মাগুরানিউজ.কমঃ
শীত ও কুয়াশায় থমকে গেছে মাগুরার মানুষের জীবনযাত্রা। কয়েক দিন ধরে জেলার চার উপজেলায় প্রচণ্ড শীতের সঙ্গে পড়ছে বৃষ্টির মতো কুয়াশা। আজ শুক্রবার কুয়াশাচ্ছন্ন আকাশে দিনভর সূর্যের দেখা মেলেনি। সঙ্গে উত্তরের বাতাস শীতের তীব্রতা আরেক ধাপ বাড়িয়ে দিয়েছে। শীতে জবুথবু হয়ে পড়েছে মানুষ। শীতে বেশি কষ্ট পাচ্ছে হতদরিদ্র মানুষ। এ অবস্থায় বিপাকে পড়েছেন জেলার খেটে খাওয়া শ্রমজীবী লোকজন। কাজ না পেয়ে পরিবার-পরিজন নিয়ে অনাহারে, অর্ধাহারে দিন কাটাচ্ছেন তারা।
আবহাওয়া অফিস জানায়, আজ শুক্রবার জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
জেলা সদরের জামরুল তলায় সড়কের পাশে বসে আছেন বগিয়া গ্রামের দিনমজুর আজিজার হোসেন (৫০)। শুক্রবার ভরদুপুরে শীতে কাবু হয়ে তাকে বসে থাকতে দেখা গেছে। তিনি বলেন, ‘আজ ঠান্ডা বেশি লাগছে বাবা। কাজের আশায় বসে আছি সকাল থেকে। কাজ পাই নাই।’
একই কথা জানান ওই গ্রামের দিনমজুর মালেক মিয়া (৫৫)। তিনি বলেন, ‘আমরা ১০ জন মানুষ একসঙ্গে দিন মজুরির কাজ করি। আজি ঠান্ডায় কাজ পাই নাই। ধার-দেনা করি খাবার যোগাড় না করলে পরিবার পরিজন নিয়ে না খেয়ে থাকতে হবে।’
রামনগর গ্রামের ভ্যান চালক দুলু মিয়া বলেন, ‘এর মধ্যে পেটের দায়ে ভ্যান নিয়ে বের হইছি, রাস্তায় মানুষ নাই। দুপুর ২টা পর্যন্ত ৫০ টাকাও আয় করতে পারিনি।’
তাদের মতো বিপাকে পড়েছে জেলার প্রায় লক্ষাধিক খেটে খাওয়া মানুষ। শীতে কাজ করতে পারছে না মাঠে। এসব মানুষের ঘরে শীতবস্ত্রের পাশাপাশি রয়েছে খাদ্যের অভাব। অর্থাভাবে কিনতে পারছে না শীতবস্ত্র। অনেকে পুরাতন কাপড়ের দোকানে ঘোরা-ফেলা গেলেও দাম বেশি হওয়ায় কিনতে না পেরে ফিরে আসছেন। শুক্রবার শহরের পোস্ট অফিস এলাকায় পুরনো গরম কাপড়ের দোকানে হতদরিদ্র পরিবারসহ নিম্নবিত্ত মানুষের ভিড় ছিল লক্ষ্যণীয়।

সদরের নতুন বাজারে পুরাতন কাপড় কিনতে এসেছেন ভ্যানচালক আফসার আলী। তিনি বলেন, ‘আমার তিনটা ছেলের শীতের কাপড় দরকার। কিন্তু যে টাকা আছে তা দিয়া একটা ছেলের কাপড় কেনা যাবে।’ শীত বাড়ায় দোকানিরা বেশি দাম হাকাচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

জেলা সদর হাসপাতালে শীতজনিত রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। শীতে মানুষ শ্বাসকষ্ট, ডায়রিয়া, নিউমোনিয়াসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। গত দুই দিনে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়ায় আক্রান্ত শতাধিক শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। ঘন কুয়াশায় আলু ও সরিষাখেতে রোগবালাই দেখা দিয়েছে।
কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপপরিচালক মোখলেছুর রহমান বলেন, অতিরিক্ত কুয়াশা পড়লে আলু ও সরিষা গাছ রোগে আক্রান্ত হতে পারে।
মাগুরা জেলা প্রশাসক মুহ. মাহাবুবর রহমান বলেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে শীতার্ত মানুষের তালিকা তৈরির কাজ চলছে। তালিকার কাজ শেষ হলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে শীত বস্ত্রের চাহিদাপত্র পাঠানো হবে।


