা, সিগারেটের প্যাকেটসহ অসংখ্য উচ্ছিষ্ট অংশ। শহীদ মিনারের মূল বেদিতে জুতা-সেন্ডেল নিয়ে হরহামেশাই ধূমপান করে মানুষ। অথচ এ শহীদ মিনারে প্রতি বছর ভাষা শহীদদের ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো কথা থাকলেও করোনা পরিস্থিতি সব পাল্টে দিয়েছে। ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য নির্মিত শহীদ মিনারটি অযত্ন-অবহেলায় বছরের পর বছর পড়ে আছে। খুব দ্রুত এ শহীদ মিনারটি তার পূর্নতা পাবে এমনটিই আশা সকলের।
এ বিষয়ে প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বার বার শহীদ মিনারটির কাজের জন্য বরাদ্দ আসলেও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কোন কাজ করেনি।
এ বিষয়ে শ্রীকোল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আবু সাইদ বলেন, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ, ঊনসত্তরের গণআন্দোলনসহ দেশে যত আন্দোলন হয়েছে তার সব আন্দোলনের সূচনা হয় ভাষা আন্দোলনের মাধ্যমে। তবে শহীদদের স্মরণে নির্মিত শহীদ মিনারের আসল মর্যাদাই নতুন প্রজন্মসহ আমরা আজ ভুলতে বসেছি। শহীদ মিনার হল ভাষা সৈনিকদের স্মৃতিস্তম্ভ। এটাকে দেখভাল করা সবার নৈতিক দায়িত্ব। করোনা আমাদের সব কিছু এলোমেলো করে দিয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে শহীদ মিনারটি তার পরিপূর্ণতা পাবে বলে আশা করছি। এছাড়া শহীদ মিনারটির কাজের জন্য এ পর্যন্ত তেমন কোন বরাদ্দ আসেনি। যতটুকু আসছে ততটুকুই করা হয়েছে।
এ বিষয়ে শ্রীকোল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি আমির হোসেন মোল্লা বলেন, এর আগে অন্য একজন সভাপতি ছিল। আমি নতুন দায়িত্ব পেয়েছি। বিদ্যালয়ের ফান্ডে তেমন কোন অর্থ নেই। করোনার কারণে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন বন্ধ রয়েছে। এ কারণে শহীদ মিনারটি কাজ শেষ হয়নি। তবে দ্রুত শেষ হবে বলে আশা করছি।

