মাগুরানিউজ.কমঃ
সিটি নির্বাচনের ডামাডোলের মধ্যে স্বাধীনতা দিবসের আগে হরতাল ছেড়ে গণমিছিলের কর্মসূচিতে আসা বিএনপির নামে পাঠানো নতুন বিবৃতিতে অবরোধের কোনো ঘোষণা নেই।
শনিবার বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব বরকতউল্লাহ বুলুর নামে যে বিবৃতিটি গণমাধ্যমে এসেছে, তাতে রোববার সারাদেশে গণমিছিলের কর্মসূচি দেওয়া হয়েছে। বিডি নিউজ।
আগের বিবৃতিতে অবরোধের সঙ্গে মিছিলের কর্মসূচির উল্লেখ না থাকলেও এবার অবরোধের কথা বাদ পড়েছে বিবৃতির ভাষায়। অবশ্য হরতাল-অবরোধের কার্যকারিতা বেশ কিছুদিন ধরে দেখা যাচ্ছে না।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়ে গ্রেপ্তারের পর বিএনপির অন্যতম যুগ্ম মহাসচিব সালাহ উদ্দিন আহমেদসহ সারাদেশে বিরোধীদলীয় গুমকৃত নেতা-কর্মীদেরকে সুস্থ ও অক্ষত অবস্থায় তাদের পরিবারের নিকট ফেরত দেওয়ার দাবিতে এবং নেতা-কর্মীদের হত্যা ও গণগ্রেপ্তারের প্রতিবাদে আগামীকাল ২৯ মার্চ, রোববার দেশব্যাপী সকল জেলা, উপজেলা, থানা, পৌরসভা ও সকল মহানগরের থানায় থানায় ২০ দলীয় জোটের উদ্যোগে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হবে।”
নির্দলীয় সরকারের অধীনে মধ্যবর্তী নির্বাচনের দাবিতে ৫ জানুয়ারি খালেদা জিয়া লাগাতার অবরোধ ডাকার পর
ওই দাবি আদায়ে ফেব্রুয়ারির শুরু থেকে বিবৃতি পাঠিয়ে সপ্তাহের পাঁচ দিন হরতালের বার্তা দেওয়া হচ্ছিল।
সর্বশেষ ১৩ মার্চ সংবাদ সম্মেলনে এসে খালেদা জিয়া আন্দোলন কর্মসূচি অব্যাহত রাখার কথাই বলেছিলেন। তারপর থেকে অবরোধের সঙ্গে হরতালের বিবৃতিও যথারীতি আসছিল।
২১ মার্চ বুলুর নামে আসা বিবৃতিতে ২৫ মার্চ বুধবার ভোর পর্যন্ত হরতালের বার্তা ছিল। এরপর ২৪ মার্চ আসা বিবৃতিতে তার ব্যতিক্রম দেখা যায়, দেওয়া হয় মিছিলের কর্মসূচি। তবে ২৪ মার্চের ওই বিবৃতিতে অবরোধের উল্লেখ ছিল।
কিন্তু শনিবার যে বিবৃতিটি এসেছেম তাতে হরতাল-অবরোধের কোনো উল্লেখ নেই।
বিবৃতি পাঠিয়ে ডাকা হরতাল-অবরোধে এসএসসি পরীক্ষা পেছালেও সারাদেশে কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষা কার্যক্রম এবং অফিস-আদালত খোলাই থাকছে। সড়ক, নৌ ও রেলপথে চলাচলও রয়েছে।
শুরুতে অবরোধ-হরতালে পেট্রোল বোমা ও গাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটতে থাকলেও আড়াই মাস পর তা অনেকটাই কমে এসেছে।
নির্দলীয় সরকারের দাবি প্রত্যাখ্যানকারী ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতারা বলে আসছেন, জনগণ বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের কর্মসূচি প্রত্যাখ্যান করেছে বলে হরতাল-অবরোধে এখন স্বাভাবিক সময়ের মতো যানজট দেখা যায় সড়কে।
নির্দলীয় সরকারের অধীনে মধ্যবর্তী নির্বাচনের দাবিতে ৫ জানুয়ারি খালেদা জিয়া লাগাতার অবরোধ ডাকার পর ২০ দলের পক্ষে ১ ফেব্রুয়ারি থেকে হরতাল ডাকেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
রিজভী গ্রেপ্তার হওয়ার পর আরেক যুগ্ম মহাসচিব সালাহ উদ্দিন আহমেদের নামে প্রতি সপ্তাহের পাঁচ দিন হরতাল ডেকে দুই দফা বিবৃতি আসতে থাকে গণমাধ্যমে।
গত ১০ মার্চ সালাহ উদ্দিন ‘নিখোঁজ’ হওয়ার পর হরতালের বিবৃতি আসতে থাকে বুলুর নামে। তবে সালাহ উদ্দিনের মতো তিনিও বিবৃতি পাঠাচ্ছেন অজ্ঞাত স্থানে থেকে।
এসএসসি পরীক্ষার মধ্যে হরতাল-অবরোধ চালিয়ে গেলেও বিশ্বকাপ ক্রিকেটে বাংলাদেশ কোয়ার্টার ফাইনালে উন্নীত হওয়ার পর ১০ মার্চ ১২ ঘণ্টার জন্য হরতাল শিথিল করা হয়েছিল, তবে সেই বিবৃতিটি পাঠিয়েছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান।


