মাগুরানিউজ.কমঃ
মাগুরায় এই প্রথম বারের মত চাষ হয়েছে পানি ফল। শালিখা উপজেলার কুশখালী গ্রামের বিল এলাকার ২৫ বিঘা জমিতে চাষ হয়েছে সুস্বাদু এ ফলের। ফলটির ব্যাপক চাহিদা ও লাভজনক বাজার থাকায় ক্রমাগত এটির প্রতি আগ্রহ বাড়ছে অন্যদের। এছাড়া এর ফলে কর্মসংস্থান হয়েছে এলাকার অনেক বেকার মানুষের।
জেলার শালিখা উপজেলার কুশখালি বিল এলাকার জলাশয়গুলো অতীতে পতিত হিসাবেই থাকতো। পতিত এ জলাশয় লিজ নিয়ে জামিরুল ইসলাম নামে একজন কৃষক প্রথম বারের মত চাষ করেছেন এই পানি ফলের। প্রতিটি জলাশয়েই কচুরিপানার মত ছোট ছোট জলজ গাছে শোভা পাচ্ছে লাল খয়েরীর সাথে হালকা সবুজাভ পানি ফল। এলাকার অসংখ্য মানুষ সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ব্যস্ত রয়েছেন পানি ফল তোলার কাজে। যা স্থানীয় বাজারসহ সরবরাহ হচ্ছে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে।
পানি ফল চাষী জামিরুল ইসলাম জানান- তিনি সাতক্ষীরা থেকে প্রথম বারের মত মাগুরায় এ চাষ নিয়ে এসেছেন। জমি লিজ নিয়ে তিনি চাষ শুরু করেছেন। প্রতি বিঘা জমিতে পানি ফল চাষ করতে তার খরচ হচ্ছে ৫০ হাজার টাকা। যা থেকে উৎপাদিত ফল তিনি ১ লাখ টাকায় বিক্রি করছেন। এ ছাড়া পানি ফল চাষের কারনে এলাকার শতাধিক লোকের কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় তিনি এ ফল সরবরাহ করছেন বলে জানান জামিরুল।
এলাকার কৃষি শ্রমিক শরিফূল ইসলাম, নায়েব আলীসহ একাধিক ব্যাক্তি জানান- পানি ফল চাষের কারনে এলাকার বেকার সমস্যা সমাধান হযেছে। সকাল ৮ টা থেকে দুপুর ১ টা পর্যন্ত এ কাজে সময় দিয়ে ২০০ টাকা করে আয় হচ্ছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী অমল কুমার জানান- পানি ফল খুব সুস্বাদু অনেকটা তালের শ্বাসের মত খেতে। এতে জলের পরিমান বেশি থাকায় পিপাসা নিবারণ হয়। যে কারনে মাগুরাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় এ ফলের ব্যাপক চাহিদা সৃষ্টি হয়েছে। তিনি কুশখালী বিল থেকে ৮০০ থেকে ১০০০ হাজার টাকা মণ দরে এ ফল কিনে ১৫ থেকে ১৮০০ টাকায় বিক্রি করছেন।
মাগুরার জেলা কৃষি প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা, সোহরাব হোসেন জানান, পানি ফল একটি লাভজনক ফসল। মাগুরা এলাকায় পূর্বে এ চাষ হত না। বর্তমানে সীমাখালীর কুশখালী বিল এলাকার ২৫ থেকে ৩০ বিঘা জমিতে প্রথমবারের মত এটি চাষ হয়েছে। বিঘা প্রতি চাষে ৫০ হাজার টাকা খরচ হয় এবং ১ লাখ ২০ হাজার টাকা বিক্রি হয়। লাভজনক ফসল হওয়ায় এলাকার কৃকষরা আগামীতে এ চাষে ব্যপক আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।


