মাগুরানিউজ.কমঃ
রসখোর পাখিরা……….
——————
মানুষ রস খায়। খেজুরের রসের কথা বলছি। রস খায় শিয়াল, বাদুড়, মৌমছি, পিঁপড়ে, মাছিতেও। রস খায় পাখিতেও। সে এক অভাবনীয় দৃশ্য!
শীতের বিকেলে গাঁয়ের পথে মাঠে ঘুরতে বেরুবেন। সরষে ফুলের হলুদ দ্যুতি চোখ ধাঁধিয়ে দেবে আপনার। উত্তরের হিমেল বাতাস ছলকে ছলকে শীতের কামড় বসাবে আপনার শরীরে। অবশ্য গরম পোশাকে নিজেকে আবৃত করতে নিশ্চয়ই ভুলে যাননি আপনি। এরপর একটু মোঠো পথ ধরে হাঁটুন। রাস্তার দুইধার বুনো জংলার এখানে-সেখানে দেখবেন মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে খাপছাড়া কিছু খেজুর গাছ। ভাগ্য ভালো হলে আস্ত খেজুরবাগানও চোখে পড়তে পারে। নইলে ফসল খেতের মাঝে দেখবেন নিসঙ্গ খেজুরগাছ নীরবে তাঁর বেদনা জানাচ্ছে।
সন্ধ্যা তখনও নামেনি। তবে কিছুক্ষণ মাঠে থাকলেই দেখবেন কীভাবে শীতের শেষ বিকেলে ঝপ করে সন্ধ্যা নামে গাঁয়ের মাঠে।
নিঝুম সন্ধ্যায় পান্থ পাখিরা ঘরে ফিরছে। ঘর বলতে বাগান-আগান, বড় বড় গাছপালা। নীড় পাখিরা বাঁধে শুধু ডিম পাড়ার সময় হলে। তার আগে গাছের গাছের ডাল-পাতা, বাঁশবনের ঘন কঞ্চির আড়ালেই তাদের রাতের নিরাপদ আশ্রয়স্থল। ঘোরলাগা সন্ধ্যায় যদি কোনও বাঁশবাগানের পাশ দিয়ে হাঁটেন, হাজারো পাখির কলতানে কান ঝালাপালা হয়ে যাবে আপনার। সে-তো অনেক পরের কথা। শেষ বিকেলের সোনাঝরা রোদে আপনাকে একটা দৃশ্য বিভোর করে দেবে। পাখির রস খাওয়ার দৃশ্য।


