মাগুরানিউজ.কমঃ
বিশেষ প্রতিবেদক-
মাগুরায় শীতে শিশুদের ডায়রিয়া ও শ্বাসকষ্টজনিত রোগের প্রকোপ বেড়েছে। প্রতিদিন সদর হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে গড় ৫০ জন শিশু ডায়রিয়া ও ঠাণ্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হচ্ছে। তবে শিশু ওয়ার্ডে শয্যা সংখ্যা ১০। ফলে অসুস্থ শিশুদের হাসপাতালের মেঝে ও বারান্দায় থেকে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে।
চিকিৎসকরা .মাগুরা নিউজ.কে জানান, ডায়রিয়ার জন্য রোটাভাইরাস ও নিউমোনিয়ার জন্য পরিবর্তিত আবহাওয়ায় দায়ী। বড়দের তুলনায় শিশুদের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কম হওয়ায় তারা বেশি আক্রান্ত হয়। তাদের উষ্ণ পরিবেশে রাখার পরামর্শ দিচ্ছেন।
এদিকে সদর হাসপাতালের বাইরে শহরের নবজাতক, আরোগ্যসহ বিভিন্ন ক্লিনিকে আরো শতাধিক শিশু ভর্তি হয়েছে। জেলার অন্য তিন উপজেলায়ও একই অবস্থা বিরাজ করছে।
হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা গেছে, শুধু গত দুদিনে ডায়রিয়া ও শ্বাসকষ্টজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে ৫৯ জন শিশু ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে ৩৮ জন ডায়রিয়া ও ২১ জন নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত। এদের অধিকাংশেরই বয়স তিন বছরের মধ্যে। তিন সপ্তাহ ধরে এ অবস্থা চলছে বলে হাসপাতাল সূত্র জানায়। এদিকে শয্যা সংখ্যা কম হওয়ায় প্রতিদিন এ ধরনের বিপুল সংখ্যক শিশুরোগী নিয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ হিমশিম খাচ্ছে।
সদর হাসপাতালে ভর্তি কিছু শিশুরোগীর অভিভাবক জানান, ট্রাক্সন নামের একটি ইনজেকশন ও উচ্চমাত্রার অ্যান্টিবায়োটিকসহ অধিকাংশ ওষুধই বাইরে থেকে কিনতে হচ্ছে তাদের।
তারা সেবিকাদের দফতর থেকে ওষুধের পরিত্যক্ত প্যাকেটের মোটা কাগজের স্লিপে লিখে দেয়া নানা ওষুধের নাম দেখান। এসব ওষুধ বাইরে থেকে কিনেছেন তারা। এর মধ্যে সদর হাসপাতালে সরবরাহ থাকার কথা, এমন ওষুধের নামও রয়েছে।
এ বিষয়ে মাগুরার সিভিল সার্জন এফবিএম আব্দুল লতিফ জানান, শিশুদের জন্য প্রয়োজনীয় সব ওষুধই হাসপাতাল থেকে সরবরাহ করা হয়। মাঝে কিছু ওষুধের সংকট হয়েছিল। সরবরাহ থাকা অবস্থায় কোনো ওষুধই বাইরে থেকে কেনার জন্য রোগীদের বলা হয় না। এ ধরনের কোনো অভিযোগও তিনি পাননি। সদর হাসপাতালে প্রয়োজন অনুযায়ী বরাদ্দ আসে। হাসপাতালটি ২৫০ শয্যায় উন্নীত করার কাজ চলছে বলে জানান তিনি।
শিশু বিভাগের কনসালট্যান্ট ডা. জয়ন্ত কুমার কুণ্ডু জানান, শয্যা সংকট ছাড়া ওষুধসহ কোনো কিছুরই সংকট নেই।


