স্পোর্টস ডেস্ক: মঙ্গলবার ফরতালেজার স্তাদিও কাস্তেলাওয়ে মেক্সিকোর গোলবারের নিচেঅলঙ্ঘনীয় এক দেয়াল হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন ওচোয়া। আর এই দেয়ালে বিফল হয়েছে ব্রাজিলের ফরোয়ার্ডদের দুর্দান্ত কিছু আক্রমণ।ওচোয়া-দেয়াল ডিঙিয়ে গোলের দেখা পাননি নেইমার-ফ্রেড-অস্কাররা।
ব্রাজিলের বিপক্ষে ম্যাচটিতে গোলমুখে আসা ৮টি বল আটকেছেন ওচোয়া। চারটি সেভ ছিল অসাধারণ। এই চারটির মধ্যে আবার এমন তিনটি সেভ ছিল, যেগুলোর জন্য কোনো বিশেষণই আসলে যথেষ্ট নয়।হতাশার আগুনে ব্রাজিলকে ওচোয়া প্রথম পোড়ায় ২৬তম মিনিটে। রাফায়েল মার্কেসের চেয়ে লাফিয়ে উঠে দারুণ এক হেড করেন নেইমার। পোস্ট ঘেঁষে বল যাচ্ছিলো জালে। কিন্তু ওচোয়া ঝাঁপিয়ে পড়ে ঠেকালেন তা।
ম্যাচের সেরা এই সেভটিকে অনেকে তুলনা করতে শুরু করেছেন ছেষট্টির বিশ্বকাপে পেলেকে গোল-বঞ্চিত করা ইংল্যান্ডের গোলরক্ষক গর্ডন ব্যাঙ্কসের সেই বিখ্যাত সেভটির সঙ্গে।
এই সেভটিকে ওচোয়া নিজেও ম্যাচ সেরার স্বীকৃতি দেন, “নেইমারের হেডটি খুব জটিল ছিল। এটা খুব জোরালো এবং পোস্টের কাছাকাছি ছিল।”
এর পর পাউলিনিয়ো আর চিয়াগো সিলভার প্রচেষ্টাও ফিরে এসেছে ওচোয়া-দেয়ালে বাধা পেয়ে। নেইমারকে আরো
একবার গোল-বঞ্চিত করেন তিনি।
ম্যাচ শেষে তাদের প্রিয় মেমোকে ত্রাতার স্বীকৃতি দেন সতীর্থরা। সবার পক্ষ থেকে এটি জানান মেক্সিকোর অধিনায়ক মার্কেস। আর কোচ মিগেল এররেরার কাছে তিনি ‘নায়ক’।
“আমরা যা প্রত্যাশা করেছি, সে তাই করেছে। অসাধারণ সব সেভ করেছে ও। বিশ্বকাপে মেক্সিকোর আর কোনো গোলরক্ষক এটা করতে পেরেছে বলে আমি মনে করতে পারছি না।”
দ্বিতীয় বিভাগে নেমে যাওয়া ফ্রান্সের ক্লাব আজাক্সিওর গোলরক্ষক ছিলেন ওচোয়া। বিশ্বকাপে আসার আগেই ক্লাবের সঙ্গে চুক্তি শেষ হয়েছে তার। ক্লাবহীন ওচোয়া দুর্দান্ত এই পারফরম্যান্সের পর প্রতিপক্ষ কোচেরও প্রশংসায় ভাসেন।
তবে সবচেয়ে বড় প্রশংসা বোধহয় এসেছে মেক্সিকোর ফুটবল সমর্থকদের কাছ থেকে। ম্যাচ শেষে কয়েকজন ভক্ত অনলাইন মুক্তকোষ উইকিপিডিয়ায় ওচোয়ার পাতাতে লেখে দিয়েছিলেন ‘মেক্সিকোর যিশু’।

