মাগুরানিউজ.কমঃ
খুলনার টেস্টের প্রথম দিন শেষে মাহমুদুল্লাহ জানিয়েছিলেন, বড় স্কোর গড়তে হলে দুই অপরাজিত ব্যাটসম্যান তামিম ও সাকিবকে দ্বিতীয় দিনের প্রথম সেশনটা ভালোভাবে খেলতে হবে। প্রাক্তন ডেপুটির কথা মতো কাজটিও হলো। মঙ্গলবার দ্বিতীয় দিনে দুই বন্ধু তামিম ও সাকিব শুধু দায়িত্ব নিয়ে খেলেননি, বাংলাদেশকে বড় স্কোর গড়তে সাহায্য করেছেন। খুলনার মাটিতে দুই ব্যাটসম্যানই জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে শতক তুলে নেন। তাদের ব্যাটিংয়ের উপর ভর করে সফরকারীদের রানের পাহাড়ে চাপা দেয় বাংলাদেশ।
প্রথম ইনিংসে মুশফিকবাহিনীর সংগ্রহ ৪৩৩ রান। টেস্টে এটি বাংলাদেশের পঞ্চম সর্বোচ্চ রানের ইনিংস। ২০১৩ সালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে গলে সর্বোচ্চ ৬৩৮ রান করে মুশফিকবাহিনী। বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসের বিপরীতে ব্যাটিংয়ে নেমে জিম্বাবুয়ে দ্বিতীয় দিন শেষে ১ উইকেটে ৫৩ রান তুলেছে। ৩৮০ রানে পিছিয়ে থেকে বুধবার তৃতীয় দিন শুরু করবে সফরকারীরা। তামিম ৭৪ ও সাকিব ১৩ রানে দিন শুরু করে। দিনের শুরু থেকেই সাকিব ছিলেন আক্রমণাত্মক। সাকিব একের পর এক বাউন্ডারি হাঁকিয়ে প্রথম ঘণ্টায় অর্ধশতক তুলে নেন। অপরপ্রান্তে থাকা তামিম অপেক্ষায় ছিলেন ক্যারিয়ারের পঞ্চম শতক উদযাপনের। মঙ্গলবার দিনের দ্বিতীয় ঘণ্টায় শতক তুলে নেন তামিম।
নাতসাই সাঙ্গেওর বলে বাউন্ডারি হাঁকিয়ে শতকের স্বাদ পান ড্যাশিং ওপেনার। এই শতকটির জন্যে তামিমকে অপেক্ষা করতে হয়েছে ১ হাজার ৬১৪ দিন। ইনিংস হিসেবে ৩৩ ইনিংস পর শতক! শতকের পর ইনিংসটি বড় করতে পারেনি তামিম। মাসাকাদজার বলে পয়েন্টে ক্যাচ দেন। আউট হওয়ার অগে ৩৩২ বলে ১০ বাউন্ডারিতে ১০৯ রান করেন। সাকিবের সঙ্গে ১৩২ রানের জুটি গড়েন। যা চতুর্থ উইকেটে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে বাংলাদেশের রেকর্ড রানের জুটি। এর আগে ২০০৫ সালে জানুয়ারিতে চট্টগ্রামের মাটিতে হাবিবুল বাশার সুমন ও রাজিন সালেহ ১১৯ রান করেন। তার আগে ২০০১ সালে জিম্বাবুয়ের হারারেতে হাবিবুল বাশার ও মেহরাব হোসেন ১১৪ রান করেন।
তামিমের বিদায়ের পরও ব্যাট চালিয়ে যান সাকিব। ক্যারিয়ারের তৃতীয় সেঞ্চুরিও তুলে নেন দ্রুত। ইনিংসের ১৩৩তম ওভারে বল করতে আসেন পানিয়াঙ্গারা। প্রথম বলেই বাউন্ডারি হাঁকান সাকিব। বন্ধু তামিমের মতো জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে এটি তার প্রথম শতক। তবে ক্যারিয়ারের তৃতীয় শতকের জন্যে তাকে ১৯ ইনিংস অপেক্ষা করতে হলো। এর আগে ২০১১ সালের ডিসেম্বরে ঢাকায় পাকিস্তানের বিপক্ষে ১৪৪ রান করেন। এরপর আর তিন অঙ্কের ঘরে পৌঁছাতে পারেননি মাগুরা থেকে আসা এই তারকা। সেঞ্চুরির পর আরো আক্রমণাত্মক হয়ে উঠেন তিনি। ক্যারিয়ারের সর্বোচ্চ ১৫১ রানের ইনিংস ছাড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টাও ছিলেন তিনি। কিন্তু ধৈর্য ধরে থাকতে পারেননি। ১৩৭ রানে ওয়ালারের বলে বোল্ড হন দেশ সেরা এই অলরাউন্ডার। ১৮০ বলে ১৮ চার ও ২ ছক্কায় ১৩৭ রানের ইনিংসটি সাজান তিনি।
তামিম ও সাকিবের বিদায়ের পর কোনো ব্যাটম্যানই রানের চাকা সচল রাখতে পারেননি। লেট অর্ডারে তাইজুলের ৩২ রানের সুবাদে স্কোরবোর্ড সমৃদ্ধ করে বাংলাদেশ। শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে আউট হন জুবায়ের হোসেন। ৪৩৩ রানে শেষ হয় বাংলাদেশের ইনিংস। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে এটি বাংলাদেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান। ৪৮৮ রান করে চট্টগ্রামের মাটিতে ২০০৫ সালে। জিম্বাবুয়ের হয়ে পানিয়াঙ্গারা, চাতারা ও ওয়ালার ২টি করে উইকেট নেন। ১টি করে উইকেট নেন চিগাম্বুরা, মাদাকাজদা ও শাঙ্গাই। জবাবে প্রথম ইনিংসে ব্যাটিং করতে নেমে ১৭ রানে প্রথম উইকেট হারায় জিম্বাবুয়ে। তাইজুলের ঘূর্ণিতে সাজঘরে ফিরেন সিকান্দার রাজা (১১)। দিন শেষে তাদের সংগ্রহ ৫৩। ব্রায়ান চারি ২১ ও মাসাকাজদা ১৫ রানে ব্যাটিং করছেন।

![sakib]20141025155510](https://www.maguranews.com/wp-content/uploads/2014/10/sakib20141025155510.jpg)
