মাগুরানিউজ.কমঃ
নির্বাচনের আগে শহরের উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে কী ভাবছেন তারা। মেয়র হলে কীভাবে মাগুরাকে আধুনিক শহরে রূপান্তর করবেন, কর্পোরেশনের দুর্নীতি, শহরের প্রধান সমস্যা জলাবদ্ধতা, কর্পোরেশনের আর্থিক সংকট মোকাবেলা ছাড়াও সেবামূলক প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সমন্বয়হীনতা দূর করবেন কীভাবে ইত্যাদি নানা বিষয়ে মাগুরা নিউজের পক্ষ থেকে প্রশ্ন রাখা হয়েছিল এই মেয়র প্রার্থীর কাছে। একান্ত আলাপচারিতায় আজ মাগুরা নিউজের মুখোমুখি আওয়ামী লীগ প্রার্থী খুরশিদ হায়দার টুটুল।মাগুরা নিউজকে খুরশিদ হায়দার টুটুল জানান পরিচ্ছন্ন, আধুনিক ও স্বাস্থ্যকর শহর প্রতিষ্ঠা করার পাশাপাশি তিনি দুর্নীতি, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে যুদ্ধ এবং নাগরিকদের নিরাপদ জীবন নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় সবকিছু করবেন। তিনি বলেন, বর্জ্য ও বৃষ্টির পানি নিষ্কাশন না হওয়ায় প্রতিনিয়ত মাগুরা শহরে দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। ফলে ভোগান্তিতে পড়েন শহরবাসী। তাই জলাবদ্ধতা নিরসনে যা যা করা প্রয়োজন, তার সব আমি করবো।
প্রথমে কোন বিষয়টিকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছেন জানতে চাইলে ছাত্র অবস্থায় রাজনীতিতে প্রবেশ করা এই নেতা বলেন, আমার প্রথম কাজ হচ্ছে নগরীকে পরিষ্কার রাখা। মাগুরা পৌরসভার প্রকৃত অবকাঠামো ও খালসহ বিভিন্ন সড়ক ও ফুটপাত অবৈধ দখলমুক্ত করা।
নাগরিকদের জন্য যানজটমুক্ত পরিচ্ছন্ন শহর উপহার দিতে নিজের অঙ্গীকারের কথা জানিয়ে তরুন এই নেতা আরো বলেন, আধুনিক মাগুরা গড়তে বেশকিছু পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে, শহরে সর্বসাধারণের জন্য একটি ওয়াইফাই জোন প্রতিষ্ঠা করা, নিরাপত্তা সৃষ্টি, বস্তি উন্নয়ন ও বঞ্চিত সম্প্রদায়ের মানবিক মর্যাদা ও সমতা বৃদ্ধি; সমস্যার জরুরি সমাধানে পদক্ষেপ গ্রহণ, ঐতিহ্য সংরক্ষণ, সন্ত্রাস প্রতিরোধ, ক্রীড়া ও চিত্তবিনোদনের ক্ষেত্র তৈরি, ধর্মপালন ও সুশাসন নিশ্চিত করা।
তিনি কর্পোরেশনে সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং সকলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করবেন বলে জানিয়েছেন। মাগুরা শহরকে ধনী ও দরিদ্র উভয়ের বাসযোগ্য করে গড়ে তোলা এবং সকলের অধিকার রক্ষায় কাজ করবেন বলেও প্রতিশ্রুতি দেন।
তিনি বলেন, আমি মাগুরা পৌরসভাকে উন্নয়নের মূল স্রোতের সঙ্গে মেলাতে চাই।
প্রথম শ্রেণীর ঠিকাদার এই ব্যবসায়ী আরো বলেন, মুক্তিযোদ্ধারা বাঙ্গালী জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান। তাদের কল্যানে পৌরসভায় একটি আলাদা ফান্ড গঠন করা হবে।
সরকার সমার্থিত দলের এই নেতা, পৌর এলাকার কৃষকদের উৎপাদিত কৃষিপন্য গুলো রাখতে একটি আধুনিক মানের হিমাগার স্থাপন ও শিশুদের বিনোদনের জন্য বিশেষ স্থান নির্ধারণ করে দেওয়া হবে বলেও জানান।
বিভিন্ন ওয়ার্ডে উন্নত ও অনুন্নত এলাকার মধ্যে বিদ্যমান যে বৈষম্য রয়েছে তা দূর করার উদ্যোগ নেওয়ার প্রতিশ্রতি দিয়ে তিনি বলেন, কেন্দ্রের বাইরে একটু দূরবর্তী স্থানে অবস্থিত ওয়ার্ডগুলো বৈষম্যের শিকার। এ অবস্থার পরিবর্তন দরকার। আমি সমন্বিত উন্নয়নের উদ্যোগ নেবো। মেয়র নির্বাচিত হলে প্রথম কাজই হবে উক্ত এলাকাগুলোর দিকে সঠিক সুবিধা প্রদান করে উন্নয়ন ত্বরান্বিত করা।
মাগুরাবাসীর উদ্দেশে কিছু বলবেন কি?
মাগুরাবাসীকে বিজয় দিবসের শুভেচ্ছা জানিয়ে খুরশিদ হায়দার টুটুল বলেন, আমি ও আমার পরিবারের আবেগ-ভালোবাসার প্রতি মানুষ সম্মান জানিয়ে ইতিমধ্যে যে সাড়া দিয়েছেন সে জন্য আমি কৃতজ্ঞ। দলমত-নির্বিশেষে সর্বস্তরের মানুষের কাছে দোয়া চাই। আমি আপনাদের সন্তান, আপনাদের পাশেই থাকতে চাই।
আধুনিক পৌরসভা গঠনের জন্য পৌরবাসীর সাহায্য, সহযোগিতা ও সমর্থন কামনা করে খুরশিদ হায়দার টুটুল বলেন, জননেত্রীর আস্থা ও সম্মান রক্ষায় চ্যালেঞ্জ নিয়েছি। আমরা সবাই মিলে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে হারানো পৌরসভা পুনরুদ্ধার করব।
৪৪.৩৬ বর্গকিলোমিটার আয়তনের মাগুরা পৌরসভার বাসিন্দা ১ লাখ ১২ হাজার। নির্বাচন কমিশনের হিসাব অনুযায়ী এ পৌরসভায় ভোটার রয়েছেন ৬৫ হাজার ৫৮৯ জন।
—–নির্বাচনী সংবাদ জানাতে ০১৮ ৫৫ ৪৮ ৫৫ ৩৮ নাম্বারে ফোন করুন। থাকুন মাগুরার সাথে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তি, আয়োজন, উদ্দোগ, বিবৃতি ই-মেইল করুন
maguranewsbd@gmail.com ।

