শালিখার হাটবাজারের বেহাল দশা

মাগুরানিউজ.কমঃ

pak20141103hfg185506 copy

মাগুরার শালিখা উপজেলা সদর আড়পাড়া হাটবাজার থেকে প্রতি বছর লাখ লাখ টাকা আদায় হলেও এখানে উন্নয়নের কোনো ছোয়া লাগেনি। এখানকার জনসাধারণ হাটবাজারের উন্নয়নের জন্য স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের লোকজনের কাছে উন্নয়নের জন্য বারবার ধরনা দিলেও কেউই এগিয়ে আসছে না বলে বাজারের ব্যবসায়ীরা অভিযোগে জানিয়েছেন। অথচ মাগুরা জেলার সর্বাধিক রাজস্ব আদায় হয়ে থাকে এই আড়পাড়াহাট বাজার থেকেই। আড়পাড়াহাট বাজারে সপ্তাহের দুদিন শনি ও বুধবার বড় হাট হয়ে থাকে। শনিবার গোহাট বসে। দুঃখের বিষয়, এই হাটে কোনো নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকায় দূর-দূরান্ত থেকে ব্যবসায়ীরা আসা বন্ধ করে দিয়েছে। শনিবার আড়পাড়াহাট বাজার ঘুরে এর বেহাল দশা চোখে পড়ে।

বাজারের মাছ ও চাল বিক্রির জন্য পাশপাশি দুটি সেড নির্মাণ করা আছে। এর একটিতে মাছ বিক্রি হলেও অন্যটিতে আছে একটা চায়ের দোকান ও একটা ডিমের আড়ত। চালের সেডের পাশে সরকারি গুদামের চারপাশে অবৈধভাবে চালা দিয়ে বসেছে দোকানপাট। তরিতরকারি ক্রয়-বিক্রয়ের জন্য সুনির্দিষ্ট জায়গা না থাকায় তারা ঢাকা খুলনা মহাসড়ক ও কালীগঞ্জ আড়পাড়া সড়কের ওপর দোকানপাট খুলে বসেছে। ফলে প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা এবং সৃষ্টি হচ্ছে যানজট। গত বছর এখানে নিয়ন্ত্রণ হারানো একটি গাড়ির চাপায় একজনের মৃত্যুও হয়। তরিতরকারি ও কাঁচামালের হাট সুনির্দিষ্ট স্থানে গড়ে তোলার জন্য প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের কারো কোনো মাথাব্যথা নেই বলে হাটে ক্রয়-বিক্রয়ের জন্য আসা ব্যবসায়ীরা মন্তব্য করেন।

গরু-ছাগল জবাই ও মাংস বিক্রির জন্য উপজেলা সদরের এই হাটে নেই কোনো কসাইখানা। ফলে কসাইরা আড়পাড়া মেইন বাসস্ট্যান্ডের পাশে গরু-ছাগল জবাই ও বিক্রি করে আসছে। জবাইকৃত গরু-ছাগলের রক্ত ও অন্যান্য পরিত্যক্ত অংশ পচে প্রচ- দুর্গন্ধের সৃষ্টি হয়ে পরিবেশ দূষিত হচ্ছে। মানুষ আক্রান্ত হচ্ছে বিভিন্ন রোগ-ব্যাধিতে। প্রতিদিনই হাজার হাজার লোক এই বাসস্ট্যান্ড দিয়ে চলাচলের সময় দুর্গন্ধের কারণে মুখে রুমাল চেপে যাওয়া আসা করে থাকে। রক্তাপচা অসহনীয় দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ হয়ে বাজারের ব্যবসায়ীরা ও স্থানীয় জনসাধারণ ইউএনও অফিসে অসংখ্যবার অভিযোগ করলেও কোনো ফল হয়নি বলে বাসস্ট্যান্ডের আশপাশের লোকজন জানান। আড়পাড়া বাজারে সপ্তাহে ২ দিনের মধ্যে শনিবার গোহাট বসে থাকে। আর এই গোহাটের কারণেই জেলার সবচেয়ে রাজস্ব এই হাট থেকে আয় হয়ে থাকে।

আড়পাড়াহাট বাজার প্রতিষ্ঠাকাল থেকে গোহাট আড়পাড়া আইডিয়াল হাইস্কুল মাঠে বসে আসছিল। এ জন্য ইজারা মূল্য ছাড়াও স্কুল কর্তৃপক্ষকে অতিরিক্ত অর্থ দিয়ে আসছিল ইজারাদাররা। কয়েক মাস আগে স্কুল কর্তৃপক্ষ মাঠে গোহাট বসতে না দেওয়ায় ইজারাদাররা ইউএনওর শরণাপন্ন হয়। পরে গোহাট স্থানান্তরিত করে বাজার থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে ফাঁকা জায়গায় আড়পাড়া-কালীগঞ্জ সড়ক সংলগ্ন গড়াপাড়া খালপাড়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের জায়গায় বসানো হয়। সেখানে গরু-ছাগল কেনাবেচা করতে আসা হাজার হাজার লোকের পানি পান করার জন্য নেই কোনো টিউবওয়েলের ব্যবস্থা।

এখানে কোনো গণশৌচাগার ও নামাজের জায়গা না থাকায় হাটে আসা অসংখ্য লোক হাটের ভেতরেই কোনোরকমে নামাজ আদায় করে থাকেন। গোহাট ঘুরে কথা হয় হাট ইজারাদার মুন্সী হোসেন আলী ও মো. শহিদুজ্জামান শহীদের সঙ্গে। তারা জানান, প্রতি গোহাটের দিন লাখ লাখ টাকার গরু-ছাগল কেনাবেচা হয়। কিন্তু এখানে কোনো ধরনের সরকারি নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেই। যে কারণে দূর-দূরন্ত থেকে ব্যবসায়ীরা আসতে ভয় পায়। এ ছাড়া হাটের বেহাল দশার কারণে কেনাবেচাও কমে গেছে। ফলে প্রতি বছর ৭-৮ লাখ টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে। আড়পাড়াহাটের এসব দুরবস্থা দেখেও প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিরা চোখ বন্ধ করে রেখেছেন বলে তারা জানান।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

November ২০২৬
Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
« Oct    
 ১
২৩৪৫৬৭৮
৯১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০  

ফেসবুকে আমরা

বিভাগ

দিনপঞ্জিকা

November ২০২৬
Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
« Oct    
 ১
২৩৪৫৬৭৮
৯১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০  
%d bloggers like this: