মাগুরানিউজ.কমঃ
মাগুরাতে মাত্র দু’দিনের ব্যবধানে হঠাৎ করেই তাপমাত্রা নেমে এসেছে অনেক। বুধবার থেকে চলতি মৌসুমের এখন পর্যন্ত সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। আবহাওয়া কর্মকর্তারা আকাশে মেঘ না থাকলে এই তাপমাত্রা আরও কমতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
বুধবার থেকে মৃদু শৈত্য প্রবাহ শুরু হয়েছে। এটি আরও দুই থেকে তিন দিন অব্যাহত থাকতে পারে। এ সময় মাগুরা অঞ্চল ঘন কুয়াশার চাদরে ঢাকা থাকতে পারে। এরপর ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে মৃদু থেকে মাঝারি আকারের দু’টি শৈত্য প্রবাহ বয়ে যেতে পারে। আর জানুয়ারিতে বয়ে যেতে পারে মাঝারি থেকে তীব্র শৈত্য প্রবাহ।
এদিকে হঠাৎ করেই মৃদু শৈত্য প্রবাহ বয়ে যাওয়ায় চরম দুর্ভোগ শুরু হয়েছে। উত্তরের হাড় কাঁপানো ঠাণ্ডা বাতাসে ছিন্নমূল মানুষগুলো জবুথবু হয়ে পড়েছে। আকাশে মেঘ কেটে যাওয়ায় বুধবার সকাল থেকেই সূর্যের দেখা মিলছে। কিন্তু তার কিরণ উত্তাপ ছড়াতে পারেনি শীতবস্ত্রহীন মানুষগুলোর শরীরে।
ঠাণ্ডার দাপট বাড়ায় নিম্ন আয়ের মানুষগুলো শীতবস্ত্রের জন্য মহানগরীর ফুটপাথের দোকানগুলোতে হুমড়ি খেয়ে পড়ছেন। সামর্থবানরা ভীড় জমাচ্ছেন বিভিন্ন অভিজাত মার্কেটে। বিভিন্ন এলাকা ঘুরে অভিন্ন চিত্র লক্ষ্য করা গেছে বিজয় দিবসের এই সরকারি ছুটির দিনে।
চৌরঙ্গী মোড়ে শীতের তীব্রতা কথা জানিয়ে ছোটবনগ্রাম এলাকার গৃহিনী মুস্তারি বেগম বলেন, ‘আর বলেবেন না ভাই, হঠাৎ করেই কামড়ে বসেছে শীত। গত বছর আলমারীতে তোলা ছেলে- মেয়ের শীতের কাপড় এ বছরই ছোট হয়ে গেছে। কম দামে শীতের কাপড় কিনতে ফুটপাথ ছাড়া দ্বিতীয় জায়গা নেই। তাই এখান থেকেই ছেলে-মেয়ে এবং বৃদ্ধ শ্বশুর-শাশুড়ির জন্য শীতবস্ত্র নিচ্ছি।’
নতুন বাজার এলাকার কলেজছাত্রী মাহফুজা আনজুম ঝরা জানান, প্রতিবছর শীত পড়লেই ফুটপাতে বিদেশি কাপড়ের পসরা বসানো হয়। এখানে কম দামে ভালো কাপড় মেলে। তাই শীতের নিবারণের জন্য নিজের ও ছোট ভাই-বোনের জন্য গণকপাড়ায় থাকা পুরাতন কাপড়ের মার্কেটে এসেছেন তিনি।
অপরদিকে শীতের প্রকোপ বাড়ায় ঠাণ্ডাজনিত রোগও বেড়েছে। হাসপাতালে বাড়ছে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত নবজাতক শিশুর সংখ্যা। তীব্র শ্বাসকষ্ট নিয়ে ভর্তি হচ্ছেন অ্যাজমায় আক্রান্ত রোগীরাও।
এছাড়া প্রতি বছরই আবহাওয়া পরিবর্তনের সময় সর্দি-জ্বর ও কাশি হয়। এবারও তা-ই হচ্ছে। এতে ভয়ের কিছু নেই। তবে সমস্যা বেশি হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে বলে জানান চিকিৎসকেরা।


