মাগুরানিউজ.কম:
বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ যথার্থই বলেছেন, ‘মানুষ তার স্বপ্নের সমান বড়।’ কিন্তু মানুষ বোধকরি মাঝে মাঝে তার স্বপ্নের চেয়েও দীপ্তিমান হয়ে ওঠে। তা না হলে ঊনআশি বছর বয়সেও কেন মানবিক স্বপ্নের জাল বুনে যাবেন দিল্লির পশ্চিম বিহারের মঙ্গলাপুরির বাসিন্দা ওঙ্কারনাথ শর্মা।
জীবনযুদ্ধের এই সংগ্রামী মানুষ আর দশ জনের মতো চাকরি করতেন। কিন্তু সময় তো তাকে ক্ষমা করবে না। তাই গিটটা আলগা করেন দিয়েছে। অবসরে তোকমা দিয়ে পাঠিয়ে দিয়েছে ঘরে। কিন্তু ওঙ্কারনাথ শোনেননি সময়ের কথা। তার স্বপ্নকে ই বড় করে দেখেছেন। মানুষের ভালো করার জন্য যার মন কাঁদে তিনি কেমন করে সময়ের কাছে নতি স্বীকার করবেন।
কাজ করতেন ব্লাডব্যাংকের একজন কর্মী হিসেবে। অভিজ্ঞতার ঝুলি নিয়ে নিজেকে সপে দিলেন মানবসেবায়। ধারণাটা নতুন হলেও তো তার স্বপ্ন। তিনি স্বপ্ন দেখেন দুঃস্থদের জন্য মেডিসিন ব্যাংক তৈরি করা। আর সেই জন্যই নেমে যান পথকে আপন করে। মহল্লার পর মহল্লা। বাড়ির পর বাড়ি। দ্বারে দ্বারে ছুটে যান উচ্চবিত্ত ও মধ্যবিত্তদের কাছে। তাদের কাছ থেকে ওষুধ সংগ্রহ করেন। এ জন্য সবাই তাকে ‘মেডিসিন বাবা’ বাবা হিসেবেই চেনে।
২০০৮ সাল থেকে শুরু। স্বপ্নের পথ ধরে ছুটে চলেন দৈনিক অন্তত ৮ কিলোমিটার। উদ্দেশ্য ওষুধ সংগ্রহ করা। কিন্তু মূল উদ্দেশ্য সম্পর্কে ওঙ্কারনাথ জানান, লক্ষ্মীনগর এলাকায় নির্মাণাধীন দিল্লি মেট্রো ব্রিজ যখন ভেঙে পড়েছিল, সেই সময় বহু মানুষকে যথাযথ চিকিৎসার অভাবে ভুগতে দেখেছেন। স্থানীয় হাসপাতালে গিয়ে অনেককে ওষুধ না পেয়ে ফিরে যেতেও দেখেছেন। এরপর থেকেই, তিনি সিদ্ধান্ত নেন এই নতুন পথ চলার।
ওষুধগুলো সংগ্রহ করে নিজের দিল্লির পশ্চিম বিহারের মঙ্গলাপুরির ভাড়া বাড়ির একটি ছোট্ট ঘরে রাখেন। আর প্রতিদিন বিকেল ৪টা থেকে সন্ধ্যে পর্যন্ত তা দরিদ্র মানুষদের প্রয়োজন অনুযায়ী বিলিয়ে দেন।
এছাড়া এইমস, রাম মনোহর লোহিয়া হাসপাতাল, দীন দয়াল উপাধ্যায় হাসপাতাল ছাড়াও অনেক আশ্রমেও ওষুধ পৌঁছে দেন ওঙ্কারনাথ।
তিনি মানুষকে সচেতন করতেন মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ সম্পর্কে। বাসে, ট্রামে ট্রেনে ঘুরে ঘুরে মানুষকে এ ব্যাপারে সচেতন করেছেন। দাঁড়িয়েছেন ক্যান্সার ও কিডনির রোগীদের পাশেও। ওঙ্কারনাথ যখন দেখেন তার দেয়া সামান্য ওষুধে একজন দরিদ্র মানুষ সুস্থ হয়ে উঠেছেন। তখন তিনি আরো বড় স্বপ্নে পেছনে দৌড়ান। এভাবে হয়তো একদিন ওঙ্কারনাথের স্বপ্নেরা মানুষের বুকের আকাশে তারা হয়ে জ্বলজ্বল করবে।
রাজীব মিত্র জয়
সম্পাদক, মাগুরা নিউজ


