মনিরুল ইসলাম, বিশেষ প্রতিবেদক-
আজ সোমবার, ফেব্রুয়ারী ১৬, ২০২৬ ইং
loading....
শিরোনাম:
- তারাও এসেছিলেন ভোট কেন্দ্রে
- শ্রীপুরে ৯ম পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপন ও বাস্তবায়নের এক দফা দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত
- কাজলী কলেজিয়েট স্কুলের বার্ষিক ক্রীড়া অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত
- শ্রীপুরে হাফেজিয়া মাদ্রাসায় আগুন
- শ্রীপুরে শিক্ষা সফরের বহনকারী বাস দূর্ঘটনার শিকার
- শ্রীপুরে বারোমাসী সিডলেস চায়না-৩ লেবু চাষে সফলতা
- শ্রীপুরে কার্ডিও পালমোনারী রিসাসিটেশন (সিপিআর) এর উপর স্কুল পর্যায়ে অবহিতকরণ ও প্রশিক্ষণ কর্মশালা
- মাগুরা-১ আসনের বিভিন্ন ভোট কেন্দ্র পরিদর্শনে রিটার্নিং অফিসার ও অন্যান্য কর্মকর্তা
- মহম্মদপুরের বড়রিয়া শতবর্ষী ঐতিহ্যবাহী ঘোড়দৌড় ও গ্রামীণ মেলা
- শ্রীপুরের সোনাতুন্দী নূরানী হাফেজিয়া মাদ্রাসায় ও এতিমখানার ১১তম ওয়াজ মাহফিল অনুষ্ঠিত
আষাঢ় মাস শেষ হয়ে শ্রাবণ মাস শুরু হয়েছে। এখনো প্রয়োজন মতো বৃষ্টিপাত হচ্ছে না।
পানির অভাবে মাঠ-ঘাট-পুকুর প্রায় পানিশূন্য। চলতি মৌসুমে মাগুরার শালিখা উপজেলায় পাটের বাম্পার ফলন হলেও এখন সেই পাট জাগ দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে কৃষকদের। পর্যাপ্ত পানির অভাবে পাট জাগ দিতে পারছেন না তারা। শালিখা উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ঘুরে এমন চিত্রই চোখে পড়েছে।
খাল-বিল- ডোবা শুকিয়ে যাওয়ার কারণে পাট কেটে ক্ষেতে বা রাস্তার ধারে ফেলে রাখা হয়েছে। বৃষ্টির দেখা না পেয়ে পাট জাগ দেয়া নিয়ে অনেক চিন্তায় পড়েছেন কৃষক ।
আষাঢ়ের মাঝামাঝি হালকা বৃষ্টিপাত ও আকাশ বেশ মেঘাচ্ছন্ন থাকায় উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে প্রান্তিক পাট চাষিরা তাদের পার্ট কাটেন। কিন্তু পাট কেটে জমিতে ফেলে রেখেছেন তারা। গ্রামের ছোট খাল, ডোবা, নালায় পর্যাপ্ত পানি না থাকায় পাট জাগ দিতে পারছেন না অনেকে । অনেকে আবার পানি নেই দেখে পাটই কাটেন নি এখনো। জাগ না দিতে পারলে প্রান্তিক চাষিরা ক্ষতির সম্মুখিন হবেন ।
পাটচাষি উপজেলা সদর আড়পাড়া গ্রামের শফিকুল ইসলাম জানান, এ বছর পাটের বাম্পার ফলন হয়েছে। কিন্তু পানির অভাবে মাঠ-ঘাট ফেঁটে প্রায় চৌচির। কৃষকেরা পাট কেটে মাঠে ফেলে রেখেছেন। পাট ক্ষেতেই অনেকটা শুকিয়ে যাচ্ছে। পাট জাগ দিতে ৮-১০ হাত পানির দরকার।
আমার ১০ বিঘা জমি, পাটের বাম্পার ফলন হয়েছে। কিন্তু পাট কেটে ক্ষেতে ফেলে রেখেছি । কোথাও পানি নেই । কৃষকেরা সময় মতো যদি পাট জাগ দিতে না পারেন, তাহলে তারা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন ।
ভাটোয়াইল গ্রামের রেজাউল মোল্যা জানান, আকাশ মেঘাচ্ছন্ন রয়েছে । তাপমাত্রা কিছুটা কমতে শুরু করেছে। হয়তো বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। বৃষ্টি না থাকায় আমরা কৃষকেরা পাঠ জাগ দিতে পারছিনা।
উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা আলঙ্গীর হোসেন জানান, চলতি মৌসুমে শালিখা উপজেলায় ৩৯৩৫ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে। যেখানে গত বছর ছিলো ৩৮৯০ হেক্টর জমিতে আবাদ। গত বছরের তুলনায় এ বছর ৪৫ হেক্টর বেশি জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে।চাহিদা অনুযায়ী বৃষ্টি না হওয়ার কারণে প্রান্তিক কৃষকেরা বিপাকে পড়েছেন ।
তিনি আরো বলেন, শালিখাতে অধিকাংশ ডোবা-নালা ভরাট হয়ে যাওয়ার কারণে পানি অনেকটা কম । তাছাড়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের রিবন রিডিং পদ্ধতিতে পাট জাগ দেয়ার পরামর্শ দেয়া হয়েছে । মাটিতে গর্ত খুঁড়ে পাট পচানোর পদ্ধতি বেশ জটিল, আঁশ ছাড়ানো কঠিন, তাই এখনো এ পদ্ধতিতে কৃষক যেতে চান না পানিতে পাট কেটে কয়েকদিন ভিজিয়ে রাখার পর আঁশ নরম হয়ে যায়। একে বলে জাগ দেয়া। জাগ দেয়ার পর সহজেই পাটকাঠি থেকে পাটের আঁশ ছড়ানো যায়।

