বিমান বিধ্বস্ত হলে সাধারণত যাত্রীদের বেঁচে থাকার সম্ভাবনা ক্ষীণ। তারপরও এমন ঘটনায় বেঁচে থাকার নজির কম নয়। কিন্তু বিধ্বস্তের পরে যাদের ‘নিখোঁজ’ ও পরে ‘নিহত’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়, যাদের বেঁচে থাকার কোনো সম্ভাবনাই থাকে না, কয়েক দিন পরে তাদের যদি জীবিত অবস্থায় খুঁজে পাওয়া যায়, তবে এ ঘটনাকে অলৌকিক বলতে বাধা কোথায়?
এমন এক অলৌকিক ঘটনা ঘটেছে কলম্বিয়ায়। শনিবার দেশটির চোকো প্রদেশের রাজধানী কুইবডোর অদূরে গভীর জঙ্গলে সেসনা ৩০৩ নামের ছোট্ট একটি বিমান বিধ্বস্ত হয়। এই বিমানে ছিলেন নেলি মুরিলো (১৮)। তার সঙ্গে ছিল তার এক বছরেরও কম বয়সি ছেলে, যার নাম ইউদিয়ার মরেনো।
যে স্থানে বিমানটি বিধ্বস্ত হয়, তার কিছুটা দূরে বুধবার সন্ধান মেলে নেলি মুরিলো ও তার মেয়ের। ১৪ জন উদ্ধারকর্মী শনিবার থেকে উদ্ধারাভিযান চালিয়ে বুধবার মা-ছেলেকে উদ্ধার করে। তবে সোমবার বিধ্বস্ত বিমানের ভেতর থেকে পাইলটের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়।
এই ঘটনাকে যেমন অলৌকিক বলা হয়েছে, তেমনি মা ও ছেলেকেও অলৌকিক হিসেবে অভিহিত করেছে কলম্বিয়া কর্তৃপক্ষ।
কলম্বিয়ার বিমানবাহিনীর কমান্ডার কর্নেল হেক্টর কারাসক্যাল বলেছেন, এটি অলৌকিকতা। যেখানে বিমানটি বিধ্বস্ত হয়েছে, সেটি একটি বন এলাকা এবং দুর্ঘটনা ছিল ভয়াবহ। তার মতে, ‘মায়ের আত্মবিশ্বাসই বাঁচিয়ে রেখেছে তার শিশুকে।’
কলম্বিয়ার কর্মকর্তারা বলেছেন, শিশুটির মা নেলি মুরিলো আহত হয়েছেন। তার শরীরের কিছু অংশ পুড়ে গেছে। তবে তিনি আশঙ্কামুক্ত। মাকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। সবচেয়ে বড় কথা হলো- মা আহত হলেও শিশুটি একেবারে অক্ষত রয়েছে।
শনিবার কুইবডো থেকে নুকুই শহরে যাওয়ার পথে বিধ্বস্ত হয় বিমানটি।

