সেলফোনের ক্ষতিকর প্রভাব ও প্রতিকার, জানালো সিএলএনবি

মাগুরানিউজ.কমঃ 

imagesমোবাইল ফোনসেট ও টাওয়ারে মানুষ এবং অন্যান্য প্রাণিদেহে যে ক্ষতিকর প্রভাব ফেলছে এবং এ প্রভাব এড়াতে সম্ভাব্য সমাধান তুলে ধরেছে কোয়ালিশন অব লোকাল এনজিও’স বাংলাদেশ (সিএলএনবি)।

মঙ্গলবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে সিএলএনবি আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য তুলে ধরেন সংগঠনের চেয়ারম্যান হারুনূর রশিদ।

এতে লিখিত বক্তব্যে হারুনূর রশিদ বলেন, সেলফোন অর্থাৎ মোবাইল ফোনসেট এবং মোবাইল টাওয়ার থেকে অনবরত তড়িৎ-চুম্বকীয় বল রেডিয়েশন হচ্ছে। মোবাইলের নন-আয়নাইজড রেডিয়েশন এক ধরনের তাপ সৃষ্টি করে। যা খাবার গরম করার মাইক্রোওয়েভ ওভেনের মতো। এই রেডিয়েশন শরীরের জীব কোষ পুড়িয়ে দেয়। এজন্য আইন প্রণয়ন করে প্রযুক্তির মাধ্যমে তা নিয়ন্ত্রন করতে হবে।

তিনি বলেন, মোবাইল রেডিয়েশনের ফলে জনস্বাস্থ্যের ওপর মারাত্মক প্রভাব পড়ছে। যার মধ্যে কান্সার (Carcinogenic), মস্তিস্কে টিউমার (Glioma), ব্রেনের টিউমার (Meningioma), গর্ভপাত, স্পার্ম কাউন্ট কমে যাওয়া, ডিএনএ বিনষ্ট হওয়া, দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়া, স্মৃতিশক্তি বিনষ্ট হওয়া, স্নায়ুশক্তির দূর্বলতা, হতাশা, অবসাদ বা ক্লান্তি, মাথাব্যাথা, বিরক্তি ভাব, ঘুমের সমস্যা, বমি বমি ভাব, দুর্বলতা ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।

মোবাইল টাওয়ার রেডিয়েশনে পরিবেশের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, টাওয়ার থেকে রেডিয়েশনের ফলে বছরে একবার বা দুইবার প্রজনন সক্ষম প্রাণী তথা কাঠবিড়ালী, বাদুড়, পাখি, ময়না, ইষ্টিকুটুম, মাছরাঙা, টুনটুনি, শালিক, দোয়েল, বাবুই, কাক, ফিঙ্গে ও বুলবুলি প্রায় বিলুপ্তির পথে।

এর প্রভাবে পাখিদের ডিম নষ্ট বা প্রজনন হারাচ্ছে। গাছের পাতা শুকিয়ে যাচ্ছে। গাছগাছালির রোগ বালাই বেড়ে গেছে। পাতা শুকিয়ে এবং গাছও মরে যাবার উপক্রম হয়েছে।

ক্ষতিকর প্রভাবের সম্ভাব্য সমাধানের উপায়গুলো উল্লেখ করে তিনি বলেন, অতি দ্রুত  স্পেসিফাইস অ্যাবসরপ্শন রেট (এসএআর) নির্ণয় করতে হবে। প্রত্যেকটি টাওয়ার স্থাপনের ক্ষেত্রে পরিবেশ অধিদপ্তর এবং বিটিআরসির ছাড়পত্র বাধ্যতামূলক করতে হবে।

তিনি বলেন, প্রতিটি মোবাইল সেট অতিমাত্রায় বিকিরণ ছড়ায়। সেক্ষেত্রে পাওয়ার ইনটেনসিটি ওয়াট/কেজি নির্ধারণ করে পরীক্ষা পূর্বক ছাড়পত্র প্রদান করতে হবে।  মোবাইল সেটে ট্যাগ লাগানো বা সতর্কীকরণ বিজ্ঞপ্তি লিখতে হবে।

মোবাইল টাওয়ার স্থাপনের ক্ষেত্রে নিউট্রালাইজার ব্যবহার বাধ্যতামূলক করতে হবে। বিটিআরসি আইন ২০০১ এর ধারা ৩০.২ (ণ), ধারা ৩১.১, ধারা ৩৪ (ঘ), ধারা ৩৬ (ঙ), ধারা ৩৭, ধারা ৫৮ বাস্তবিক প্রয়োগ এবং বাংলাদেশ পরমানু শক্তি নিয়ন্ত্রন আইন ২০১২ সংশোধন করতে হবে। এছাড়া পরিবেশ আইন ১৯৯৫ বলে বিধি প্রণয়ন ও ছাড়পত্র প্রদান করতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলী ম. এনামূল হক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট সদস্য ও প্রশিকার পরিচালক নার্গিস জাহান বানু, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক সাইফুল ইসলাম শিশির, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মিহির বিশ্বাস, বাংলাদেশ ভূমিহীন সমিতির সাধারণ সম্পাদক সুবল সরকার, এইএসএল’র সহকারী পরিচালক তড়িৎ প্রকৌশলী পরমা জাহান, পরিবেশ বিজ্ঞানী মাসুদ গাজী, বিশিষ্ট দার্শনিক আবু মহি মুসা, সিএলএনবি’র নির্বাহী সাধারণ সম্পাদক শামীম রেজা, প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি শামছুল আলম, জাতীয় গণতান্ত্রিক লীগের সভাপতি এম.এ জলিল প্রমুখ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

June ২০২৬
Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
« May    
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০  

ফেসবুকে আমরা

বিভাগ

দিনপঞ্জিকা

June ২০২৬
Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
« May    
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০  
%d bloggers like this: