রাজীব মিত্র জয় –
মাগুরাতে ‘লিগ্যাল এইড’ কার্যক্রম এখন মাগুরার গণমানুষের সামাজিক আন্দোলনে পরিনত হয়েছে। জেলাজুড়ে বিনামূল্যে আইনী সেবার সফল প্রয়োগে জেলা লিগ্যাল এইড কমিটির চেয়ারম্যান, বিজ্ঞ জেলা ও দায়রা জজ শেখ মফিজুর রহমানের নানামুখি উদ্ভাবনী জনসম্পৃক্ত পদক্ষেপগুলি দেশে অনুসরনীয় হয়ে উঠেছে। জেলা উপজেলা ছাড়িয়ে এখন ইউনিয়ন পর্যায়ে সেবা পৌছে দিতে সাপ্তাহিক ছুটির দিনগুলোত জেলাজুড়ে চলছে বিরামহীন তথ্য প্রদানকারী প্রশিক্ষিত ‘লিগ্যাল এইড’ কর্মী তৈরীর অভিযান। সেবা কার্যক্রম ছড়িয়ে পড়ছে জেলার প্রত্যন্ত থেকে প্রত্যন্ত অঞ্চলে। বদলে যাচ্ছে মাগুরার আইনী সেবার প্রেক্ষাপট।
চলমান কার্যক্রমের ধারাবাহিকতায় শনিবার (২৭ অক্টোবর) মহম্মদপুর উপজেলার রাজাপুর ইউনিয়নে স্থানীয় পাঁচ শতাধিক মানুষের উপস্থিতিতে একটি প্রানবন্ত কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
প্রধান অতিথি, মাগুরা জেলা আইনগত সহায়তা কমিটির চেয়ারম্যান ও বিজ্ঞ জেলা দায়রা জজ শেখ মফিজুর রহমান বলেন, ‘’লিগ্যাল এইড মানে শুধু আইনি সহায়তা নয়, এটি একটি অধিকার। প্রতিটি মানুষকে আইনি সহায়তা দিতে সরকার প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। তৃনমূলে সেবা পৌঁছানোর লক্ষে কাজ করে চলেছে মাগুরা জেলা লিগ্যাল এইড কমিটি। উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে গঠিত আইনগত সহায়তা কমিটির মাধ্যমে নিয়মিত সক্রিয় কার্যক্রম চলছে। সকলের মিলিত প্রচেষ্টায় মাগুরাতে লিগ্যাল এইডের কার্যক্রম এখন সামাজিক আন্দোলনে পরিনত হয়েছে। তাই আমি বিশ্বাস করি আপনার-আমার সকলের মিলিত প্রচেষ্টায় প্রয়োজনীয় সকলের কাছে এ সেবা পৌছে যাবে। প্রতিটি অসহায় ও অসচ্ছল বিচারপ্রার্থী মানুষ বিনামূল্যে আইনগত সহায়তা পাবেন।’’
তিনি বলেন, ‘’বিরোধ হলে শুধু মামলা নয়, লিগ্যাল এইড অফিসে আপসও হয়’। যদি কোনও ব্যক্তি তার মামলাগুলো আপস মীমাংসার মাধ্যমে নিষ্পত্তি করতে চান, তাহলে তিনি জেলা লিগ্যাল এইড অফিসে শরণাপন্ন হতে পারেন। সেখানে দ্রুত সময়ের মধ্যে তার বিরোধ বা মামলা নিষ্পত্তির জন্য পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন দায়িত্বে থাকা বিচারক।’’
রাজাপুর ইউপি চেয়ারম্যানের সভাপতিত্বে আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, বিজ্ঞ চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, সিভিল সার্জন, জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ প্যানেল আইনজীবীগণ।
অনুষ্ঠানে লিগ্যাল এইড আইন এবং এ বিষয়ে সাধারণ আলোচনা করেন সহকারী জজ অনুশ্রী রায় এবং সমগ্র অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সহকারী জজ ইয়াসমিন নাহার।



