৫০ বছরেও অমিমাংসিত সীমানা বিরোধ। মহম্মদপুরের ৫ মৌজা বোয়ালমারী উপজেলায়!

মাগুরানিউজ.কম: 
mn
রাজীব মিত্র জয়- 
বহুবছর ধরে একই সাথে বসবাস করছেন। থাকছেন একই বাড়িতে। একই চালের নিচে। অথচ একজন মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার ভোটার। অন্যজন ফরিদপুর জেলার বোয়ালমারীর। অবাক হলেও এটাই ঘটেছে মহম্মদপুরে। প্রশ্ন একটাই কবে তারা এ সমস্যা থেকে মুক্তি পাবে।
মাগুরার মহম্মদপুরের ৫টি মৌজা চলে যাচ্ছে ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলায়। মৌজাগুলো হচ্ছে ধুপুড়িয়া, জাঙ্গালিয়া, মুরাইল পশ্চিম খন্ড, চরবর্ণি ও রুইজানী। এসব মৌজার ভূমি সংক্রান্ত সকল কাগজপত্র যশোর জোনাল সেটেলমেন্ট থেকে ফরিদপুর জোনাল সেটেলমেন্ট অফিসে স্থানান্তর করা হয়েছে।
মহম্মদপুর উপজেলা সদর থেকে অর্ধ কিলোমিটারেরও কম দূরত্বে অবস্থিত ধুপুড়িয়া মৌজার অবস্থান। এ মৌজায় মধুমতি নদীপাড়ে অবস্থিত মহম্মদপুর থানা। থানাসহ এসব মৌজার জমিজমা সংক্রান্ত পর্চা তুলতে হলেও প্রায় ৪৫ কিলোমিটার দূরে ফরিদপুরে যেতে হচ্ছে। ফলে জনগণের ভোগান্তি বাড়ছে।
স্থানীয়রা মাগুরা নিউজকে জানান, ধুপুড়িয়া, জাঙ্গালিয়া, মুরাইল পশ্চিম খন্ড, চরবর্ণি ও রুইজানী গ্রামের অধিবাসীরা বংশানুক্রমে মহম্মদপুর উপজেলার অন্তর্গত। হাট-বাজারসহ তাদের নানাবিধ কার্যক্রম মহম্মদপুর কেন্দ্রিক। তারা মহম্মদপুরের অন্তর্গত থাকতে আগ্রহী। কিন্তু বিরোধপূর্ণ মৌজাগুলোর মালিকানার বিষয়ে কোনো সমাধান না হওয়ায় ২ জেলার সীমানা বিরোধ জটিলতা অমীমাংসিতই রয়ে গেছে।
নদী জরিপ ও সীমানা বিরোধ নিষ্পত্তি না হওয়ায় মধুমতি নদী বিচ্ছিন্ন মাগুরা জেলার মহম্মদপুর ও ফলিদপুর জেলার বোয়ালমারী এই দুই উপজেলার সীমান্তে বসবাসকারী ৫টি গ্রামের নদী সিকস্তি প্রায় ৫০ হাজার মানুষ তাদের লক্ষাধিক বিঘা জমির মালিকানা স্বত্ব বুঝে পাচ্ছেন না। এসব জমির অধিকাংশই চলে গেছে প্রভাবশালীদের দখলে। ফলে উত্তরাধিকার সুত্রে পাওয়া জমির ন্যায্য মালিকানা থেকে বঞ্চিত হতে হয়েছে নদী পাড়ের এবং উভয় উপজেলার সীমান্তের সহস্র পরিবার। এ কারণে সীমান্তবর্তী লোকজন আজো মহা-দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন।
মহম্মদপুরের ৫টি মৌজা ফরিদপুরের অংশ দাবি করে ২০০৩ সালে দায়ের করা একটি মামলা হাইকোর্টে বিচারাধীন রয়েছে। বিবাদমান মৌজায় বসবাসকারী লোকজন জমির পর্চা, জমি ক্রয়-বিক্রয়, বিবাহ রেজিস্ট্রি, জন্ম নিবন্ধন, ব্যাংক ঋণ, ভোটার নিবন্ধন ও স্থায়ী ঠিকানা তৈরি করতে পারছেন না। এতে তাদের প্রশাসনিক ও সামাজিক সমস্যা দিন দিন জটিল হয়ে পড়ছে।
ভূমি আইন অনুযায়ী, নদী ভাঙনে বিলীন হওয়া জমি পুনরায় জেগে উঠলে জেলা প্রশাসক সেই ভূমির দখল নেবেন এবং জরিপ করে নকশা তৈরি করবেন। এরপর যে মালিক ওই ভূমির অধিকারী তার কাছে হস্তান্তর করবেন। কিন্তু নদী জরিপ না হওয়া এবং প্রশাসন জমির দখল না নেয়ায় স্থানীয় প্রভাবশালীরা ভূমির দখল নিয়ে চাষাবাদ করছেন। এতে প্রকৃত ভূমি মালিকরা ভূমির অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
অনুসন্ধানে জানাগেছে, উপজেলার সীমান্তবর্তী ফরিদপুর জেলার বোয়ালমারী ও আলফাডাঙ্গা উপজেলার ময়না, গুনবহা, বানা ও পাচুড়িয়া ইউনিয়ন মহম্মদপুর উপজেলার অন্তর্গত ছিলো।
১৯৬২ সালে প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে ইউনিয়নগুলো ফরিদপুরের মধ্যে নিয়ে যাওয়া হয়। এসব ইউনিয়নের জমি জমার সকল নথিপত্র ফরিদপুর সেটেলমেন্টে স্থানান্তর করা হয়। তখন থেকেই থেকেই সমস্যার সূচনা। যা ক্রমে মানুষের অসহনীয় দুর্ভোগের কারণ হয়ে উঠতে থাকে।
অর্ধশতাব্দি ধরে প্রমত্তা মধুমতি নদীর ভাঙা-গড়ার খেলায় ফরিদপুরের মূল ভূখন্ডের সাথে মহম্মদপুর উপজেলার সীমানায় বিশাল চর জাগতে শুরু করে। স্থায়ী এসব চর উপজেলার মূল ভূখন্ড থেকে মধুমতি নদীদ্বারা বিচ্ছিন্ন। জেগে ওঠা এসব চরের জমির মালিকানা নিয়ে দ্বন্দ্ব স্থায়ীরূপলাভ করে; এমনকি হাইকোর্ট পর্যন্ত গড়ায়।
১৯৯৪ সালে ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার ময়না ইউনিয়নের জনসাধারণ হাইকোর্টে মহম্মদপুর উপজেলার ৫টি মৌজা নিজেদের দাবি করে রীট পিটিশন দায়ের করে।
৫ দশক ধরে উপজেলার বিরোধপূর্ণ ৫টি মৌজার প্রায় ১০ হাজার মানুষ জানেন না তাদের স্থায়ী ঠিকানা কোথায়। এমনকি প্রায় একশ’ বছর আগে প্রতিষ্ঠিত মহম্মদপুর থানা ভবন বিরোধপূর্ণ ধুপুড়িয়া মৌজায় অবস্থিত।
এই মৌজায় এক হাজার ২শ’২৩ জন ভোটার রয়েছেন। এদের মধ্যে একশ’২০টি পরিবার পাওয়া গেছে- যারা একই বাড়িতে এক  চালের নিচে বসবাসকারী স্বামী-স্ত্রী,  সহোদর; অথচ একজন মাগুরা অন্যজন ফরিদপুর জেলার ভোটার।
এসব মৌজায় বসবাসকারী লোকজন জমির পর্চা, জমি ক্রয়-বিক্রয়, বিবাহ রেজিস্ট্রি, জন্ম নিবন্ধন, ব্যাংক ঋণ, ভোটার নিবন্ধ ও স্থায়ী ঠিকানা তৈরি করতে পারছেন না। এতে তাদের প্রশাসনিক ও সামাজিক সমস্যা জটিল আকার ধারণ করছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

June ২০২৬
Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
« May    
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০  

ফেসবুকে আমরা

বিভাগ

দিনপঞ্জিকা

June ২০২৬
Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
« May    
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০  
%d bloggers like this: