মাগুরানিউজ.কমঃ

একটা উইকেট পেলেন আনন্দ উল্লাসে ভেসে উঠবেন বোলার ফিল্ডাররা, এটাই নিয়ম; কিন্তু এ কী, উল্লাস তো দুরে থাক, ভারতীয় ক্রিকেটাররা সারি বেধে দাঁড়িয়ে গেলেন, সদ্য আউট হওয়া ব্যাটসম্যানটির সঙ্গে হ্যান্ডশেক করার জন্য! সে এক অভাবনীয় দৃশ্য!!
তবে, ঘটনার বর্ণনা শুনে যতটা না অবাক হবেন, তার চেয়েও বেশি বাস্তবতা উপলব্দি করতে পারবেন আউট হওয়া ব্যাটসম্যানটির নাম শুনে। তিনি কুমার সাঙ্গাকারা। ক্রিকেট ইতিহাসে ক্ষণকালের জন্য উদিত এক উজ্জ্বল দ্রুবতারা। যার রোশনাইতে শুধু দ্বীপদেশ শ্রীলংকা কেন, আলোকিত হয়ে উঠেছিল পুরো ক্রিকেট বিশ্বই।
অবশেষে, সময় আর নিয়মের কাছে হার মানতে হলো, যেমনটি হার মানতে হয় সব কিছুকেই। সেই দ্রুবতারাও শেষ পর্যন্ত আলো বিলাতে বিলাতে খসে পড়ল ক্রিকেটাকাশ থেকে। কুমার সাঙ্গাকারা নামক নক্ষত্রটি আর উদিত হবে না। রঙ্গিন পোষাক তো সেই বিশ্বকাপের পরই তুলে রেখেছিলেন। এবার সাদা পোষাককেও বিদায় জানিয়ে দিলেন। চিরতরে তুলে রাখলেন ব্যাট-প্যাড। বিদায় সাঙ্গাকারা!! বিদায়!!!
বিদায় কতই না করুণ! কেউ না চাইলেও নিয়ম মেনে বিদায় নিতে হবেই। সে বিদায়টাই নিয়ে নিলেন ক্ষণজন্মা, অসামান্য, অসাধারণ এক ক্রিকেটার, কুমার সাঙ্গাকারা। কলম্বো টেস্টের চতুর্থ দিনের খেলার বাকি খুব বেশি ছিল না (১৮ ওভার)। আরেকটু দেখে-শুনে খেললে হয়তো আরও একটা দিন সাদা পোষাকের সাঙ্গাকারাকে বাইশ গজে দেখতে পেতেন ভক্ত-দর্শকরা।
কিন্তু, রবিচন্দ্র অশ্বিনের হঠাৎ বেরিয়ে যাওয়া বলটি বুঝতেই পারেননি সাঙ্গা। খোঁচা দিতে গেলেন। ক্যাচ উঠে গেলো দ্বিতীয় স্লিপে। লুপে নিলেন মুরালি বিজয়। তাকে শ্রীলংকার ২য় উইকেটের পতন হয়ে গেছে, কিংবা জয়টা আরও ত্বরান্বিতও হয়ে গেছে ভারতের জন্য ঠিক; কিন্তু এক কিংবদন্তীকে ক্রিকেট মাঠের শেষ বিদায়টা জানতে কার্পণ্য করতে হবে কেন? করেননি ভারতীয় ক্রিকেটাররাও। সাঙ্গাকারাকে শেষ বিদায়টা তারা জানিয়ে নিজেদেরই যেন গৌরবান্বিত করে নিল।
আউট হওয়ার সাথে সাথে মুখটাও কেমন যেন মলিন হয়ে গেলো সাঙ্গাকারার। হেলমেট হাতে নিয়ে দ্রুত হাঁটলেন প্যালিভিয়নের দিকে। পুরো গ্যালারি তখন দাঁড়িয়ে। তুমুল করতালিতে শেষ বিদায় জানানো হলো শ্রীলংকার সত্যিকারের ‘দ্য লায়ন’কে।
শেষ দিকে মুখ তুলে গ্যালারির দিকে তাকিয়েছিলেন সাঙ্গা। হয়তো ওই চাহনিতে না বলা অনেক অভিব্যাক্তি। হয়তো শেষটায় এসে ভক্তদের ভালো কোন ইনিংস উপহার দিতে না পারার আক্ষেপ এবং সেই আক্ষেপ থেকে ক্ষমা চেয়ে নেওয়ার অব্যক্ত ভাষা। সবশেষে যখন প্যাভিলিয়নে ঢুকে যাবেন, তখন ব্যাটটা তুললেন। জবাব দিলেন দর্শক অভিবাদনের।
ড্রেসিংরূমের প্রবেশ পথে সার বেধে দাঁড়িয়ে শেষ শুভেচ্ছাটা জানানো হলো সাঙ্গাকারাকে। ছল ছল চোখে, ক্রিকেটকে বিদায় বলে সাঙ্গাকারা ঢুকে গেলেন ড্রেসিং রূমে।
২০০০ সালে গলে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে অভিষেক সাঙ্গাকারার। এর মাঝে খেলেছেন ১৩৪টি টেস্ট। ২৩৩ ইনিংসে রান করেছেন ১২ হাজার ৪০০। সেঞ্চুরি ৩৮টি। হাফ সেঞ্চুরি করেছেন, ৫২ টি। সর্বোচ্চ ৩১৯ রান। গড় ৫৭.৪০ করে।
একই মাঠে একই সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডে অভিষেক। এরপর খেলেছেন মোট ৪০৪টি ওয়ানডে। ৩৮০ ইনিংসে রান করেছেন ১৪ হাজার ২৩৪ রান। সর্বোচ্চ ১৬৯। সেঞ্চুরি: ২৫টি। হাফ সেঞ্চুরি: ৯৩টি। গড়: ৪১.৯৮ করে।
টেস্ট ক্রিকেটে ১০ হাজারের বেশি রান করেছেন, এমন ক্রিকেটারদের মধ্যে শিব নারায়ন চন্দরপলছাড়া শেষ ব্যাটসম্যান ছিলেন সাঙ্গাকারাই। শেষ পর্যন্ত তিনিও বিদায় নিয়ে নিলেন। চন্দরপলের ক্যারিয়ার প্রায় শেষ। অবসরের ঘোষণা না দিলেও, ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলে তিনি এখন ভ্রাত্য।

