আজ বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬ ইং
loading....
শিরোনাম:
- ভালোবাসার টানে মাদারীপুর থেকে মাগুরায় খ্রিস্টান তরুণী, সমলিঙ্গে বিয়ের দাবিতে চাঞ্চল্য
- শ্রীপুরে অবৈধভাবে সার মজুদ রাখা মামলায় দুই আসামী গ্রেপ্তার
- শ্রীপুরে অবৈধভাবে মজুদ রাখা ২৩ বস্তা সার জব্দ, ২০ হাজার টাকা জরিমানা
- উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চোরের উপদ্রব: অস্ত্রধারী আনসার নিয়োগে ফিরেছে স্বস্তি
- শ্রীপুরে ৩২৮ বস্তা সার জব্দ, দুই ব্যক্তির নামে মামলা
- শ্রীপুরে গ্রীষ্মকালীন ক্রীড়া প্রতিযোগিতার উদ্বোধন
- শ্রীপুর প্রতিবন্ধী ও অটিজম বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের জন্য ভ্যান প্রদান
- শ্রীপুরে কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত
- শ্রীপুরে নাটা গাড়ির চাপায় শিশুর মৃত্যু, চালক আটক
- শ্রীপুরে বিদ্যুতায়িত হয়ে এক যুবকের মৃত্যু
মনিরুল ইসলাম , বিশেষ প্রতিবেদক-
শালিখায় বোরো ধানের লক্ষ্যমাত্রার অধিক ফলন হয়েছে। ইতোমধ্যে ধান কাটাও শুরু করেছেন অনেকে। তবে বঙ্গোপসাগরের সৃষ্ট লঘুচাপে খবরে দ্রুত ধান কাটার চেষ্টা করছেন চাষিরা। এতে শ্রমিক সংকটে গলার কাঁটা হয়ে পড়েছে কষ্টে ফলানো ধান।
উপজেলা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা সঞ্জয় হালদার জানান, চলতি বছর শালিখায় বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১২ হাজার ৫৪৫ হেক্টর জমি। এতে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ৫৫ হাজার ৭২৬ মেট্রিক টন ধান। তবে উপজেলায় বোরো আবাদ হয়েছে ১৩ হাজার ৪৪৫ হেক্টর জমিতে। ইতিমধ্যে মোট উৎপাদিত জমির ৭০ শতাংশ ধান কাটা হয়েছে বলেও জানা গেছে।
এদিকে আসন্ন ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপের কারণে স্বল্প সময়ে ধান কেটে ঘরে তোলায় ব্যাস্ত চাষিরা। উপজেলার তালখড়ি, শতখালী, ধনেশ্বরগাতীসহ বিভিন্ন ইউনিয়ন ঘুরে এই অবস্থা দেখা গেছে।
সরেজমিনের দেখা যায়, কেউ ধান কাটছে, কেউ মাথায় করে জমি থেকে ধান বয়ে নিচ্ছেন, কেউ গরু-মহিষের গাড়িতে ধান বয়ে নিচ্ছেন বাড়িতে, অনেকে মাঠেই ধান মাড়াই করছেন। তবে ঘূর্ণিঝড়ের আশঙ্কায় বিচালির আশা ছেড়ে শুধুমাত্র ধান সংগ্রহ করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা। ধান কাটা ও মাড়াইয়ের কাজে পুরুষের পাশাপাশি অংশ নিচ্ছেন নারীরাও।
বরাবরের মতো মাঠ থেকে ধান সংগ্রহ করতে বিভিন্ন এলাকা থেকে ঘোড়া, মহিষ ও গরুর গাড়ি নিয়ে আসছেন গাড়োয়ানেরা। এমনি একজন গাড়োয়ান জয়নাল মোল্লা জানান, ‘প্রতিবার আবাদের পর আমরা বিভিন্ন এলাকায় ধান বইতে যাই। এভাবে ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা মতো আয় হয়।’
আড়পাড়া ইউনিয়নের দিঘী গ্রামের কৃষক রতন বিশ্বাস বলেন, চলতি বছর তিনি ৫ বিঘা জমিতে ধানের আবাদ করেছেন। ফলও হয়েছে ভালো। তবে মজুরি বাড়ায় দৈনিক প্রায় এক মণ ধান দিয়ে একজন কৃষাণ (ধান কাটার শ্রমিক) নিতে হচ্ছে। এতে খেতের সব ফসল তুলেতে এক তৃতীয়াংশ ধান শ্রমিকদের পেছনে ব্যয় হওয়ার আশঙ্কা করছেন তিনি।
বুনাগাতী ইউনিয়নের কৃষক লুৎফর মোল্যা বলেন, কয়েক দিনের বৃষ্টিতে ধান ভিজে গেছে। এতে ভেজা ধান নিয়ে বেশ দুর্ভোগে পড়েছি।
রবি বিশ্বাস, ফিরোজ বিশ্বাস, নজরুল মোল্যা, হরিদাস, গোপালসহ একাধিক কৃষকদের সঙ্গে কথা হলে জানা গেছে, ফসল ভালো হলেও বৈশাখীর ঝড় নিয়ে শঙ্কায় আছেন। পাশাপাশি শ্রমিক সংকট ও তাদের মজুরি পরিশোধ নিয়েও দুশ্চিন্তায় পড়েছেন তারা।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন বলেন, ধান কাটায় কম্বাইন্ড হারভেস্টার ও রিপার মেশিন ব্যবহার করা যেতে পারে। এতে একদিকে যেমন অর্থের সাশ্রয় হবে, অপরদিকে কৃষকদের সময় বেঁচে যাবে। তা ছাড়া শ্রমিক সংকটও কেটে যাবে বলেও মনে করছেন তিনি।

