শ্রীপুরের কাজলী কলেজিয়েট স্কুলে অফিস সহায়ক নিয়োগে ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ

মহসিন মোল্যা, বিশেষ প্রতিবেদক-

শ্রীপুর উপজেলার কাজলী কলেজিয়েট স্কুলে অফিস সহায়ক পদে চাকরির জন্য ১২ লাখ টাকা ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে। নিয়োগের পর এলাকায় এমন অভিযোগের গুঞ্জন শোনা গেলেও এমন অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি।

বুধবার সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কাজলী কলেজিয়েট স্কুলে অফিস সহায়ক পদে আবুল কাশেম নামে এ ব্যক্তি চাকরি করতেন। এখনও ১০ বছরের উপর তার চাকরির মেয়াদ রয়েছে। ওই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ও পরিচালনা পর্ষদের সভাপতির যোগসাজেশে আবুল কাশেমকে প্ররোচিত করে চাকরি থেকে অব্যহতি করান। এবং সে পদে সুজন ইসলামকে চাকরি দেওয়া হয়। চাকরি ছাড়ার শর্তে আবুল কাশেমকে ৬ লাখ টাকা দেওয়ার কথা থাকে। আর বাকি ৬ লাখ টাকা নিজেদের মধ্যে ভাগবাটোয়ারা করে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এর আগেও বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আশরাফুল ইসলামের মাধ্যমে মোটা অঙ্কের অর্থ লেনদেনের বিনিময়ে চারজন কর্মচারী নিয়োগ দেন। অফিস সহায়ক পদে নিশান বিশ্বাস নামের এক ব্যক্তির কাছ থেকে ৭ লাখ, পরিচ্ছন্নতাকর্মী পদে জাহিদুল ইসলামের কাছ থেকে ৮ লাখ, নৈশপ্রহরী পদে ইব্রাহীম জোয়ারদারের কাছ থেকে ৮ লাখ এবং কম্পিউটার অপারেটর পদে হিটলার মণ্ডলের কাছ থেকে ১০ লাখ টাকা নেন। এ বিষয়ে জাতীয় দৈনিক প্রথম আলো, আজকের পত্রিকাসহ বেশ কয়েকটি পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হয়। এবং ঘুষ লেনদেনের বিষয়টিও প্রমাণিত হয়। কিন্তু প্রশাসন কোন ব্যবস্থা না নেওয়ায় গত শুক্রবার আবারো নিয়োগ বানিজ্য করলো একই ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ও বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি। এ বিষয়ে কথা বলার জন্য আবুল কাশেমের খোঁজ নিয়ে জানা যায় তিনি চাকরি থেকে অব্যহতি নেওয়ার পর থেকেই তিনি ও তার পরিবার এলাকা ছেড়েছেন। এখন কোথায় আছে কেউ জানে না।

ঘুষ লেনদেনের বিষয় অস্বীকার করে অফিস সহায়ক পদে নিয়োগপত্র সুজন ইসলাম বলেন, আমি নিজ যোগ্যতায় চাকরি পেয়েছি। কোনো ঘুষ দেইনি।

কাজলী কলেজিয়েট স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আশরাফুল ইসলাম বলেন, স্বচ্ছভাবে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে কি না নিয়োগ বোর্ড জানে। ১২ লাখ নিয়েছে, ১৩ লাখ নিয়েছে, না ২০ লাখ নিয়েছে তাও তারাই বলতে পারবেন। আমি নিয়োগ বোর্ডে ছিলাম কিন্তু কোন কিছুই জানি না। আর অফিস সহায়ক আবুল কাশেম চাকরি ছাড়বে কি, ছাড়বে না তাও তার নিজস্ব ব্যাপার।

অভিযোগ প্রসঙ্গে বিদ্যালয়ের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি শহিদুল ইসলাম বিশ্বাসকে বারবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কল ধরেননি।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আব্দুল গনি বলেন, আমি নিয়োগ বোর্ডে ছিলাম না। টাকা লেনদেনের অভিযোগের বিষয় আমি কিছুই জানি না।

নিয়োগ বোর্ডে ছিলেন ডিসির একজন প্রতিনিধি, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মহাপরিচালকের (ডিজি) একজন প্রতিনিধি, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও তিনি ছিলেন না।

কাগজে-কলমে নিয়োগ বোর্ডে মাউশির ডিজির প্রতিনিধি ছিলেন মাগুরা সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক প্রদীপ কুমার। তিনি বলেন, ৫ সদস্যের নিয়োগ বোর্ডে আমরা ৪ জন উপস্থিত ছিলাম। সবার সম্মিলিতভাবে প্রশ্নপত্র করা হয়েছিলো। টাকার বিনিময়ে নিয়োগ হয়েছে কি না আমার জানা নেই। তবে প্রশ্ন সবাই মিলে করলেও তাঁরা (ব্যবস্থাপনা কমিটি) কোনো প্রার্থীকে বিশেষ সুবিধা দিতে চাইলে দিতে পারেন।

April ২০২৬
Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
« Mar    
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০  

ফেসবুকে আমরা

বিভাগ

দিনপঞ্জিকা

April ২০২৬
Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
« Mar    
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০  
%d bloggers like this: