মাগুরানিউজ.কমঃ
বিশেষ প্রতিবেদন-
মঙ্গলবার অগ্নিঝরা মার্চের প্রথম দিন। এই মার্চের আন্দোলন-সংগ্রামের পথ বেয়ে এসেছে বাঙালির কাঙিক্ষত স্বাধীনতা। ইতিহাস সৃষ্টিকারী এই মাস বাঙালির হৃদয়ে চিরভাস্বর।
পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর দীর্ঘ ২৪ বছরের আন্দোলন-সংগ্রাম, শোষণ-বঞ্চনা, জেল-জুলুমের বিরুদ্ধে সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় এই মাসেই আসে বাঙালির কাঙিক্ষত স্বাধীনতার ঘোষণা।
তৎকালীন পূর্ব বাংলার গণমানুষের অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ৭ই মার্চ ঐতিহাসিক পল্টন ময়দানে ঘোষণা দেন,’সাত কোটি মানুষকে দাবায়ে রাখতে পারবা না। মরতে যখন শিখেছি, তখন কেউ আমাদের দাবায়ে রাখতে পারবে না। রক্ত যখন দিয়েছি, আরো দেবো। এ দেশের মানুষকে মুক্ত করে ছাড়বো ইনশাল্লাহ। এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম। জয় বাংলা।’
১৯৭১-এর ৭ মার্চ সাবেক রেসর্কোস ময়দান আজকের সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে দেয়া ওই ঐতিহাসিক ভাষণের সময় মুহুর্মুহু গর্জনে উত্তাল ছিলো জনসমুদ্র। লক্ষ কন্ঠের একই আওয়াজ উচ্চারিত হতে থাকে দেশের এ প্রান্ত থেকে অপর প্রান্তে। ঢাকাসহ গোটা দেশে পত পত করে উড়ছিল সবুজ জমিনের ওপর লাল সূর্যের পতাকা।
২৫শে মার্চ কালো রাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী নিরীহ বাঙালির ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। ২৬শে মার্চ আসে চূড়ান্ত স্বাধীনতার ঘোষণা। পুরো জাতি ঝাঁপিয়ে পড়ে মুক্তিযুদ্ধে। মুক্তির অদম্য স্পৃহায় উদ্দীপ্ত সমগ্র জাতি জীবন বাজি রেখে লড়াই চালিয়ে যেতে থাকে।
৯ মাস দীর্ঘ সংগ্রামে ৩০ লাখ শহীদের বিনিময়ে অর্জিত হয় বাঙালির কাঙিক্ষত স্বাধীনতা। এদিন ছাত্রলীগের একক নেতৃত্বে মুক্তিসংগ্রাম এগিয়ে নিতে স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়।


