মাগুরানিউজ.কমঃ
শুক্রবার দিনের প্রথম বলে প্রথম স্লিপে ইউনিস খানের হাতে ‘এজ’ দিয়েও জীবন পান সাকিব অাল হাসান। ১৪ রানেই শেষ হতে পারতো তার ৩৮তম টেস্টের ৭৩তম ইনিংসটি। তবে এর ৫ বল পরেই ঝলসে উঠলো সাকিবের ব্যাট। নিখুঁত টাইমিংয়ের কাভার ড্রাইভে এলো প্রথম বাউন্ডারিটি। বুঝা গেল সাকিবের অাত্মবিশ্বাসের ব্যারোমিটারে পারদ এখন ঊর্ধ্বমুখী।
এরপর অার পেছনে তাকাননি সাকিব। তার ব্যাট যেন তখন হয়ে উঠে ক্ষুরধার তলোয়ার। পাকিস্তানি বোলারদের ‘অসহায় দশা’ উদ্ধত সাকিবের ব্যাটের সামনে, সে এক দারুণ দৃশ্য! ধৈর্য্য এবং অাগ্রাসনের সমন্বয়ে এক অনবদ্য দৃশ্যের অবতারণা করলেন বিশ্বের সেরা এই অলরাউন্ডার। উইকেটের চারদিকে ছুটিয়েছেন রানের ফুলঝুরি।
পাকিস্তানি পেসাররা শর্টপিচড্ ও বাউন্সার ছুঁড়েছেন তাকে। তাতেও অাত্মবিশ্বাসে চিড় ধরাতে পারেননি। ধীরে ধীরে অারও সৌন্দর্য্যময় হয়ে উঠেন সাকিব। ব্যক্তিগত ২৭ রানে চমৎকার ‘স্লগ সুইপ’ করে মিড উইকেটের ওপর দিয়ে ইয়াসির শাহকে হাঁকালেন বিশাল ছক্কা। পরে এই ইয়াসির শাহকেই অাবারও বেছে নিলেন। ইনিংসের ৪২তম ওভারে দুটি চার ও একটি ছক্কা, ব্যাকফুটে একটি চমৎকার ‘লেগ গ্ল্যান্স’ চোখের জন্য মনোহর। অর্জিত হলো টেস্টের ১৯তম অর্ধশতক।
পাকিস্তানি অধিনায়ক মিসবাহ উল হক ভাবলেন ”স্পিনে কাজ হচ্ছে না, সাকিবকে এবার দেই পেসের জ্বালা।” বাঁহাতি পেসার ওয়াহাব রিয়াজ গতিতে ভীতি সঞ্চার করাতে চাইলেন। ফল হলো উল্টো। পাঁচ বলে চারটি চারের মার। ৪৭ ওভারে অাবারও ওয়াহাব রিয়াজের বুক ভেঙে তিনটি বাউন্ডারি। এগুলোও ছিল পরপর।
সাকিব এক প্রান্তে একা খেলেছেন অন্য প্রান্তে তখন ব্যাট করছেন পেসার মো. শহীদ। বারবার তিনি শহীদকে বলছিলেন, ”তুমি ঠেকিয়ে যাও বাকিটা অামি দেখছি।” ১১ রান দূরে দাঁড়িয়ে দেখাচ্ছিলেন চতুর্থ টেস্ট সেঞ্চুরির স্বপ্ন। কিন্তু শহীদ পারলেন না। ইয়াসির শাহর লেগ স্পিনে বিদায় নিলেন। এ অবস্থায় কী ছিল তখন সাকিবের প্রতিক্রিয়া? চাপা দীর্ঘশ্বাস না একরাশ বিরক্তি। কাছে থাকলে হয়তো বুঝা যেত পরিস্কার চিত্র। তবে ড্রেসিংরুমে ফেরত যাওয়ার পদক্ষেপে ফুটে উঠেছিল হতাশাই!


