মাগুরানিউজ.কমঃ
মাগুরায় মানুষের খাদ্য পরিনত হচ্ছে গবাদি পশুর খাদ্যে। কাঁচা সবজির আড়তে ব্যাপারীরা আসতে না পারায় সবজির দর পতন অব্যাহত রয়েছে ফলে আড়তে সবজির প্রচুর আমদানি থাকলেও ক্রেতার উপস্থিতি কম। এ কারণে চাষিরা ক্ষেতের সবজি তোলা বন্ধ করে দিয়েছে। মানুষের খাদ্য সবজি বর্তমানে গবাদি পশুর খাদ্যে পরিনত হয়েছে।
মাগুরা জেলার কাটাখালী, বাঁশকোটা, টেংগাখালী, লক্ষিকান্দর, কছুন্দী, রামনগর, মধুপর হাজরাতলা, কেষ্টপুর শিবরামপুর, আবালপুর, বাখেরা. কালীনগর. পারনান্দুয়ালী, ইছাখাদা, হাজরাপুর এলাকায় বিপুল পরিমান সবজি চাষ হয়ে থাকে।
চলমান অবরোধ কর্মসূচীতে দুশচিন্তায় পড়েছে জেলার সবজি চাষীরা। জেলার প্রায় ২০ হাজার কৃষক তাদের জীবিকা নির্বাহের জন্য সবজি চাষের উপর নির্ভরশীল। কিন্তু চলমান অবরোধের কারনে অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে তাদের জীবিকা।
মাগুরা কৃষি বিভাগ সুত্র মতে, চলতি মৌসুমে জেলার ৪টি উপজেলায় ৩ হাজার ৮শো ৭০ হেক্টর জমিতে সবজি আবাদ হয়েছে। যা থেকে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১লাখ ১৫ হাজার মেট্রিকটন সবজি।
মাগুরা থেকে প্রতিদিন ২০/২৫ ট্রাক সবজি ঢাকা, চট্রগ্রাম, সিলেট, বরিশালসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠানো হয়। স্বাভাবিক অবস্থায় তাদেরকে মাগুরা থেকে ঢাকায় সবজি পাঠাতে খরচ হয় ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা। কিন্তু অবরোধের কারনে উক্ত ভাড়া বেড়ে দাড়িয়েছে ৪০ হাজারে। পরিবহন ব্যায় যেমন বেড়েছে, তেমনি ঝুকি নিয়ে কোন গাড়ি যাচ্ছে না। ঝুকির কারণে কয়েকগুন পরিবহন ভাড়া বৃদ্ধি পাওয়ায় ব্যাপারীরা পড়েছে বিপাকে।
মাগুরা কাঁচা বাজারে সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, বাজারে সবজির আমদানি থাকলেও ক্রেতা শূন্য হয়ে পড়ে আছে সকল ধরনের সবজি। সবজি বিক্রি হচ্ছে নাম মাত্র মূল্যে।
মাগুরার লক্ষীকান্দর গ্রামের সবজি চাষী পরিমল জানান, বিঘা প্রতি জমিতে পাতা কপি চাষে ২০ হাজার টাকা ও ফুল কপি চাষে ৩০ হাজার টাকা খরচ হয়। সবজির দাম পড়ে যাওয়ায় বিঘাপ্রতি পাতা কপি বিক্রি হচ্ছে ১০ হাজার টাকা। এ দামে খরচের অর্থ উঠছেনা।
সদর উপজেলার বাঁশকোঠা গ্রামের সবজি চাষি রবিন বিশ্বাস জানান, দেশের চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতার জন্য ক্ষতি আমাদের মত দরিদ্র মানুষের। বিভিন্ন এনজিও থেকে লোনের মাধ্যমে আমরা চাষাবাদ করে থাকি। মৌসুমের মাঝামাঝি সময়ে সবজি বিক্রি করতে না পারলে সবজি চাষে কৃষকরা আগ্রহ হারিয়ে ফেলবে, সেই সাথে আগামীতে সবজি চাষ জেলায় কমে যাবে।

