মাগুরানিউজ.কমঃ
কুয়েতের শ্রমবাজার খুললো দীর্ঘ ৯ বছর পর বাংলাদেশি শ্রমিকদের জন্য । প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আমন্ত্রণে তিনদিনের সফরে মঙ্গলবার কুয়েতের প্রধানমন্ত্রী জাবের আল-মুবারক আল-হামাদ আল-সাবাহ ঢাকা এসে লাল গালিচা সম্বর্ধনায় সম্মানিত করা হয়। তার এই সফরের একদিন আগে সোমবার ৩ মে থেকে বাংলাদেশি শ্রমিক আমদানির উপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার ঘোষণা দিয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের তেল সমৃদ্ধ দেশটি।
বাংলাদেশি শ্রমিক নেয়ার বিষয়ে কুয়েতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিটিজেনশিপ ও পাসপোর্ট বিষয়ক এসিসটেন্ট আন্ডার সেক্রেটারি মেজর জেনারেল শেখ মাজিন আল জারাহ একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করেন। বিজ্ঞপ্তিতে কুয়েতের ছয়টি দফতর বাংলাদেশি শ্রমিকদের গৃহস্থালির কাজে নেয়ার অনুমোদন প্রদান করা হয়।
মঙ্গলবার কুয়েত টাইমস ও দুবাই ভিত্তিক সংবাদ মাধ্যম খবর খালিজ টাইমস কুয়েতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে জানায়, কিছু শর্তের ভিত্তিতে শুধুমাত্র বাংলাদেশি পুরুষ কর্মীদের কুয়েতে নেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। শর্তের মধ্যে রয়েছে কুয়েতের নাগরিকরা মাত্র একজন কর্মী আনতে পারবেন। একই পরিবারে একই দেশের একজন থাকলে ওই দেশে আর কাউকে আনতে পারবে না।
শর্তের মধ্যে নাগরিকদের অবশ্যই হাউস অনারশিপ ডিড থাকতে হবে। তার নামে বহু সংখ্যক কর্মী নিবন্ধন করা যাবে না। সোমবার থেকে এই বিজ্ঞপ্তিটি কার্যকর হয়েছে।
প্রসঙ্গত, বাংলাদেশি শ্রমিকরা ১৯৭৬ সালে প্রথমবারের মতো কুয়েতে যাওয়া শুরু করেন। এরপর বিভিন্ন সময়ে বিভিন্নভাবে ২০০৭ সাল পর্যন্ত দেশটিতে চার লাখ ৮০ হাজার বাংলাদেশি শ্রমিক চাকরি নিয়ে গেছেন। ২০০৬ সালের অক্টোবরে অলিখিত নিষেধাজ্ঞা জারি হয় বাংলাদেশি শ্রমিক নেওয়ার ওপর।
বাংলাদেশি শ্রমিকদের বিরুদ্ধে কিছু ‘অনিয়মের’ অভিযোগে ২০০৭ সাল থেকে বাংলাদেশ থেকে শ্রমিক নেওয়া পুরোপুরি বন্ধ করে দেয় কুয়েত সরকার। অবশ্য ব্যক্তি উদ্যোগে কিছু লোক নিয়মিত কুয়েতে গেলেও সংখ্যায় তা ছিল খুবই কম।


