মাগুরানিউজ.কমঃ
মাগুরার মহম্মদপুরের ৩টি গ্রামে গত ৩ সপ্তাহে আলাদা সহিংসতায় ধ্বংসস্তুপে পরিণত হয়েছে ৩টি গ্রাম। ছিন্নভিন্ন হয়ে গেছে ঘর-সংসার। উপজেলার বড়রিয়া, বালিদিয়া ও রামকৃষ্ণপুর গ্রামে দুর্যোগ পরিস্থিতি বিরাজ করছে। এ ৩টি গ্রামের অন্তত: ৭৫টি বাড়িতে ব্যাপক ভাংচুর, লুটপাট ও আগুনে পুড়িয়ে দেয়ার ঘটনা ঘটেছে। এসব তান্ডবে ৪ পুলিশসহ শতাধিক ব্যক্তি আহতও হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ১২১ রাউন্ড সর্টগানের গুলি ও গ্যাস নিক্ষেপ করে।
আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ধ্বংসস্তুপ বড়রিয়া গ্রাম : ১৩ অক্টোবর সকালে উপজেলার বড়রিয়া গ্রামে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে স্থানীয় আওয়ামীলীগ ও বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যকার তান্ডবে ২৫টি বাড়িতে ব্যাপক ভাংচুর, লুটপাট ও আগুন দেয়ার ঘটনায় কোটি টাকার সম্পদের ক্ষতি সাধিত হয়েছে। আহত হন ২৫ ব্যক্তি। আওয়ামীলীগ নেতা কাজী আবজাল হোসেন ও বিএনপি নেতা শাহাজান সরদারের কয়েক হাঁজার সমর্থকরা ধ্বংসযজ্ঞে উন্মত্ত্ব হয়ে ওঠেন। এ ঘটনায় ৪টি মামলা হওয়ার পর থেকে গোটা গ্রাম পুরুষ শূণ্য হয়ে পড়েছে। ছিন্নভিন্ন হয়ে যাওয়া বাড়িঘর পাহারা দিচ্ছেন নারী ও শিশুরা। দুই গ্রুপের ভয়াবহ তান্ডবের পর উপজেলার বড়রিয়া গ্রামজুড়ে শ্মশানের নিরবতা বিরাজ করছে। তান্ডবে নহাটা, বালিদিয়া, নিখড়হাটা, মৌশা ও কানাইনগরসহ ৮ গ্রামের মানুষ উভয় গ্রুপের হয়ে হামলা-পাল্টা হামলায় অংশ নিলে বেসামাল পরিস্থিতিতে পুলিশ ৩৩ রাউন্ড সর্টগানের গুলি এবং ৩ রাউন্ড গ্যাস নিক্ষেপ করে।
সহিংসতার আগুনে পুড়লো বালিদিয়া গ্রাম : গত ৩ নভেম্বর উপজেলার বালিদিয়া গ্রামে ইউপি চেয়ারম্যান মফিজুর রহমান মিনা ও ইউনুস শিকদারের সমর্থকদের মধ্যে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই দফায় দুই পক্ষের উন্মত্ত্ব সহিংসতায় ৪০টি বাড়ি ও দোকানে ব্যাপক ভাংচুর, লুট ও আগুনে পুড়িয়ে দেয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় সংঘর্ষে ও সংঘর্ষ ঠেকাতে গিয়ে ৪ পুলিশসহ ৩৫ ব্যক্তি আহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ দুই দফায় ৮৫ রাউন্ড গ্যাস ও সর্টগানের গুলি বর্ষণ করে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখাগেছে, দুই দফায় অন্তত: ৪০টি বাড়ি ও দোকানপাটে হামলা, ভাংচুর ও লুটপাট শেষে আগুনে পুড়িয়ে দিয়েছে। বালিদিয়া উত্তরপাড়াজুড়ে শুধুই পোড়াগন্ধ ও ধ্বংসযজ্ঞের চিহ্ন। চারিদিকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে পুড়ে কয়লা হওয়া ধ্বংসাবশেষ। সর্বস্ব ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ৪০টি পরিবারে হাহাকার-কান্নাররোল। মাথা গোঁজার ঠাই পুড়ে যাওয়ায় ২০টি পরিবারের সদস্যরা খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবন-যাপন করছেন। এসব পরিবারের পানি খাওয়ার একটা পাত্র পর্যন্ত নেই। স্বজনদের পাঠানো এক বেলার খাবার খাচ্ছেনা তারা। ক্ষেত-খামার, চাষাবাদ সব বন্ধ হয়ে গেছে। শিশুদের বই-খাতা পুড়ে যাওয়ার কারণে তাদের স্কুলে যাওয়া বন্ধ হয়ে গেছে। গবাদি পশুগুলো রয়েছে অভূক্ত। উপজেলার বালিদিয়া গ্রামে প্রভাব বিস্তারের জের ধরে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মফিজুর রহমান মিনা ও ইউনুস শিকদারের সমর্থকরা দুই দফায় ওই ধ্বংসযজ্ঞ চালায়। এদনি সকাল ও রাতের ধ্বংসলীলায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে বলে স্থানীয়রা জানান। গোটা গ্রামজুড়ে দুর্যোগ পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
দুই পক্ষের হামলায় তছনছ রামকৃষ্ণপুর গ্রাম : ৫ নভেম্বর সকালে উপজেলার রামকৃষ্ণপুর গ্রামে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে দুই গ্রুপের হামলায় ১৫টি বাড়িতে ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ৫ ব্যক্তি আহত হন। আরিফ মোল্যার সাথে তার ভাতিজা রফিক মোল্যার মধ্যে জমজমি নিয়ে বিরোধের জের ধরে দুই গ্রুপের সমর্থকরা হামলায় জড়িয়ে পড়েন। এ সময় ১৫টি বাড়িতে ভাংচুর ও লুটের ঘটনা ঘটে। আহত হন ৫ ব্যক্তি।
মহম্মদপুর থানার ওসি মতিয়ার রহমান বলেন, পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক।




